এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > ক্রমশ বাড়ছে হতাশা! মুকুল-অনুগামীরা কি এবার তৃণমূল বা কংগ্রেসের পথে?

ক্রমশ বাড়ছে হতাশা! মুকুল-অনুগামীরা কি এবার তৃণমূল বা কংগ্রেসের পথে?

গতবছরের দুর্গাপুজোর পরপরের সময় – চারিদিকে তখন শিউলি ফুলের আবেশ। এর মাঝেই তৃণমূল কংগ্রেসে বিসর্জনের বাজনা বেজে গেল একদা দলের অঘোষিত দুনম্বর নেতা মুকুল রায়ের। দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ মুকুল রায়, দলের কোপটা নেমে আসার আগেই নিজেই সাংবাদিক বৈঠক ডেকে জানিয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করার সরকারি ঘোষণা।

১১ ই অক্টোবর এই ঘোষণা করার পরের প্রায় একটা মাস তাঁর অনুগামীদের মাধ্যমে একাধিক খবর আসতে শুরু করল। কখনো শোনা গেল তিনি নতুন দল খুলছেন এরাজ্যের সংখ্যালঘু সমীকরণের কথা মাথায় রেখে, যে দলটি বিজেপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় যাবে ভবিষ্যতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতায়। কখনো শোনা গেল, তাঁর দলত্যাগের পর তাঁর অনুগামীদের যে পরিমান রাজনৈতিক ‘প্রতিহিংসার’ শিকার হতে হবে তা বিবেচনা করেই তিনি গেরুয়া শিবিরে যেতে মনস্থ করেছেন।

অবশেষে, ৩ রা নভেম্বর সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুকুল রায় দিল্লিতে যোগ দিলেন গেরুয়া শিবিরে। আর তারপরে কলকাতায় পা রাখতেই জনস্রোতে প্রায় ভাসতে ভাসতে এসে হাজির হলেন বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে। তার আগেই তাঁর নামের সঙ্গে ‘চাটনি’ জুড়ে দেওয়া দিলীপ ঘোষকে পাশে বসিয়ে দুঁদে রাজনীতিকের মতোই জানিয়ে দিলেন তিনিই বাংলায় মুকুল রায়ের ‘ক্যাপ্টেন’। বেশ একটা ‘মধুরেণ সমাপয়েৎ’ গোছের ব্যাপার।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

 এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কিন্তু রাজনীতি অতি জটিল খেলা – এরপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়ানোর মতোই বঙ্গ-বিজেপির অভ্যন্তরীণ অনেক সমীকরণই বদলাতে শুরু করল। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই – কিন্তু অন্দরমহলে কান পাতলেই শোনা যায় সেসব ‘মুখরোচক’ গল্প – যদিও তা বাইরে প্রকাশ করার অনুমতি নেই, নেই কোনো প্রামাণ্য তথ্যও, তাই ছাপার অক্ষরে সবটা বেরোনো সম্ভব নয়। যাইহোক, অনেক সমীকরণ বদলালেও একটি জিনিসের বদল ঘটল না – আর তা হল মুকুল রায়ের একজন ‘সাধারণ বিজেপি কর্মী’ হিসাবে থেকে যাওয়া।

এক-একবার শোনা যায় এক-এক নতুন আশার কথা। কখনো রাজ্যসভার সাংসদ করে কেন্দ্রে মন্ত্রীত্ত্ব, কখনো রাজ্য সভাপতি, কখনো অন্য কোন ঘনিষ্ঠ নেতাকে সভাপতি পদে বসিয়ে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক, কখনো কেন্দ্রীয় সম্পাদক – কিন্তু বাস্তবে কোনোটাই হয় না। এমনকি চার-চারজন রাষ্ট্রপতি মনোনীত রাজ্যসভার সাংসদের তালিকাতেও তাঁর নাম এলো না। আর এই নিয়েই তাঁর অনুগামীদের মধ্যে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত হতাশা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এইরকম কিছু নেতার কথায়, দাদার মত নেতা বিজেপিতে এসে এতদিনেও পদ পাচ্ছেন না। অথচ যখন তৃণমূল ছেড়েছিলেন তখনও তিনি দলটার সহ-সভাপতি। আমরা বিজেপিতে এসেছিলাম ‘কাজ’ করতে পারব বলে – কিন্তু সেটাই তো হচ্ছে না। সবথেকে বড়কথা, যখন আমরা ‘যোগ্য’ লোকেদের বলতে যাচ্ছি এদিকে আসার কথা – একটাই প্রশ্ন করছে, দাদা এখনো পদ পেল না! তোমরাই বা কি পেয়েছো? তাহলে আমরা গিয়েই বা কি পাব? আর তাহলে কেন যাব?

ফলে চরম হতাশা ধীরে ধীরে গ্রাস করছে এইসব অনেক মুকুল রায় অনুগামীকেই। আর তাই এঁদের অনেকেই ‘ঘরের ছেলে ঘরে’ ফেরার মত গুটি গুটি পা বাড়াচ্ছেন শাসকদলের দিকে। অনেকেই হয়ত ২১ শে জুলাইয়ের মঞ্চেই আবার ঘাসফুলে ফিরে যাবেন। আর যাঁরা অনেক অভিমান নিয়ে তৃণমূল ছেড়েছিলেন এবং কোনো পরিস্থিতিতেই আর শাসকদলে ফেরত যাবেন না বলে পণ করেছেন – তাঁদের অনেকের মনেই আবার কংগ্রেসে চলে যাবার চিন্তা। তাঁদের কথা, বাংলায় কংগ্রেসের এখন কিছুটা দুঃসময় চলছে, কিন্তু দলটা তো জাতীয় দল। আর তাই ওখানে গিয়ে যদি ‘কাজ’ করার সুযোগ পাই – তাহলে কিন্তু ধীরে ধীরে দলটাকে রাজ্যে ঘুরে দাঁড় করাতে পারবোই। কিন্তু এখানে থেকে আর কিছু আশা করা যাচ্ছে না – আর ধৈর্য্য রাখা যাচ্ছে না। সবমিলিয়ে মুকুল রায়ের অনুগামীদের হতাশায় হাসি ফুটছে রাজ্যের দুই ডানপন্থী দলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!