এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > উত্তরপ্রদেশে বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর জোট ভাঙার ছক তৈরী – হাসি ফুটছে মোদী-শাহদের মুখে

উত্তরপ্রদেশে বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর জোট ভাঙার ছক তৈরী – হাসি ফুটছে মোদী-শাহদের মুখে

ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশ যার, দিল্লিতে কুর্শি তার। বিগত ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও এর অন্যথা হয় নি। ৮০ টি লোকসভা আসনের বৃহত্তম রাজ্যে জোটসঙ্গীদের আসন ধরে গেরুয়া শিবিরের দখলে আসে ৭৩ টি আসন – আর কেন্দ্রেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কুরসীর দখল যায় বিজেপির কাছে। আর এই ধরুন সত্যটা বুঝতে পেরেই এবার এক ছাতার তলায় আসার প্রক্রিয়া শুরু করেন বিরোধীরা।

বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর এক জোটের ভাবনায় – বিগত বেশ কয়েকটি উপনির্বাচনে দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজবাদী পার্টি, লোকদল – সবাই একজোট হয়ে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়। আর তার ফলও মেলে হাতেনাতে – বিজেপি নিজেদের ভোট বাড়িয়ে ৪০-৪২% নিয়ে গেলেও, সম্মিলিত বিরোধী শক্তির কাছে পরাভূত হতে হয়। আর সেখানেই প্রমাদ গুনছিলেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কেননা, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনেও সম্মিলিত বিরোধী ভোট একত্রিত হলে স্বাভাবিক নিয়মেই উত্তরপ্রদেশে পাল্লা ভারী হয়ে যাবে বিরোধীদের দিকে – ফলে গেরুয়া শিবিরের টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পক্ষে তা অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। আর বিরোধীদের আপাতত লক্ষ্য, যে করে হোক নরেন্দ্র মোদিকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসা থেকে আটকানো। আর তাই, গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশ থেকে একটিও আসনও না পাওয়া মায়াবতীর দলকে একসময় অর্ধেকের বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী বা অখিলেশ যাদব।

আর তাই, এই সম্মিলিত জোটের ভাবনায় সিঁদুরে মেঘ দেখছিলেন মোদী-শাহ জুটি। কিন্তু, এবার সামান্য সুযোগ পেতেই উত্তরপ্রদেশে বিরোধী রাজনীতিতে ফাটল ধরাতে উঠে পরে লাগলেন গেরুয়া শিবিরের নেতা। সমাজবাদী পার্টির ‘বিদ্রোহী নেতা’ তথা প্রাক্তন পার্টি সুপ্রিমো মুলায়ম সিং যাদবের ভাই শিবপাল যাদবকে কাছে টানার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। ইতিমধ্যেই তাঁর জন্য মায়াবতীর ছেড়ে যাওয়া বাংলো বরাদ্দ হয়েছে, তার সাথে সাথেই তাঁকে দেওয়া হয়েছে জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা।

এদিকে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে যাচ্ছেন না মায়াবতী। অখিলেশ যাদবও আপাতত নিজেকে জোট প্রক্রিয়ার বাইরে রেখেছেন। যদিও – মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান বা ছত্তিশগড়ের নির্বাচনে এমন কিছু ভোটব্যাঙ্ক নেই অখিলেশ-মায়াবতীর। কিন্তু, এই সিদ্ধান্ত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে বৃহত্তর জোটের অন্তরায় হতে পারে। তাছাড়া, বর্তমানে অখিলেশ যাদবের হাতে সমাজবাদী পার্টির নিরঙ্কুশ প্রাধান্য নেই – তাই তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কাকাকে আশ্রয় দিয়ে – বৃহত্তর বিজেপি জোটকে বিশ বাঁও জলে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। সবমিলিয়ে হাসি ক্রমশ চওড়া হচ্ছে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!