এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বিধানসভায় মন নেই শাসকদলের মন্ত্রী- বিধায়কদের! চূড়ান্ত হতাশ স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়!

বিধানসভায় মন নেই শাসকদলের মন্ত্রী- বিধায়কদের! চূড়ান্ত হতাশ স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়!

 

রাজ্যে প্রতিবছর স্কুল-কলেজগুলোতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক ভাবধারার প্রয়োগ ঘটাতে আয়োজিত করা হয় যুব সংসদ প্রতিযোগিতা। যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে রাজ্যের নতুন প্রজন্মকে রাজনীতিতে নামানো এবং বিধানসভার নিয়মকানুন সম্পর্কে অবগত করানোর চেষ্টা করা হয়।

কিন্তু যদি বাস্তবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শাসকদলের বিধায়কদের গতিপ্রকৃতি ঠিক না থাকে, তাহলে নিঃসন্দেহে এই অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। অতীতে বহুবার বিধানসভায় দলীয় বিধায়কদের অনুপস্থিতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে সকলকে বিধানসভায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু নেত্রীর সেই নির্দেশ কিছুদিন মানলেও, বর্তমানে শাসকদলের বিধায়কদের বিধানসভায় আসার রেওয়াজ যে প্রায় নেই বললেই চলে, তা সোমবার ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে প্রমাণ হয়ে গেল।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, শাসকদলের পর্যাপ্ত বিধায়ক সংখ্যা এবং মন্ত্রী সংখ্যা ছাড়াই সোমবার বিধানসভার অধিবেশন চালাতে হল স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে। জানা যায়, প্রথমার্ধের অধিবেশন শেষে সোমবার দেড়টায় বিধানসভার দ্বিতীয়ার্ধের অধিবেশন শুরু হয়। কিন্তু সভার কাজ যখন শুরু হয়, তখন সভাকক্ষে সরকারপক্ষের আসন শূন্য থাকতে দেখা যায়। নিয়মানুযায়ী, শাসকদলের ন্যূনতম বিধায়কের সংখ্যা হওয়া উচিত 30 জন। কিন্তু সেই সময়ে শাসকদলের বিধায়ক সংখ্যা ছিল 13 জন। অন্যদিকে অধিবেশনের সময় মন্ত্রীদের সংখ্যা 6 জন থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, তখন একা ট্রেজারি বেঞ্চে মন্ত্রী হিসেবে বসেছিলেন তাপস রায়। যা নিয়ে কার্যত উষ্মা প্রকাশ করেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

তড়িঘড়ি তাপস রায়কে ডেকে ট্রেজারি বেঞ্চের অবস্থা দেখান তিনি। তৎক্ষণাৎ রীতিমতো ছোটাছুটি করে সকলকে ডেকে আনেন তাপস রায় এবং নির্মল ঘোষ। শেষে কোরাম ছাড়াই অধিবেশন চালানোয় রীতিমত বিরক্ত হয়ে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “চূড়ান্ত অবাঞ্ছিত ঘটনা।

সংশ্লিষ্ট সকলের বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত।” সত্যিই তো তাই! যেখানে বিধানসভায় রাজ্যের বিধায়করা তাদের এলাকাবাসীর সমস্যার কথা তুলে ধরেন, নানা আলোচনা হয়, সেখানে কেন শাসকদলের বিধায়কদের এই অনুপস্থিতি! তাহলে কি বিধানসভা অপেক্ষা তাদের কাছে নিজেদের ব্যক্তিগত কাজ বেশি গুরুত্বপূর্ণ! এখন এই প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে সর্বত্র। মানুষ একটি ভোট দিয়ে কষ্ট করে একজন বিধায়ককে নির্বাচিত করেন।

কিন্তু সেই বিধায়ক বিধানসভায় আলোচনায় অংশ না নিয়ে যেভাবে বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করে বেড়াচ্ছেন এবং যেভাবে রাজ্য বিধানসভা অবহেলার শিকার হচ্ছে, তা কি গণতন্ত্রের পক্ষে খুব মঙ্গলজনক! এই প্রশ্নটা উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। বিরোধীদের অনেকে বলছেন, আসলে শাসকদলের বিধায়কদের অধিবেশনে আশা বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিরোধীদের ওপর অত্যাচার করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আর তাই তো বিভিন্ন সময়ে তৃণমূলের বিধায়ক থেকে মন্ত্রীদের পর্যাপ্ত উপস্থিতি বিধানসভায় দেখতে পাওয়া যায় না। এটা বিধানসভার পক্ষে অগণতান্ত্রিক ব্যাপার। কিন্তু যেখানে সরকার নতুন প্রজন্মের মধ্যে গণতান্ত্রিক ভাবধারার উন্মেষ ঘটাতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে, সেখানে কেন বাস্তবের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়ক থেকে মন্ত্রীদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না! তা নিয়ে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!