এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > মেদিনীপুরে মোদীর সভার সামিয়ানা ভেঙে পড়া কান্ডে এবার রাজ্যসরকারকে দায়ী করল বিজেপি নেতা

মেদিনীপুরে মোদীর সভার সামিয়ানা ভেঙে পড়া কান্ডে এবার রাজ্যসরকারকে দায়ী করল বিজেপি নেতা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জনসভাতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল দর্শকদের সামিয়ানা। ঘটনাস্থল মেদিনীপুর শহরের কলেজ মাঠ। গতকাল এখানেই কৃষি সহায়ক মূল্যবৃদ্ধি সহ একাধিক ইস্যুতে কৃষক সমাজের সঙ্গে মিটিং করতে হাজির ছিলেন মোদীজি। কাতারে কাতারে লোক ভীড় করেছিলো জনসভাতে। মঞ্চ কাঁপছিলো প্রধাণমন্ত্রীর ভাষণে। এমনসময়ই সকলের অগোচরে ঘটে গেল এক কেলেঙ্কারি! হঠাৎ করে ভেঙে পড়ল দর্শকবৃন্দের অস্থায়ী সামিয়ানা। মুহূর্তে হুলুস্থুল কান্ড বেঁধে গেলো জনসভায়। লোহার কাঠামোর আঘাতে তৎক্ষনাৎ-ই আহত হয়ে পড়েন ৯১ জন মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল সিল করে দিয়ে রাতভর ওই স্থানের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ প্রশাসনকে।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

 এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার জেরে রীতিমতো অবাক রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব সহ কর্মী-সমর্থকরা। দলের সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু আবার এই ঘটনার অভিযোগে সরাসরি বিদ্ধ করলেন রাজ্য সরকারকে। “মানুষ খুনের চক্রান্ত করেছিল রাজ্যসরকার।”এমনটাই দাবী করলেন এদিন বিজেপি সদর দপ্তরে হওয়া এক সাংবাদিক বৈঠকে। অভিযোগে জানালেন, প্রধানমন্ত্রীর জনসভার মতো এতো গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে কোনো অ্যাম্বুলেন্স ছিলই না। এছাড়া দুর্ঘটনার পরও পুলিশের লাঠিচার্জে এবং ধস্তাধস্তিতেও বহুমানুষ পদদলিত হয়েছেন। ফোনে পশ্চিম মেদিনীপুরেরর পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এটা রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা মাফিক খুনের চক্রান্ত বলেই মন্তব্য করলেন সায়ন্তন বসু। তাঁর অভিযোগের যুক্তিতে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী যখন রাজ্যে আসেন তখন তাঁর নিরাপত্তার সমস্ত দায় রাজ্যসরকারের উপর বর্তায়। রাজ্যসরকারের অসচতেন আচরণের জন্যেই আজ এই দুর্ঘটনাটি হল। এর পাশাপাশি রাজ্যসরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় যুক্ত করেন আরো একটি তথ্য। জানান যে,সেদিন মেদিনীপুর শহরে পর্যাপ্ত পরিমান পুলিশও মোতায়েন করা হয়নি তৃণমূল সরকারের তরফ থেকে। শহরের যেকোনো যায়গায় সেদিন বড় দুর্ঘটনা হতে পারতো।

উল্লেখ্য,দুর্ঘটনা ঘটার পরেরদিন সকালে মেদিনীপুর শহরে দেখা পাওয়া গেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও এসপিজির-তদন্তকারী দলের। সার্কিট হাউজে বসে জেলা প্রশাসন,পুলিশ এবং বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বরা এ ব্যাপারে বৈঠকও করেন। রাজ্য বিজপির শীর্ষ নেতৃত্ব দিলীপ ঘোষ জাতীয় বিজেপি সুপ্রিমো অমিত শাহকে ফোনে দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে জানিয়েছিলেন লাগাতার বৃষ্টির জেরেই সামিয়ানা ভেঙে পড়েছিলো। মাত্রাতিরিক্ত মানুষ কাঠামোর উপর ওঠায় ভার সামলাতে না পেরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ওটা। পুলিশের কোনো ব্যারিকেডও ছিল না। এটাও দুর্ঘটনা ঘটার একটা কারণ। অন্যদিকে,জানা যাচ্ছে মেদিনীপুরেরর কলেজ মাঠের অস্থায়ী কাঠামোর নমুনা সংগ্রহ করে ফেলেছেন ইতিমধ্যে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে লোহার কাঠামোর গলদ ধরা পড়েছে। তবে বিজেপির সাধারণ সম্পাদকের তরফ থেকে এই ইস্যুর সম্পূর্ণ অভিযোগ রাজসরকারের উপর চাপিয়ে দেওয়ায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ নবান্ন কর্তারা। যদিও এ ব্যাপারে এখনো তাঁরা কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া করেন নি,তবে এটা নিয়ে দলীয় অন্দরেই একপ্রস্থ চাপানউতোর চলছে,এমনটাই জানা যাচ্ছে রাজনৈতিক সূত্রের খবর থেকে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!