এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বাংলায় মিম – ভাঙবে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক, সুবিধা হবে বিজেপির! মানছেন রাজ্যের দাপুটে মন্ত্রী

বাংলায় মিম – ভাঙবে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক, সুবিধা হবে বিজেপির! মানছেন রাজ্যের দাপুটে মন্ত্রী



 

2011 সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস। প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই সংখ্যালঘুদের বেশিরভাগ সমর্থন তৃণমূলের দিকে গেছে বলে দাবি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। এমনকি সদ্যসমাপ্ত রাজ্যের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন পেলেও তৃণমূলের 22 টি আসন পাওয়ার পেছনে সেই সংখ্যালঘুদের সমর্থন রয়েছে।

শুধু তাই নয়, লোকসভায় বিজেপির হাওয়া উঠলেও এনআরসি ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার করার কারণে করিমপুর খড়গপুর এবং কালিয়াগঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। তবে সম্প্রতি সংখ্যালঘুদের সংগঠন হায়দ্রাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এআইএমআইএম বাংলায় পা রাখছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে।

বিভিন্ন সভা থেকে হায়দ্রাবাদের একটি দল বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর হায়দ্রাবাদের এমআইএমআইএম যদি রাজ্যে প্রবেশ করে, তাহলে বাংলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট যে তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে পড়বে না, সেই ব্যাপারে আশঙ্কা রয়েছে রাজ্যের শাসকদলের। তাই এই পরিস্থিতিতে সেই এমআইএমআইএমকে বিজেপির “বি টিম” বলে ফের সোচ্চার হল তৃণমূল কংগ্রেস।

বস্তুত, ইতিমধ্যেই রাজ্যের মালদহ, মুর্শিদাবাদের মত জেলাগুলিতে এনআরসি ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে জোর প্রচার শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। যার অঙ্গ হিসেবে “অল ইন্ডিয়া মুসলিম অর্গানাইজেশন” নামে একটি সংগঠনের ডাকে এদিন মালদহের পঞ্চানন্দপুরে এনআরসি নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

যেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী গিয়াসুদ্দিন মোল্লা, মালদহ জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী মৌসাম বেনজির নূর, প্রাক্তন মন্ত্রী‌ সাবিত্রী মিত্র, মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌর চন্দ্র মন্ডল, অধ্যাপক আজিজুল হকসহ জেলা তৃণমূলের নেতৃত্বরা। তৃণমূল ঘনিষ্ঠ মহলের একাংশ দাবি করেছিল, এমআইএমআইএম যদি রাজ্যে আসেও, তাহলে তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন জয় করতে পারবে না।

কিন্তু এদিনের এই সভা থেকে রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী গিয়াসুদ্দিন মোল্লার কথায় ছড়িয়ে পড়ল জল্পনা। এদিন তিনি বলেন, “বিজেপির কাছ থেকে টাকা নিয়ে এই মিম রাজনৈতিক দলটি এই রাজ্যে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য মুসলিম সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক ধরার চেষ্টা করছে।”

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

আর মন্ত্রীর এহেন কথা থেকেই স্পষ্ট যে, তাহলে শাসকদল আশঙ্কা করতে শুরু করেছে যে, এমআইএমআইএম যদি রাজ্যে আসে, তাহলে তারা সংখ্যালঘু ভোট নিজেদের দিকে টানতে সক্ষম হবেন। আর এতেই বিপাকে পড়বে তৃণমূল বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। যদিও বা মিম এলেও রাজ্যে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি অল ইন্ডিয়া মাইনোরিটি অরগানাইজেশনের সর্বভারতীয় সভাপতি নাসির আহমেদের।

তবে রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী গিয়াসুদ্দিন মোল্লা যেভাবে বিজেপির মাধ্যমে মিম রাজ্যে এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছে বিজেপি এবং এমআইএমআইএম। এদিন এই প্রসঙ্গে মালদহ জেলার মিম নেতা আমির হোসেন বলেন, “মানুষকে বিভ্রান্ত করছে তৃণমূল। নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে মিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংস্থাকে দিয়ে কুৎসা রটানো শুরু হয়েছে।”

একইভাবে এই প্রসঙ্গে মালদহ জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “মিমের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ধ্বস নামবে।” সব মিলিয়ে রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী গিয়াসুদ্দিন মোল্লা যেভাবে মিমের রাজ্যে পা রাখা নিয়ে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক ভাগ করার আশংকা প্রকাশ করলেন, তাতে তৃণমূল কতটা বিপাকে পড়ে! সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!