এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে আরও ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ হবে মোদী-সরকার, ইঙ্গিত ক্রমেই স্পষ্ট

অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে আরও ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ হবে মোদী-সরকার, ইঙ্গিত ক্রমেই স্পষ্ট

দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনীতির মন্দা চলছে। যার ফলে অনেকটাই কোণঠাসা হয়েছে মোদি সরকার। কিন্তু এবার এই পরিস্থিতি থেকে বেরোতে সঙ্কট মোকাবিলার তৃতীয় দাওয়াই আনতে চলেছে তারা। বস্তুত, সুপার রিচ ট্যাক্স প্রত্যাহার করে নেওয়াসহ একঝাঁক বাজেট ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে শিল্পবান্ধব বার্তা দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

যার পরেই দ্বিতীয় বার্তা সামনে এসেছিল। বিদেশি লগ্নি আসতে যাতে কোনরূপ বাঁধা না আসে তার জন্য আরও বেশি করে এফডিআইয়ের দরজা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সূত্রের খবর, এবার অর্থমন্ত্রক রিয়েল এস্টেট সেক্টরকে সুরাহা প্যাকেজ দেওয়ার কথা ভাবছে। চলতি সপ্তাহেই এররকম কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে বলে সরকারি সূত্রে চর্চা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, রিয়েল এস্টেট সেক্টরেই বিগত ছবছরে সবথেকে বড় মন্দা এসেছে। হাজার হাজার ফ্ল্যাট যেমন অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, তেমনই বহু প্রোমোটার বছরের পর বছর ধরে ফ্ল্যাটের পজেশন দিচ্ছেন না। যার ফলে দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই সর্বত্রই রিয়েল এস্টেট যেভাবে ধাক্কা খেয়েছে, সেই প্রবণতা সবথেকে বেশি অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মসংস্থানের ক্ষতি করেছে।

কৃষিসঙ্কটে গ্রামীণ এলাকা থেকে লক্ষ লক্ষ গ্রামবাসী, খেতমজুর, দিনমজুর বিগত বছরগুলিতে শহরাঞ্চলে চলে এসেছেন অসংখ্য হাউসিং প্রকল্পের নির্মাণকর্মী হিসেবে। যার শুরুটা কার্যত নোট বাতিল থেকেই হয়েছিল। আর কালো টাকা ফেরানোর সেই প্রক্রিয়া ধাক্কা খেলে এবার ক্রমেই ঘনীভূত হল অর্থনীতির সঙ্কট। কিন্তু রিয়েল এস্টেট শিল্পক্ষেত্রকেই এই প্যাকেজ কেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আর্থিক সঙ্কটে চরম ধাক্কাটা রিয়েল এস্টেটেই লেগেছে। সূত্রের খবর, দেশজুড়ে বন্ধ হয়ে থাকা হাউসিং প্রকল্পগুলির চিহ্নিতকরণ করে তালিকা তৈরির লক্ষ্যে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হচ্ছে। যেখানে একটি সম্পূর্ণ নতুন রেন্টাল হাউসিং পলিসি আনার কথা ভাবা হয়েছে। যার মধ্যে ফ্ল্যাটের ক্রেতা এবং ডেভেলপার, উভয় পক্ষের জন্যই থাকতে পারে ব্যাঙ্ক লোন এবং সুদ মকুবের প্যাকেজ।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

ন্যাশনাল হাউসিং বোর্ডের পক্ষ থেকে সুদ মকুবের কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলেও সেই ব্যবস্থা শিথিল হতে পারে জানা যাচ্ছে। তবে ডিপার্টমেন্ট অব ইকনমিক অ্যাফেয়ার্সের অধীনে টাস্ক ফোর্স কাজ করছে। ইতিমধ্যেই অর্থমন্ত্রী হাউসিং ফিনান্স কোম্পানিগুলির জন্য সহায়তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঘোষণা করেছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে সরকারকে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার পরই অর্থনীতির সঙ্কটের মোকাবিলায় অর্থমন্ত্রক একের পর এক ঘোষণার পথে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সাধ্যের মধ্যে আবাসন প্রকল্পের আর্থিক ঊর্ধ্বসীমা পরিবর্তনের দাবি দীর্ঘদিনের।

আবাসন প্রকল্প নির্মাতাদের দাবি, এই সস্তায় আবাসন প্রকল্পের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো হলে আরও অনেক আবাসন .এই প্রকল্পের মধ্যে চলে আসতে পারে। আর সেক্ষেত্রে প্রকল্পের সংখ্যা বাড়তে পারে। কিন্তু প্রকল্পের সংখ্যা বৃদ্ধির থেকেও এখন সরকার অনেক বেশি করে চাইছে থমকে থাকা ও বন্ধ হয়ে যাওয়া আবাসন প্রকল্পগুলিকে কীভাবে সমাপ্ত করা সম্ভব, সেই উপায় বের করতে। আর তাই টাস্ক ফোর্স আগে তালিকাভুক্ত করবে থমকে যাওয়া প্রকল্পগুলিকে এবং সেই সব প্রকল্প সম্পন্ন করতে এখনও কত অর্থের প্রয়োজন, সেই হিসেব যাচাই করে তৈরি হবে একটি সুপারিশ প্যাকেজ।

আবাসন প্রকল্পের ডেভেলপারদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বারংবার সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং হাউসিং ফিনান্স কোম্পানিগুলি আবাসন প্রকল্পে যেভাবে ঋণপ্রদাণ বন্ধ করে দিয়েছে, সঙ্কট তার থেকেই। আর তাই ওই প্রতিবন্ধকতা তুলে দেওয়া হোক। রিয়েল এস্টেটের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যে কর্মসংস্থান মিশে রয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে। সব মিলিয়ে এখন ব্যবসায় ঠিক কতটা লাভ হবে, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!