এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > পরিবারের লড়াই না চেয়ে মৌসম এবার দাদা মামাকে তৃণমূলে চান মৌসম

পরিবারের লড়াই না চেয়ে মৌসম এবার দাদা মামাকে তৃণমূলে চান মৌসম

দলকে অস্বস্তিতে ফেলে লোকসভার ঠিক মুখেই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন উত্তর মালদার সাংসদ মৌসম নূর। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর যিনি সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন সেই মানুষটিকে এবার তৃণমূলের দলে নাম লেখাতে দেখে স্বাভাবিকভাবেই চক্ষু চড়ক গাছ রাজনৈতিকমহলের।

অবশ্য মৌসম দিন কয়েক আগেই বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলের হাত ধরার পক্ষে সওয়াল তুলেছিলেন। তবে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তৃণমূলের সঙ্গে আসন সমঝোতায় বরাবরঔ আপত্তি জানিয়ে এসেছেন। এবার আর আসন সমঝোতা নয়,সরাসরিই সেই দলে গিয়ে ভীড়লেন মৌসম।

দল বদলের পর জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখাও করে এসেছেন মৌসম বেনজির নূর। তবে লোকসভা ভোটের মুখে কংগ্রেসের সংগঠনকে দূর্বল করে দিয়ে কেন তিনি দলবদল করলেন? এ প্রশ্ন নিয়ে এখনো সরগরম রাজ্য রাজনৈতিকমহল।

উত্তর মালদা কেন্দ্রে নাকি দাদার মুখোমুখি হতে চাইছিলেন না তিনি। তাই অত্যন্ত দ্বিধায় পড়ে কংগ্রেস ছাড়তে হয়েছে মৌসমকে।একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটা সাক্ষাৎকারে সেকথাই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন,আসন্ন লোকসভা ভোটে ওই কেন্দ্রে তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই না করার জন্য দাদা এবং মামাকে বোঝাবেন।

লোকসভা ভোটের মুখে এভাবে একজন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রাজনীতিকের কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে আসায় তৃণমূলের সংগঠন আরো শক্তিশালী হল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। নতুন দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মৌসম বলে আসছেন যে বিজেপিকে রুখতে এবং মালদার উন্নয়নের স্বার্থে তিনি তৃণমূলে এসেছেন। এমনকি তাঁর দাদা ঈশা খান এবং কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরীকে তৃণমূলে আসার অনুরোধ করেছিলেন তিনি।

এই প্রেক্ষিতে আবু হাসেম খান চৌধুরী অর্থাৎ ডালু বাবু প্রশ্ন করেছিলেন,”যখন গোটা দেশে BJP-র বিরুদ্ধে লড়াই সংগঠিত করছে কংগ্রেস, তখন সেই দল ছেড়ে অন্য দলে যাওয়া মৌসমের রাজনৈতিক অপরিপক্কতার পরিচয়।” গতকাল সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সে প্রশ্নের জবাব দিলেন তিনি।

মৌসম জানান,উত্তর মালদা দখলে নেওয়ার টার্গেট ফিক্স করেছে বিজেপি। তাই বিজেপিকে রোখার জন্যে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের সঙ্ঘব্ধ আক্রমণ প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাবে যখন কেউ রাজি নয় তখন বাধ্য হয়েই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে আসতে হয়েছে তাকে। কারণ উত্তর মালদায় কংগ্রেসের সংগঠনের পরিস্থিতি ভালো নেই। পঞ্চায়েত ভোটের পর প্রচুর দলীয় কর্মী-সমর্থকরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছে। তাই বিজেপিকে উৎখাত করা লক্ষ্যে রেখেই তাকে তৃণমূলে আসার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

তবে কংগ্রেস যে একা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই যে জিততে পারবে না সেটাও অস্বীকার করলেন না তিনি। তবে তৃণমূল এবং কংগ্রেস জোট বাঁধলে বিজেপিকে রোখা অনেক সহজ হবে এই কথায় আস্থা রেখেছেন তিনি। কিন্তু প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এই জোটে কোনোভাবেই রাজি হননি। তাই বাধ্য হয়ে মালদার উন্নয়ন এবং শান্তির কথা ভেবেই তৃণমূলে যোগ দিতে হয়েছে। ১০ বছর ধরে কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন মৌসম নূর।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

 

এদিন সেটা উল্লেখ করেও জানালেন,পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের শক্তি কমে গিয়েছে এটা অনেকে অস্বীকার করলেও এটাই সত্যি। তাই লোকসভা ভোটের আগে শুধুমাত্র বিজেপিকে পরাস্ত করার লক্ষ্য নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরলেন তিনি। এমনটাই সাফ কথায় জানালেন।

তৃণমূলে আসার পর উত্তর মালদা কেন্দ্রের লোকসভা ভোটের প্রার্থী করার পাশাপাশি দুই দিনাজপুর এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় দলের প্রচার সামলানো এবং দলের সম্পাদকের দায়িত্বও মৌসমের উপর চাপিয়েছে তৃণমূল। এতো চাপ তিনি সামলাতে পারবেন কিনা এ নিয়ে এদিন তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,”যেহেতু আমি উত্তর মালদা কেন্দ্রের প্রার্থী তাই সেখানেই আমার নজর বেশি থাকবে। তবে দলের মজবুত মেশিনারি তৈরিতে বাকি জেলাগুলিতে এখন থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছি। তাই নিজের কেন্দ্রের বাইরে প্রচারে গেলেও আমাকে খুব একটা নজর দিতে হবে না”

তবে এবার লোকসভা ভোটের তাঁর বিরুদ্ধেই ভোটে দাঁড়িয়েছেন তাঁরই দাদা ইশা খান চৌধুরী। এনিয়ে একটু চাপে পড়তেই দেখা গেল মৌসমকে। বললেন,পরিবারের সদস্যদের মধ্যে লড়াই হোক এটা তিনি কখনোই চান না। আর সেটাই মামা এবং দাদাকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন বলেই জানালেন এদিন। তাঁর ইচ্ছা,সবাই একত্রে মিলে মালদার উন্নয়নে সামিল হোন। আর সেজন্যেই মামা এবং দাদাকেও তৃণমূলে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

যদিও মৌসমের সেই অনুরোধে সাড়া দেননি তাঁর মামা এবং দাদা। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কোনোভাবেই তৃণমূলে যোগ দেবেন না তাঁরা। একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উত্তর মালদায় লোকসভা ভোটের লড়াইটা যে হাড্ডাহাড্ডি হবে,এই প্রেক্ষিতে সেটা বুঝে নিতে আর বাকি নেই রাজনৈতিকমহলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!