এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বিধায়কের বিরুদ্ধে “বিদ্রোহ” ঘোষণা তৃণমূলের এক ঝাঁক জনপ্রতিনিধির! শাসকদলের কোন্দল ঘিরে জল্পনা

বিধায়কের বিরুদ্ধে “বিদ্রোহ” ঘোষণা তৃণমূলের এক ঝাঁক জনপ্রতিনিধির! শাসকদলের কোন্দল ঘিরে জল্পনা

কখনও প্রাক্তন চেয়ারম্যান- বর্তমান চেয়ারম্যান দ্বন্দ্ব, কখনও প্রাক্তন জেলা সভাপতি – বর্তমান জেলা সভাপতির দ্বন্দ্ব, আবার কখনও বা দলীয় জনপ্রতিনিধিদের বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ, একের পর এক ঘটনায় রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে পরিচিত মালদহে তৃণমূলের অস্বস্তি দিনকে দিন বাড়তে শুরু করেছে।

কিছুদিন আগেই ইংলিশবাজার পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল সরকার মালদহ জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী মৌসম বেনজির নূরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে দল পরিচালনা নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন। এমনকি এই ব্যাপারে স্বেচ্ছায় রাজনীতিতে সন্ন্যাস নেওয়ার কথাও জানিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্দিনের এই সৈনিক।

আর এবার মোথাবাড়িতে কিছুদিন আগেই কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দল পরিচালনা নিয়ে অভিযোগ তুলে তৃণমূলের একগুচ্ছ নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যরা সেই দলীয় বিধায়কের বিরুদ্ধেই দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে অভিযোগ জানালেন।

বস্তুত, গত 2016 সালে মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জয়লাভ করেছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। পরবর্তীতে সাবিনাদেবী তৃণমূলে যোগ দিলে তিনি যখন ভোটে লড়েছিলেন, তখন তৃণমূলের প্রার্থী যে নজরুল ইসলামকে তিনি পরাজিত করেছিলেন, সেই নজরুলবাবুর সঙ্গে সাবিনা দেবীর গোষ্ঠী কোন্দল চরমে ওঠে। আর এবার সেই গোষ্ঠী কোন্দলের ছাপ দেখা গেল মোথাবাড়িতে।

জানা গেছে, মোথাবাড়ির তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তার অনুগামী হাসিমুদ্দিন আহমেদকে যদি ব্লক সভাপতি করা হয়, তাহলে তৃণমূলের এক ঝাঁক নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূল ছেড়ে নিজেদেরকে নির্দোষ বলে ঘোষণা করবেন বলে ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিতে শুরু করেছেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

জানা গেছে, ইতিমধ্যেই কংগ্রেস এজেন্টদের দিয়ে দিয়ে তৃণমূল পরিচালনা করা হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মালদহের প্রাক্তন জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী, বর্তমান পর্যবেক্ষক সাধন পান্ডে, গোলাম রাব্বানী, জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী মৌসম নুর এবং মালদহ জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে মোথাবাড়ি 38 জন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য একটি অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন।

যেখানে সেই 38 জন যেমন সই করেছেন, ঠিক তেমনই কালিয়াচক 2 ব্লক থেকে নির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং কালিয়াচক 2 ব্লকের তৃণমূল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামেরও সই রয়েছে বলে খবর। আর এই গোটা ঘটনায় এখন চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন মালদহ জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব থেকে শুরু করে রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্ব।

এদিন এই প্রসঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিনের চরম বিরোধী বলে পরিচিত তৃণমূল নেতা নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিধায়ককে স্বাগত জানিয়েছিলাম। কিন্তু যেভাবে তিনি দল চালাচ্ছেন, তাতে এলাকায় তৃণমূলের চরম ক্ষতি হচ্ছে। দলের সর্বনাশের দায়িত্ব বিধায়ককেই নিতে হবে। ব্লক আহ্বায়ক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধায়কের মনোনীত ব্যক্তিকে কেউই মেনে নেবেন না। যেভাবে প্রতিদিন বিধায়ক-বিরোধী মানসিকতা দলের মধ্যে তীব্র হচ্ছে, তাতে অনেকেই প্রয়োজনে দল ছেড়ে নিজেদের নির্দল ঘোষণা করতে পারেন বলে আমরা আশঙ্কা করছি।”

এদিকে তাঁর বিরুদ্ধে দলের একঝাঁক নির্বাচিত প্রতিনিধি জেলা নেতৃত্ব এবং রাজ্য নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ পাঠানোয় কি বলছেন মোথাবাড়ির তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন? এদিন তিনি বলেন, “দলের আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে নিজেদের অভাব-অভিযোগ মিডিয়ার কাছে তুলে না ধরে দলের মধ্যে বলতে হবে। কিন্তু কেউ কেউ এখনও দলের নিজস্ব বিষয় যেভাবে সংবাদমাধ্যমের কাছে জানাচ্ছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

তবে 38 জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দলীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে জেলা এবং রাজ্য নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ পাঠানোর কথা বললেও এখনও পর্যন্ত এই ব্যাপারে জেলা নেতৃত্বের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি বলে জানিয়ে দিয়েছেন মালদহ জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী মৌসম বেনজির নূর।

এদিন তিনি বলেন, “এই ধরনের কোনো চিঠি এখনও জেলা কার্যালয় আসেনি। ওখানে কিছু সমস্যা রয়েছে বলে শুনেছি। কুড়ি অক্টোবর বিধায়ক সহ দুই পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানেই সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।” কিন্তু জেলা সভানেত্রী যাই বলুন না কেন, যেভাবে দিনকে দিন মালদহে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল শুরু হয়েছে, তাতে এবারে যেভাবে তৃণমূল লোকসভায় মালদহে শূন্যতে এসে দাঁড়িয়েছে, ভবিষ্যতেও তারা কতটা শূন্য থেকে একে যেতে পারবে, তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক মহল।

তাই দলীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে দলীয় জনপ্রতিনিধিদের এহেন বিদ্রোহ সামাল দিতে এবার জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব কি পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!