এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > নবীনের আগমনী দিনে হাসিমুখে ইঙ্গিতবাহী পুরাতনী- দেখবেন কিছুদিন বাদে সব ঠিক হয়ে যাবে!

নবীনের আগমনী দিনে হাসিমুখে ইঙ্গিতবাহী পুরাতনী- দেখবেন কিছুদিন বাদে সব ঠিক হয়ে যাবে!

জল্পনা-কল্পনা চলছিল যে, কোলকাতা পুরসভার মেয়র পদে নির্বাচনে তাহলে কি ফিরহাদ হাকিমকে জেতাতে ভোটদাণ পর্বে অংশগ্রহণ করবেন কলকাতা পৌরসভারই প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়? হ্যাঁ, অবশেষে এলেন তিনি। ভোট দিলেন, পুরাতন হিসেবে নতুনের পাশে থেকে সর্বদা কাজ করার আশ্বাসও দিলেন।

প্রসঙ্গত, গতকাল দুপুর একটা নাগাদ কলকাতা পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনে ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হয়। যেখানে শাসকদলের 120 জন এবং বিজেপির 5 জন কাউন্সিলর হাজির ছিলেন। কিন্তু অনেকেরই মনে প্রশ্ন ছিল, তাহলে তৃণমূলের কলকাতা পৌরসভার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় কি আদৌ ভোট দিতে আসবেন?

ওদিকে তিনি যে এই ভোটগ্রহণ পর্বে অংশগ্রহণ করবেন তা এদিন সকালেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা ঘনিষ্ঠ কানন। আর তাই কথা দিয়ে কথা রাখলেন তিনি। গাড়ি থেকে নেমে সকলের সাথে হাসিমুখে সৌজন্যতা দেখিয়ে সোজা সিঁড়ি দিয়ে এদিন ভোটকক্ষের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় শোভন চট্টোপাধ্যায়।

জানা যায়, নির্বাচন কক্ষে গিয়ে কলকাতা পৌরসভার এক শীর্ষ কর্তার সামনেই তিনি ব্যালট পেপারে দলের মেয়র পদপার্থী ফিরহাদ হাকিমের নামের পাশে টিক চিহ্ন দিয়ে তা ব্যালট বাক্সে ফেলে দেন। আর এরপরই সেই ভোটগ্রহণ কক্ষ থেকে বেরিয়ে শাসকদলের অন্যান্য কাউন্সিলরদের সঙ্গে নমস্কার ও করমর্দন করে তিনি পৌরসভার দু তিনজন মেয়র পারিষদ সদস্যের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমার সময় যেভাবে পাশে থেকে কাজ করেছো, নতুন মেয়রকেও সেই ভাবেই সাহায্য কর।”

অনেকেই বলছেন, এ আসলে নতুনের প্রতি পুরাতনের দায়বদ্ধতারই নজির। অন্যদিকে সকলের সাথে হাসিমুখে কথা বলার পরই এদিন সোজা চেয়ারপার্সন মালা রায়ের ঘরের সামনে যেতেই সেখানে বাম কাউন্সিলরদের বিক্ষোভ দেখতে পান শোভন চট্টোপাধ্যায়। তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে কথা বলেন তিনি। আর এরপরই চেয়ারপার্সনের ঘরে ঢুকে যান।

সূত্রের খবর, তখন চেয়ারপার্সনের ঘরে শাসকদলের কাউন্সিলরদের প্রায় প্রত্যেকেই ছিলেন‌। শোভন চট্টোপাধ্যায়কে দেখে কার্যত আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েন আলম আনসারী, ইন্দ্রানী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত কাউন্সিলাররা। আর এরপর শোভন চট্টোপাধ্যায় মালা রায়ের সাথে 10-15 মিনিট কথা বলে সেই কাউন্সিলরদের বলেন, “দেখবেন, কিছুদিন পরে সব ঠিক হয়ে যাবে।”

আর এখানেই অনেকের মনে প্রশ্ন, ঠিক কোন ঘটনা ঠিক হওয়ার কথা বোঝাতে চাইলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়? এদিকে মেয়র পদ থেকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ইস্তফা প্রসঙ্গে প্রসঙ্গে শাসকদলের এক প্রবীণ মেয়র পারিষদ বলেন, “ব্যক্তিগত জীবনে সবারই সমস্যা রয়েছে। দল তো শোভন চট্টোপাধ্যায়কে মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিতে বলেনি। এভাবে কেউ ইস্তফা দেয়? এটা একটা জেদ।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এদিকে চেয়ারপার্সনের ঘর থেকে বেরিয়ে কমিশনারের ঘরে গেলেও তার সাথে দেখা না হওয়ায় ফিরে যান শোভন চট্টোপাধ্যায়। আর তখনই তাকে প্রশ্ন করা হয় যে, কাকে ভোট দিলেন? এদিন এই প্রসঙ্গে কলকাতা পৌরসভার প্রাক্তন মেয়র বলেন, “গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন চলছে। তাই কাকে ভোট দিলাম সেটা বলা উচিত নয়। আমি এখনও কাউন্সিলর। যখন দরকার পড়বে আমি সকলকে সাহায্য করব।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, ব্যক্তিগত জীবনে যাই হোক না কেন, দলের ডাকে সাড়া দিয়ে দলের মেয়র পদপ্রার্থী ফিরহাদ হাকিমকে ভোট দিয়ে আদতে দলীয় আনুগত্যই প্রমাণ করার চেষ্টা করলেন কলকাতা পৌরসভার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!