এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মুকুল রায়ের ‘ডানা’ ছাঁটা হচ্ছে বিজেপিতে? কি বলছে গেরুয়া শিবির?

মুকুল রায়ের ‘ডানা’ ছাঁটা হচ্ছে বিজেপিতে? কি বলছে গেরুয়া শিবির?

দিন কয়েক ধরেই বাংলার বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে এমন সব খবর যার সারমর্ম দাঁড়ায়, মুকুল রায়ের বেশ কিছু ‘কার্যকলাপে’ ক্ষুব্ধ রাজ্য বিজেপি। আর তাই তাঁর ডানা ছাঁটা হচ্ছে। আর এই ধরনের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে রীতিমত ফোনের বন্যা মুকুল-অনুগামীদের। ফলে, আমরা গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে ঢুঁ মেরে সত্যিটা জানার চেষ্টা করি। গেরুয়া শিবিরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে কথা বলে উঠে আসছে বিভিন্ন দিক –

মুকুল রায়ের ‘ডানা ছাঁটা’ বলে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা মূলত রাজ্য বিজেপির এক নির্দেশিকা ঘিরে। যে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গেরুয়া শিবিরে যোগদান এবার আর রাজ্যের বাইরে (পড়ুন দিল্লিতে) নয়, হবে কলকাতার রাজ্য সদর দপ্তরে। আর মুকুলবাবুও এর পরিপ্রেক্ষিতে জানিয়েছেন, রাজ্য বিজেপির এই নির্দেশিকা মানতে তাঁর কোনো অসুবিধা নেই। আর তারফলেই, অনেকেই দুয়ে দুয়ে চার করে নিয়েছেন।

গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলের বক্তব্য, এই নির্দেশিকার সঙ্গে মুকুল রায়ের ‘ডানা ছাঁটার’ কোনো সম্পর্কই নাকি নেই! তাঁদের বক্তব্য, বিজেপি কোনো আঞ্চলিক দল নয়, একটা সর্বভারতীয় দল। সুতরাং সেই দলে যোগদান যদি দলের সর্বভারতীয় সদর দপ্তরে হয় – তাতে সমস্যার কিছু নেই। শুধু বাংলা কেন, অন্যান্য রাজ্যের হেভিওয়েটদের বিজেপিতে যোগদানও দিল্লিতেই হয়। এমনকি, দিল্লিতে হওয়া এরকম বেশ কিছু যোগদানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

কিন্তু বর্তমানে দিল্লির বদলে বাংলায় যোগদানের নির্দেশিকার অন্যতম কারণ, বিজেপির এক প্রধান বিরোধী দল, নিজেদের দলের জনপ্রতিনিধিদের রাজ্যের বাইরে যাওয়া নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি করেছে। মনে করা হচ্ছে, ওই দলের নেতারা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য দিল্লির দিকে রওনা হওয়ার আগেই তাঁদের ‘আটকানোর’ জন্য ওই পদক্ষেপ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট দলটি। তাই এক্ষেত্রে, কলকাতায় যদি বিজেপি যোগদানের ব্যবস্থা করে – তাহলে রাজ্যের বাইরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট দলের নেতা-নেত্রীদের আর বিজেপিতে যোগ দিতে হবে না।

অন্যদিকে, সম্প্রতি মুকুলবাবুর হাত ধরে বিজেপিতে আসা বেশ কিছু নেতাদের নিয়ে হয়েছে বিতর্ক। অনেকে আবার অন্যদল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েই ফিরে গেছেন নিজের পুরোনো দলে। দু ক্ষেত্রেই নাকি ‘মুখ পুড়েছে’ বিজেপির! আর তাই মুকুলবাবুর উপর ‘রুষ্ট’ রাজ্য বিজেপি এবং তাঁর এই ‘যাঁকে-তাঁকে’ বিজেপিতে যোগদান করানো আটকাতেই নাকি বিজেপি এহেন নির্দেশিকা জারি করেছে। এই বিষয়েও বিশদে খোঁজখবর নিয়ে উঠে আসছে অন্য তথ্য।

গেরুয়া শিবিরের একটি অংশ জানাচ্ছে, মুকুলবাবুকে বিজেপিতে নেওয়া হয়েছিল তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে বাংলায় বিজেপির সংগঠন বাড়াতে। আর মুকুলবাবুর ‘স্পেশালিটি’ হল অন্যদলের নেতানেত্রীদের সঙ্গে অত্যন্ত সুসম্পর্ক বজায় রাখা। ফলে, দলবদলের ক্ষেত্রে তা খুব ভালো ভাবে কাজে লাগে, আর তাতে তো সম্পূর্ণ সায় আছে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। তা যদি না থাকতো তাহলে কি বিজেপির দিল্লির সদর দপ্তরে এই যোগদান কর্মসূচি থাকতে পারত?

সবথেকে বড় কথা, গেরুয়া শিবিরের এক প্রভাবশালী অংশ জানাচ্ছে, মুকুলবাবু বর্তমানে দিল্লিতে আছেন। আর তিনি গেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জরুরি তলব পেয়েই। রাজ্য বিজেপিতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, দলে হতে চলেছে বড়সড় সাংগঠনিক পরিবর্তন। সেখানে, পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপনির্বাচন হয়ে লোকসভা নির্বাচনে মুকুলবাবুর পারফরম্যান্সে যারপরনাই খুশি কেন্দ্রী নেতৃত্ব। ফলে, গেরুয়া শিবিরের ওই অংশের বক্তব্য, ক্লাসের ‘বেস্ট পারফর্মিং স্টুডেন্টের’ কেউ ডানা ছাঁটে নাকি তাঁকে পুরস্কৃত করে? সঠিক উত্তরের জন্য বোধহয় আগামী কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

Top
error: Content is protected !!