এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > নানুর দিবসে মন্ত্রী থাকলেও অনুপস্থিত দলের সিংহভাগ কাউন্সিলর, জোর জল্পনা

নানুর দিবসে মন্ত্রী থাকলেও অনুপস্থিত দলের সিংহভাগ কাউন্সিলর, জোর জল্পনা

লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে দলবদলের হিড়িক শুরু হয়েছে। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে দেখা যাচ্ছে অনেক জনপ্রতিনিধিদেরকে। যাতে প্রবল চিন্তায় পড়েছে ঘাসফুল শিবির। আর এমতাবস্থায় এবার হলদিয়া শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের উদ্যোগে নানুর শহীদ দিবস অনুষ্ঠানে তৃণমূল কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতি প্রবল চিন্তা বাড়াতে শুরু করল।

সূত্রের খবর, এদিন সিটি সেন্টারে পৌরসভার রবীন্দ্র-নজরুল মুক্তমঞ্চে এই নানুর শহীদ দিবস উপলক্ষে সকাল থেকেই রক্তদান শিবির এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়। যার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন পৌরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল (স্বাস্থ্য) আজিজুল রহমান। পরে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবব্রত দাস, জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ মধুরিমা মন্ডল, হলদিয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান শ্যামল কুমার আদক, ভাইস চেয়ারম্যান সুধাংশু মন্ডল, জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক পার্থ বটব্যাল, প্রাক্তন বিধায়ক তুষার মন্ডল সহ অন্যান্যরা।

এদিকে হেভিওয়েট মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই শহীদ দিবসের কর্মসূচিতে উপস্থিত হলেও হলদিয়া পৌরসভার মোট 29 জন কাউন্সিলরের মধ্যে মাত্র 9 জন কাউন্সিলার এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় রীতিমতো হকচকিয়ে যায় ঘাসফুল শিবিরের নেতৃত্বরা।

সমালোচক মহলের একাংশ বলছেন, তাহলে কি দলের প্রতি এই কাউন্সিলররাও আস্থা হারাচ্ছেন! আর তাই কি শহীদ দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়ে দলকেই পরোক্ষে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেন! সূত্রের খবর, এদিন কাউন্সিলরদের এই উপস্থিতির হার দেখে পুর চেয়ারম্যান শ্যামল কুমার আদক কড়া ভাষায় বলেন, “রাজ্যের ব্যস্ততম মন্ত্রী শুভেন্দুবাবু শহীদ স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন। কিন্তু পুরসভার কাউন্সিলর সভায় আসতে পারলেন না! কেন সমস্ত কাউন্সিলার এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে গরহাজির থাকলেন, তাদের কৈফিয়ত তলব করা হবে।” সত্যিই তো তাই, কেন দলের এই কর্মসূচিতে তারা উপস্থিত হলেন না!

এদিন এই প্রসঙ্গে এই পৌরসভার কাউন্সিলর দেবপ্রসাদ মন্ডল বলেন, “এই কর্মসূচি নিয়ে দলীয় ভাবে তেমন প্রচার হয়নি। আজিজুল রহমান ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করেন। তিনি আমাকে একটা চিঠি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত কাজ থাকায় আমি স্মরণসভায় যোগ দিতে পারিনি। নানুরের শহীদদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু পুরসভার চেয়ারম্যান কেন দলের কাউন্সিলরদের কৈফিয়ত তলব করার কথা বলবেন তা স্পষ্ট নয়।”

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে কিছু হয়নি বলে যতই এই পৌরসভার কাউন্সিলররা প্রমাণ করার চেষ্টা করুন না কেন, ভেতরে নিশ্চয়ই কোনো জটিলতা হয়েছে। আর তার কারণেই তো শহীদ দিবসের মতো অনুষ্ঠানে কাউন্সিলরদের সিংহভাগ অনুপস্থিত থাকলেন।আর তার সাথেই প্রশ্ন উঠছে বিজেপি যোগ নিয়ে। কেননা রাজ্যে ১৮ টি আসন জেতার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে শাসকদল ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। আর তাই নিয়েই দলের অন্দরে বইছে চাপা উত্তেজনা।

এদিকে এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বিগত বাম সরকারের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর গত সাড়ে 8 বছরে কোনো গণহত্যা ঘটেনি। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিদ্যাসাগর, বিবেকানন্দ ও রামকৃষ্ণের বাংলায় রক্তপাত, হত্যালীলা ও অত্যাচারের ঘটনা রাজ্যবাসীকে দেখতে হয়নি। এজন্য আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাই। নানুরের শহীদ স্মরণ করে শান্তি ও সম্প্রীতির মধ্যে দিয়ে আমরা বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছি।”

তবে শুভেন্দুবাবু শহীদ তর্পনের মধ্যে দিয়ে বাংলার সম্প্রীতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও তার দলের কাউন্সিলররাই যেভাবে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেন, তা নিয়ে শেষ পর্যন্ত ঠিক কতদূর জল গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

Top
error: Content is protected !!