এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > মৃণালিনীর প্রেম -(লাভ স্টোরি)- কলমে অপরাজিতা – পর্ব ৪

মৃণালিনীর প্রেম -(লাভ স্টোরি)- কলমে অপরাজিতা – পর্ব ৪

এই চল বর এসে গেছে ছুটলো সবাই। ওর বন্ধুরাও ছুটেছে ওই ছেলেটাও আসবে বল? এত গায়ে পড়ার কি আছে বোঝে না মৃণালিনী। আর অভির উপর হামলাবে তাতে ওর কি ? তবুও রাগ হচ্ছে মৃণালিনীর – কারণ কি জানে না।

যাই হোক, বর এসেছে সবার পাশাপাশি সেও গেলো দেখতে। কিন্তু কোথায় সে? আসেনি? উমম, আসবে না আবার? পিছনের আছে বোধ হয় ?বন্ধুদের পাশাপাশি ওর চোখও খুঁজছে অভিকে। কিন্তু না প্রকাশ করবে না।আর না এলেই বা কি ? বরকে নিয়ে পড়লো মৃণালিনী। বর বরআসরে গেলো, বসলো,না তবুও দেখা নেই।বরের সঙ্গে পরিচয় হলো অন্যদের। বন্ধুদের সাথেও পরিচয় করিয়ে দিলো মৃণালিনী। কিন্তু এখনো দেখা নেই কেন? যা বাব্বা আসেনি নাকি? জিজ্ঞাসা করবে? না বাবা যদি বিভাসদা এটা নিয়ে অন্য কিছু ভাবে? যদি বলে দেয় অভিকে থাক দরকার নেই? কিন্তু ওর বন্ধুরা ওকে সুযোগ করে দিলো। কানে কানে অনিন্দিতা বললো – এই জিজ্ঞাসা কর না কোথায় ছেলেটা ?

মৃণালিনী একটি বিরক্ত হবার ভান করে বললো – ছাড় তো, যত্তসব , যেন ঘুম হচ্ছে না।

বিভাসদা – কি হলো?

মৃণালিনী – আমার বন্ধুরা জিজ্ঞাসা করছে তোমার সোনার টুকরো ভাই কোথায়?

বিভাসদা – ওই তো সবকটা ?এই এদিকে যায়, আমার শ্যালিকাকে সাথে আলাপ করে,

মৃণালিনী – ওরা নয়, সকালে যে এসেছিলো? কি যেন একটা নাম বলেছিলো।

বিভাস – ও অভি? আসছে আসছে। ওদের গাড়িটা খারাপ হয়ে গেছে। অন্য গাড়ি পাঠানো হয়েছে আসছে ।

মৃণালিনী – ও তাই? এ বাবা! কোথায় আছে যারা আসছিলো ?( না জানতো না মৃণালিনী )

বিভাস – এই তো ওই ব্যাংকের মুখেই।

মৃণালিনী – ও এখানেই ? বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে নে হয়েছে এবার ?

বিভাসদা তার বাকি ভাই বোনেদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। এবার একটা গাড়ি ঢুকলো।

এসেছে বাকিরা তার সাথে বহু প্রতীক্ষিত অভি। অভি বরের কাছে আসতেই আড়চোখে দেখে নিয়েছে মৃণালিনী। বন্ধুরা হ্যাঁ করে তাকিয়ে আছে অভির দিকে।

বিভাস – আয় ভাই, তোর এখানে এত ডিমান্ড! সবাই খুঁজছে ?

অভি বসে – কি? কে কুঝ্ছে আমাকে আবার ?বলে মৃণালিনীর দিকে তাকালো

মৃণালিনী – আমার দিকে তাকানোর কিছু নেই, আমি নয়,ওরা !

