এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > দিনের পর দিন সভাপতি চেকে সই না করায় নিজের পকেট থেকে 5 লক্ষ টাকা খরচ করে মিড-ডে মিল চালাচ্ছেন প্রধান শিক্ষিকা

দিনের পর দিন সভাপতি চেকে সই না করায় নিজের পকেট থেকে 5 লক্ষ টাকা খরচ করে মিড-ডে মিল চালাচ্ছেন প্রধান শিক্ষিকা

পরিচালন সমিতির সভাপতি চেকে সই না করায় এখন কার্যত মিড ডে মিল বন্ধ হয়ে যাবার জোগাড় শান্তিপুরের শরৎকুমারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। অভিযোগ, বিগত 16 মাস ধরে এই বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি যতন সরকার কোনোরূপ চেকে সই করছেন না। ফলে মিডডে মিল চালাতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।

কিন্তু এই মিডডে মিল যাতে বন্ধ হয়ে না যায় সেই কারণে এখনও পর্যন্ত প্রায় 4 লক্ষ 63 হাজার টাকা ব্যক্তিগতভাবে খরচ করেছেন এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লীনা বিশ্বাস। পাশাপাশি স্কুলের অন্যান্য খরচের জন্য 29 হাজার টাকাও খরচ করেছেন তিনি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন?

ব্যাক্তিগত ভাবে তিনিও বা আর কতদিন এইরূপ অর্থ দিয়ে মিডডে মিলের খরচ চালাবেন? অন্যদিকে পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে বসেও কেন সেই মিড ডে মিলের টাকার চেকে সই করছেন না যতন সরকার? প্রকৃত সমস্যাটা তাহলে কোথায়?

সূত্রের খবর, এই শান্তিপুর শরৎকুমারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে মোট 2 হাজার 155 জন পড়ুয়া রয়েছেন। গত 2015 এখানকার পরিচালন সমিতির সভাপতি যতন সরকার কোনরূপ চেকে সই করতেন না। কিন্তু পরে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ সেই সমস্ত জটিলতা কেটে যায়।

কিন্তু 2017 সালের অগাস্ট মাস থেকে ফের এই যতন চেকে সই করা বন্ধ করে দেন। যার জেরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সর্বশিক্ষা মিশন এবং রাষ্ট্রীয় মিশনের বরাদ্দ কোনো টাকা তুলতে পারেন না। এমন কি ব্যাপারে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক, জেলাশাসক ও শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এদিন এই প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লীনা বিশ্বাস বলেন, “গত 16 মাস ধরে পরিচালন সমিতির সভাপতি স্কুলের কোন চেকেই সই করছেন না। পড়ুয়াদের যাতে মিড ডে মিল বন্ধ না হয় সেজন্য আমি এখনও পর্যন্ত 4 লক্ষ 63 হাজার টাকা খরচ করেছি। কিন্তু এটা তো বেশি দিন চলতে পারে না। তাই বাধ্য হয়ে এবার মিড ডে মিল বন্ধ করে দিতে হবে।”

কিন্তু কেন তিনি চেকে সই করছেন না? এদিন এই প্রসঙ্গে সেই বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি যতন সরকার বলেন, “2014 সালে যোগ দেওয়া এই প্রধান শিক্ষিকা কোনো সিস্টেম মানেন না। কোনো বিষয়ে নজরদারি চালাতে গেলে তিনি আপত্তি তোলেন। মিড ডে মিলের ভাউচার ঠিক নেই। তাই আমি সই করি না।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তাহলে কি সত্যি সত্যিই এই স্কুলের বাচ্চাদের মিড ডে মিল পাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে? এদিন এই প্রসঙ্গে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় বলেন, কোনো মিডডে মিল বন্ধ হবে না। আমরা প্রধান শিক্ষিকা এবং পরিচালন সমিতির সভাপতিকে ডেকে দ্রুত এই ব্যাপারে সমস্যার সমাধান করব।” সব মিলিয়ে এবার প্রধান শিক্ষিকা বনাম পরিচালন সমিতির সভাপতির চাপা বিবাদে মিড ডে মিল উঠে যাওয়ার জোগাড় শান্তিপুরের শরৎকুমারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!