এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > নির্বাচনী ক্রিকেটের ময়দানে মোদিজির আরও ছক্কা আসতে চলেছে’ – জল্পনা বাড়ালেন হেভিওয়েট মন্ত্রী

নির্বাচনী ক্রিকেটের ময়দানে মোদিজির আরও ছক্কা আসতে চলেছে’ – জল্পনা বাড়ালেন হেভিওয়েট মন্ত্রী

সংসদের বাজেট অধিবেশন নিয়ে প্রথম থেকেই কৌতূহল ছিল দেশবাসীর মধ্যে। এই অধিবেশন নিয়ে একইরকম চর্চা চলেছে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও। এই বাজেট অধিবেশন আর নতুন কী কী চমক দেবেন মোদী? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষার প্রহর গুনছে রাজনৈতিকমহল। কারণ এটা মোদী সরকারের পঞ্চম বছর। ১৯’এর লোকসভা ভোটের আগে এটাই মোদী সরকারের শেষ বাজেট অধিবেশন।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সাধারণত শীতকালীন অধিবেশন নভেম্বরই শুরু হয়। কিন্তু এবছর পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের কারণে এটি পিছিয়ে যায়। এবছর শুরু হয়েছে ডিসেম্বরে। আগামী ৩১ জানুয়ারি চলতি লোকসভা ভোটের সর্বশেষ অধিবেশন শুরু হবে। চলবে মাত্র দু’সপ্তাহ। ১ ফেব্রুয়ারি নাগাধ অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করবেন। পরিভাষায় যদিও সেটি তিন মাসের আয় ব্যয়ের হিসাব বা ব্যয়বরাদ্দ হলেও সরকারের ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে কোনো বাধা নেই।

আর তাই লোকসভা ভোটের আগে এই বাজেট অধিবেশনে দেশবাসীকে যে বেশ কিছু উপহার দিতে চলেছেন মোদী, তা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই রাজনৈতিক মহলের। যেহেতু লোকসভা ভোটের আগে এটিই মোদী সরকারের শেষ বাজেট অধিবেশন, তাই স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রের কাছ থেকে বড়সড় সুবিধার প্রতিশ্রুতি আশা করে রয়েছে কৃষকমহল। আয়করের ব্যাপক মাত্রায় ছাড়ের প্রত্যাশা করছে মধ্যবিত্ত সমাজও। অন্যদিকে, দেশের হাজার হাজার বেকার যুবক যুবতী আশা করে রয়েছে মোদী সরকার পঞ্চম বছরের এই বাজেট অধিবেশনে কর্মসংস্থানের নতুন দিশা দেবে।

যদিও বাজেট অধিবেশনের জন্যে বসে না থেকেই আগেই সংরক্ষণ, জিএসটি, তিল তালাক ইস্যু ক্ষেত্রে একের পর খুশির খবর দিয়েছেন মোদী। এই প্রেক্ষিতে মোদীর ঝুলি থেকে আর কী কী উপহার বেরোয় লোকসভা ভোটের আগে তার জন্য স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে আমজনতার মধ্যে। তাঁদের সেই কৌতূহলকে উস্কে দিতেই বড় ভূমিকা পালন করে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ বলেন, “এটা হল ভোটের আগে নির্বাচনী ক্রিকেটের ময়দানে মোদিজির প্রথম ছক্কা – এরকম আরও ছক্কা আসতে চলেছে”।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

বিশেষ করে গত দুবছর ধরেই ইউনিভার্সাল ইনকাম স্কিম নিয়ে একটি ভাবনা চিন্তা চলছে সরকারের অন্দরেই। প্রত্যেক গরীব মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক বা বার্ষিক বেকার ভাতার মতো নির্দিষ্ট কিছু টাকা ট্রান্সফার করার পরিকল্পনা ছিল মোদী সরকারের। সর্বপ্রথম সিকিম সরকার সেটি শুরু করতে চলছে। এই অবস্থায় বাজেট অধিবেশনে এরকম আরও কিছু ঘোষণা করবে কিনা কেন্দ্র তা নিয়ে ফের জল্পনা শুরু হয়েছে। ২০১৪ সালে মোদী যখন দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেন সেসময় বিজেপির ছবিই আলাদা ছিল। বেকারত্ব-মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনা সহ দেশের নানান ইস্যু নিরাময়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আচ্ছে দিনের স্বপ্ন দেখিয়ে ক্ষমতায় আসেন মোদী।

সেসময় গেরুয়া ঝড়েই ভিত নড়ে যায় বিরোধীদের। তারপর মোদীর ভাবমূর্তিকে সামনে রেখেই একের পর এক রাজ্যের ক্ষমতায় আসে বিজেপি। আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে ছিল সেসময়। কিন্তু এখন সেই সরকারের মেয়াদ শেষের বেলায় হঠাৎ করেই সেই আত্মবিশ্বাসে চরম আঘাত আসে – দেশে প্রতিষ্ঠান বিরোধী ঝড় যে কত প্রবল এই মুহূর্তে তার প্রমাণ দিয়ে গেল সদ্য সমাপ্ত মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, রাজস্থানের বিধানসভা ভোটের ফলাফল। এই প্রেক্ষিতে মোদী সরকারের চাপ বাড়াতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে শরিক দলগুলো। চন্দ্রবাবু নাইডু, উপেন্দ্র কুশওয়া, মেহবুবা মুফতির মতো হেভিওয়েট শরিক নেতারা এনডিএ জোর ছেড়েছেন।

সম্প্রতি অসম গণ পরিষদ এনডিএ জোট ছাড়ল। দল ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে উত্তরপ্রদেশের আপনা দলও। এনডিএ জোট থেকে পরপর ১৬ টি দল বেরিয়ে যাওয়ায় লোকসভা ভোটের আগে এতোটাই চাপে পরে গিয়েছেন মোদী যে প্রথমবার এদিন আঞ্চলিক দলগুলোর কাছে সঙ্গ দেওয়ার বার্তা দিলেন। তামিলনাড়ুর পাঁচটি জেলার বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে মোদিকে কর্মীরা প্রশ্ন করেন এআইডিএমকে কিংবা রজনীকান্তের দলের সঙ্গে জোট হতে পারে কিনা। মোদি তার উত্তরে জানান, “জোটের দরজা খোলা। আমরা চাই পুরনো বন্ধুরা সকলেই ফিরে আসুন”।

প্রাক্তন বিজেপি প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী ভারতে যে নতুন জোট রাজনীতির সমীকরণ দিয়েছিলেন, সেই সূত্র মেনেই এগিয়ে যেতে চান তিনি – এমনটাই স্পষ্ট করলেন এদিন। জোট শরিকের সমর্থন ছাড়া বিজেপির যে ভোট-বৈতরণী পার করতে ভালোই বেগ পেতে হবে – এমনটাই বুঝিয়ে দিলেন মোদী। আর তাই গত সাড়ে চার বছর কড়া মাস্টারমশায়ের মত দেশের আর্থিক অবস্থার পুনরুজ্জীবন করার পর নির্বাচনের আগে এবার নিজের জনমোহিনী দিকটা তুলে ধরতে পারেন নরেন্দ্র মোদী বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!