অভি এবার দেখলো তিন চারটে মেয়ে, বেশ দেখতে , একটা মেয়ে বেশ সুন্দরী,চোখ টানে। তারা অভিকে হয়, হ্যালো , আমি অমুক, তমুক মৃণালিনীর বন্ধু হয়. আপনার পিকচার দেখলাম। আপনি বাইরে থাকেন? একগাদা প্রশ্ন ওয়াটার চলছে। রাগ হচ্ছে মৃণালিনীর – যা ভেবেছিলো তাই, এত ওদের গায়ে পড়ার কি আছে, আর অভিরই এত আদিক্ষেতা করার কি আছে? যাকগে।

অভি জানতে পারলো কথা থেকে মৃণালিনীর বান্ধবীরা তার খোঁজ পেয়েছে, তারা মৃণালিনীরক্ত বন্ধু এই সব। অভি পালতে চাইলেও ছাড়তেই চাইছে না ওরা। একজনতো বলেই দিলো – আমাদেরকে ভালো লাগছে না নাকি?
খালি পালাই পালাই করছেন?
অভি কোনোমতে হবু বৌদির সাথে দেখা করে আসি বলে পালিয়েছে। মৃণালিনী অনেকক্ষন চলে এসেছে বর আসর থেকে। বন্ধুদের আর অভির আদিক্ষেতা সহ্য হচ্ছিলো না। দিদির কাছে এসে ফটো তুলছিলো।

অভি কনের কাছে এলো, বৌদিকে বোলো – ব্যাপক লাগছে। দাদা এখানেই জ্ঞান হারাবে তো?বিয়ে হবে কি করে? একটু লজ্জা পেয়ে হাসলো নতুন কনে। এবার চোখ পড়লো মৃণালিনীর দিকে। সে মোবাইল নিয়ে সেলফি তুলে যাচ্ছে। এত পিকচার নিয়ে করে কি ? প্রশ্ন উঠে অভির মনে।

ইসশ এবেলা মুখে এত এত ময়দা মেখেছে, এতক্ষন খেয়াল করেনি, কনের কাছে প্রচুর আলো, সব পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। ও কি পাগল? তবে ভালো লেগেছে যে গায়ে পড়া নয়। ওর বাকি বন্ধুরা যা করছে অভির রীতিমতো বিরক্ত লাগছে। ইয়ার্কি একটা লিমিট পর্যন্ত ভালো ,কিন্তু কোথায় যেন বেশি হয়ে যাচ্ছে। যাই হোক তারা এখন এদিকে নেই সুতরাং এখানে বসে যায়। ওই তো বুকুড়ানি। বুকুও দেখতে পেয়েছে ,চলে এসেছে অভির কাছে।

খুব সুন্দর করে সেজেছে, একটা লাল ঘাগড়া পড়েছে। লাল চুরি , একটা লাল হার, আর এতবড় একটা টিপ্।

অভি – কে সাজালো ?

বুকু- মিলি

অভি – কে?

বুকু – মিলি

অভি আস্তে আস্তে বললো ভাগ্যিস বুকু বাচ্চা সাজাবার সময় সেটা মনে ছিল ।

 

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

হাত বাধা, জুতো লুকানো সব করার কথা ,বাধা দেওয়া হবে না এটাই কথা ছিল কিন্তু মৃণালিণীরা হাত বাঁধতে যাবার জন্য এগোতেই বাকি ভায়েরা বিভাসদাকে ঘিরে ধরলো। হাত বাঁধতে দেবে না। বরের জুতো লুকিয়ে রেখেছে ব্যাটারা। খুঁজে পায়নি মৃণালিনী। কিন্তু বের করবেই সে।

মৃণালিনী – বিভাসদা কি হচ্ছে এগুলো? কি কথা ছিল তোমার সাথে? তোমার ভাইয়েরা এমন করছে কেন?

বিভাস – আমার কিছু করার নেই।

মৃণালিনী – ওকে, তাহলে বসে থাকো ,আগে হাতবাঁধা তারপর বিয়ে। হাত বাঁধতে না দিলে বিয়ে হবে না।

বিভাস- ভাই ছাড় না।
না ছাড়া হবে না – জানালো বাকি ভাইয়েরা।

মৃণালিনী এবার চলে গেলো, সন্দেহ হয়েছে অভির, জুতো নিতে যায়নি তো ?

অভি গাড়ির কাছে গিয়ে দেখলো হুম , যা ভেবেছে ঠিক, ওই হট্টগোলের মাঝে গাড়ির ড্রাইভারকে বলছে বরের একটা জিনিস গাড়িতে আছে , ভুলে গেছে নিতে গাড়ি খোলো।

ড্রাইভার এত কিছু জানে না। গাড়ির দরজা খুলতে বাজাচ্ছিল , অভি দরজা ঘেসে দাঁড়িয়ে বললো – দরজা খোলা যাবে না।

মৃণালিনী – কেন?

