এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > মোদী বিরোধী বৃহত্তর জোটে তৃণমূল নেত্রীর গুরুত্ত্ব ক্রমশ বাড়ছে, দিল্লির মহা বৈঠকে আমন্ত্রণ

মোদী বিরোধী বৃহত্তর জোটে তৃণমূল নেত্রীর গুরুত্ত্ব ক্রমশ বাড়ছে, দিল্লির মহা বৈঠকে আমন্ত্রণ

আগামী ২২ নভেম্বর দিল্লিতে ডাকা বিজেপি বিরোধী স্ট্র্যাটেজি বৈঠকের গুরুত্ব এক ধাক্কায় কয়েক কদম বাড়িয়ে দিলেন বিজেপি বিরোধী বর্ষীয়ান নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু। বৈঠকে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানোর জন্যে বঙ্গের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেই বিজেপি বিরোধী জোট গঠনের গতি দ্বিগুন বাড়িয়ে দিলেন।

জোট সমীকরণের বাস্তব রূপ দিতে অনেক আগেই ময়দানে নেমে পড়েছেন তেলেগু দশম সুপ্রিমো। দেখা করেছেন শারদ পাওয়ার মায়াবতী অখিলেশ যাদব,ফারুক আবদুল্লা, দেবেগৌড়ার পাশাপাশি পুরানো শত্রুতা ভুলে কথা বলেছেন কংগ্রেস সুপ্রিমো রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও। অবসরে জোট প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা সেরেছেন অশোক গেহলটের সঙ্গে।

যোগাযোগ রেখেছেন কট্টর বিজেপি বিরোধী নেতা তথা ডিএমকে সুপ্রিমো এম কে স্ট্যালিমের সঙ্গে। শুধু তাই নয়,তেলেঙ্গনা রাষ্ট্র সমিতি বা প্রয়াত জয়ললিতার দল এআইএডিএমকে নিজেদের দলে টানার চেষ্টা করেছেন।

এরপর বিজেপি বিরোধী জোটের অন্যতম প্রধান মুখ মমত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্যে ফোন করে বিরোধী মহাজোটে’র কোঅর্ডিনেটরের দায়িত্ব যে তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তা প্রকাশ্যে আনলেন। তৃণমূল সূত্রের খবর,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শ মেনেই নাকি ২২ নভেম্বর বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে তাঁর আগে চন্দ্রবাবু নাইডু নেত্রীর সঙ্গে সামনাসামনি হয়ে বৈঠক বিষয়ক কিছু আলোচনা সারতে চান। এই উদ্দেশ্যেই আগামী ১৯ তারিখ কোলকাতা সফরে যাচ্ছেন নাইডু।

পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের প্রাক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে রাজধানীতে আয়োজিত প্রতিষ্ঠানবিরোধী জোট বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।এই পাঁচ রাজ্যের ভোটে যদি বিজেপি ভালো ফল করতে না পারে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীজোটের হাওয়া আরো প্রবল হবে লোকসভা ভোটের জন্যে। সেখান থেকেই বিজেপি বিরোধী জোটের ফর্মুলা মেনেই কেন্দ্র থেকে বিজেপি উৎখাতের যুদ্ধে অগ্রসর হবে অবিজেপিরা।

তবে তা করতে গেলো সমমনস্ক দলগুলোর পারস্পারিক ইগো কাটাতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের জিএসটি,নোটবাতিল,রাফাল দুর্নীতি,বাড়তে থাকা বেকারত্ব এবং পেট্রো পন্যের মূল্যবৃদ্ধিকে ইস্যু করতে হবে। তুলে ধরতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের দোষ ত্রুটি গুলো। আর এই সমীকরণকে বোঝাতেই বিভিন্ন রাজ্যে এক দফা সফর সেরে ফেলেছেন তৃনমূল সুপ্রিমো। নিয়মতি যোগাযোগও রেখেছেন ভিন রাজ্যের অবিজেপি নেতৃত্বদের সঙ্গে।

উল্লেখ্য,৮০ টি লোকসভা আসন বিশিষ্ট উত্তরপ্রদেশে এই জোটের প্রশ্নে মায়াবতী-অখিলেশের রসায়ণ কতোটা কাজ করতে পারবে তা নিয়ে এখন থেকে ছক কষা শুরু হয়ে গিয়েছে বিজেপি বিরোধী শিবিরে। সংসদীয় আসনের নিরিখে তার পরেই স্থান রয়েছে মহারাষ্ট্রের ৪৮টি এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ৪২ লোকসভা আসনের পশ্চিমবঙ্গের। এরপর রয়েছে ৪০ আসন বিশিষ্ট বিহার।

চন্দ্রবাবুর রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে রয়েছে মোট ২৫টি লোকসভা আসন। এইসব রাজ্যে শাসক দলসহ কেউই নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় নেই। একমাত্র ব্যতিক্রমী অবস্থানে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়। বাংলায় তিনি এবার এককভাবে ৪২টি আসন দখলের ডাক দিয়েছেন। তাই বোঝাই যাচ্ছে, বিরোধী জেটের সম্ভাব্য দলগুলির মধ্যে একমাত্র মমতাই সাংগঠনিক আত্মনির্ভরতার নিরিখে বাকিদেরকে পিছনে ফেলেছন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এই প্রেক্ষিত স্বাভাবিকভাবেই জোটের প্রধান মুখ মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়। এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে যেমন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তেমনি তৃণমূলের সভানেত্রীও। তাই দিল্লির বৈঠক হোক বা ১৯ জানুয়ারি বৃহত্তর বিগ্রেড সমাবেশ,সবদিকেই বিজেপি বিরোধী নেতারা নেত্রীকে সামনে রেখেই এবারের লোকসভা ভোটে মোদী সরকারকে হটানোর ঘুঁটি সাজাচ্ছেন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!