এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > নির্বাচনী সাফল্য মিলতেই ‘বন্ধুত্ব’ আরও দৃঢ় হচ্ছে মুকুল-দিলীপের? আরও চাপে বাড়ল তৃণমূলের?

নির্বাচনী সাফল্য মিলতেই ‘বন্ধুত্ব’ আরও দৃঢ় হচ্ছে মুকুল-দিলীপের? আরও চাপে বাড়ল তৃণমূলের?

তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েই প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে মুকুল রায় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তাঁর ‘ক্যাপ্টেন’ অমিত শাহ আর বাংলায় তাঁর ‘ক্যাপ্টেন’ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কিন্তু গেরুয়া শিবিরের অন্দরেই জল্পনা ছড়ায়, সুখের সেই ছবিটা খুব বেশিদিন স্থায়ী হয় নি! বারেবারেই মুকুল রায় ও দিলীপ ঘোষের দ্বন্দ্ব চর্চিত বিষয় হয়েছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। মুকুল-পন্থীদের স্পষ্ট অভিযোগ ছিল, তাঁরা শুধুমাত্র মুকুল রায়ের অনুগামী বলেই নাকি, তাঁদের পার্টিতে সেইভাবে কাজই করতে দেওয়া হচ্ছে না!

এমনকি, মুকুল রায়ের অনুগামীদের বক্তব্য, শাসকদলের নেতা-কর্মীরা মুকুল রায়কে উঠতে-বসতে এতদিন যে ‘চাটনিবাবু’ বা ‘চাটনিদাদু’ বলে অপমান করত – সেই ‘চাটনি’ শব্দের স্রষ্টা তো আসলে দিলীপ ঘোষই! তিনিই মুকুল রায়ের বিজেপিতে যোগদান নিশ্চিত হয়ে যেতে সংবাদমাধ্যমের সামনে আগে বাড়িয়ে মুকুল রায়ের বিজেপি যোগকে ‘চাটনি’ বলে কটাক্ষ করেন! আর সেই জায়গা থেকেই মুকুল রায়কে পদে-পদে অপমানিত হতে হয়েছে শাসকদলের কাছে। এমনকি, একসময় এ অভিযোগও ওঠে যে বিজেপির অন্দরে দিলীপ ঘোষ গোষ্ঠীর ‘ওয়ান পয়েন্ট অ্যাজেন্ডা’ তৃণমূলকে হারানো নয়, বরং মুকুল-অনুগামীদের আটকানো!

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

এমনকি, বারেবারেই খবরের শিরোনামে উঠে আসতে থাকে মুকুল রায়-দিলীপ ঘোষের মতপার্থক্যের ছবি! বারেবারেই দিলীপ ঘোষ প্রকাশ্যে মুকুল রায়ের উপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, এমনকি লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা নিয়ে দুজনের মতভেদের ছবিও সামনে এসেছে। কিন্তু, সেইসব মান-অভিমানের পালা বা মতপার্থক্যের ছবি আপাতত অতীত! বাংলায় লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির তুমুল সাফল্য কি এবার দুই নেতাকে কাছাকাছি নিয়ে আসছে? জল্পনাটা বাড়ছে কারণ দিলীপবাবু মন্তব্য করেছেন, মুকুলবাবু দলে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই রাজ্য বিজেপি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। তার জন্য বাহবা প্রাপ্য রাস্তায় নেমে লড়াই করা কর্মীদের, দলের জন্য যাঁদের প্রাণ গিয়েছে।

একইসঙ্গে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ একবাক্যে মেনে নিচ্ছেন, এবারের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির সাফল্যের পিছনে মুকুলবাবুর অঙ্কও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। বিজেপি নেতা-কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি মুকুল রায়ের মস্তিস্ক যে বড় ফ্যাক্টর তা প্রকাশ্যেই মেনে নিচ্ছেন দিলীপবাবু। ফলে, জল্পনা বাড়ছে যে, দিলীপ ঘোষ বিধায়ক থেকে সাংসদ হলেন, হয়তবা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্ত্বও জুট যেতে পারে। ফলে, আর বিরোধ নয়, এবার সময় ‘বন্ধুত্ত্ব’ আরও দৃঢ় করার – এই বার্তায় কি দিতে চাইলেন দিলীপবাবু?

ওর এরফলেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মুকুল রায়-দিলীপ ঘোষ বন্ধুত্ত্ব যদি দৃঢ় হয়, তাহলে কিন্তু ঘুম উড়তে চলেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের। কেননা, এতদিন দিলীপ ঘোষ গোষ্ঠী কাজ করার সুযোগ দিচ্ছেন না এই অভিযোগে তৃণমূল থেকে আসা বহু মুকুল পন্থী বিজেপিতে যোগ দিয়েও হাত গুটিয়ে বসে ছিলেন, তাতেই বাংলায় ১৮ আসন। এবার, তাঁরা যদি কাজ করার সুযোগ পান, তাহলে সেই সংখ্যাটা আরও বাড়বে বই কমবে না। কেননা, এই প্রক্তন তৃণমূলী নেতারা কিন্তু নিজের হাতে নির্বাচনটা করে এসেছেন, ফলে শাসকদল কোন পথে কোন আসনে কিভাবে ‘ভোটটা করায়’, তা কিন্তু এদের নখদর্পনে। আর তা আগাম জেনে তার অ্যান্টিডোট নিয়েই এবার মাঠে নামবে গেরুয়া শিবির।

Top
error: Content is protected !!