অভি – গাড়িতে দাদার কিছু নেই।

মৃণালিনী – এই শোনো, একেবারে মাঝখানে আসবে না বলে দিচ্ছি। সরে যাও।

অভি – উমম , হুমকি দিয়ে কাজ হবে না।

মৃণালিনী – ওই দিকে ছুটলো , ওদিকের দরজা খুলে জুতো বের করে নিয়েছে অভি দেখতে দেখতে। আটকাতে চাইলেও পারেনি।

জুতো নিয়েই ছুটেছে মৃণালিনী। সোজা বাড়ির দোতলা পার হয়ে তিনতলায় যেখানে গাদা গাদা গদি রাখা আছে তার মাঝে লুকিয়ে রাখবে। টাকা না দিলে নো জুতো।

উমম, অভি মৃণালিনীকে ধরবে, পিছু নিয়েছিল এ ঘর সে ঘর ঘুরে, ঘোল খাইয়ে এখানে পালিয়ে এসেছে। জুতো রেখে ঘুরতেই দেখলো অভি দাঁড়িয়ে পিছনে, দেখেছে সব কোথায় জুতো রাখছে।

মৃণালিনী জুতো বের করতে যাবে অভি মৃণালিনীর হাতটা ধরে জুতোটা নিতে গেলো, কিন্তু পারলো না, মৃণালিনীকে ধরা এত সহজ নয়। সে হাত কামড়ে দিয়ে পালালো। হাতটা জোরেই কামড়েছে। হাত ধরছে অভি। না আর তো ছাড়াই যাবে না রীতিমতো প্রেস্টিজ ইস্যু।

 

ঐদিকের ঘরে ঢুকেছে মনে হচ্ছে। ঘরে গিয়ে দেখলো সে দরজার আড়ালে লুকিয়ে আছে। সে মনে করছে তাকে দেখা যাচ্ছে না কিন্তু তাকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আলমারির কাঁচে। গিয়ে দরজাটা সরিয়ে একেবারে সামনে দাঁড়ালো অভি।

মৃণালিনী চেষ্টা করলেও পালতে পারবে না আর – বললো – দেখো এমন করছো কেন? এটা করতে হয়, তাহলে যাদের বিয়ে হচ্ছে তারা সুখী হয়।

অভি – কি জুতো চুরি করলে বিয়ে সুখের হয় ? আর কিছু ?

মৃণালিনী – হয়, বাস্তু বলে একটা ব্যাপার আছে।

অভি – জুতোর সাথে বাস্তু

এবার মৃণালিনী দরজার দিকে তাকিয়ে একটু মুখটা কাঁচা মাচু করে – মেজোমা!

অভি তাকাতেই ওকে ঠেলে সরিয়ে ফের ছুটে দিলো। অভিও ছুটেছে তিনতলা ছাড়িয়ে দোতলা দোতলা ছাড়িয়ে এবার বাড়ির দালানের দিকে আসতেই সামনে বাবা। পিছনে অভিও ওর পিছনেই এসে থমকালো।

বাবা কড়া চোখে তাকাতেই জুতোটা দেখিয়ে মাথা নিচু করে – জুতো লুকাচ্ছিলাম,

বাবা সাড়া দিলো না, কড়া চোখে তাকিয়ে বললেন – জুতো লোকানোর অনেক লোক আহে ,তুমি বাইরে যাও।

জুতো অভির হাতে ধরিয়ে দিয়ে ভালো মেয়ের মতো যেখানে হাতবাঁধা হচ্ছে সেখানে গিয়ে দাঁড়ালো। এবার সব রাগ ফের গিয়ে পড়লো অভির উপরে। বেশ জুতো লুকিয়ে হিরো সাজতো কিন্তু ফের এই ছেলেটা সব ভেস্তে দিলো।

তারপর থেকেই বাবা চোখে চোখে রাখছে। ওই ছেলেটাকে আর মৃণালিনীকে। যদি কাল দিদির সাথে দিদিকে রাখতে ওদের বাড়ি যেতে না দে বাবা ?
তাহলে এই ছেলেটাকে মেরেই ফেলবে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!