এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > মতুয়াদের জন্য বড় ঘোষণা করতে ঠাকুরনগরে প্রধানমন্ত্রী, চূড়ান্ত চমক দিয়ে মঞ্চে থাকতে পারেন ‘বড়মা’

মতুয়াদের জন্য বড় ঘোষণা করতে ঠাকুরনগরে প্রধানমন্ত্রী, চূড়ান্ত চমক দিয়ে মঞ্চে থাকতে পারেন ‘বড়মা’

মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক কার দখলে থাকবে তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল বনাম বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে। সম্প্রতি মতুয়া মহাসঙ্ঘের বড়মা বীনাপানি দেবীর জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে ঠাকুরবাড়িতে এসেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনকি বড়মার জন্মদিন অনুষ্ঠানও ধুমধাম করে আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং বীণাপাণি দেবীও।

কিন্তু রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে এইভাবে মতুয়া মহাসঙ্ঘে গিয়ে বার বার মতুয়া ভোটব্যাংক দখল করার চেষ্টা করলে কেন পিছিয়ে থাকবেন তাঁরা? তাই এবারে সেই মতুয়াদের ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দখলে রাখতে মতুয়ার ব্যানারে ঠাকুরনগরে আসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর এই ঘটনাকে রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বর্তমানে এই ঠাকুরবাড়ি দুটি রাজনৈতিক ভাগে বিভক্ত।

গত 2011 র বিধানসভা নির্বাচনে গাইঘাটা বিধানসভায় বড়মা বীনাপানি দেবীর ছোট ছেলে মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরকে তৃণমূল প্রার্থী করলে তিনি নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় তাকে মন্ত্রী পদ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি গত 2014 র লোকসভা নির্বাচনে এই মঞ্জুলকৃষ্ণের দাদা কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরকে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করলে তিনিও ঘাসফুলের টিকিটের নির্বাচিত হন। কিন্তু হঠাৎই সেই বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরের মৃত্যু হলে সেই ঠাকুরবাড়িতে থাবা বসায় পদ্ম শিবির।

কপিলকৃষ্ণের মৃত্যুতে সেই বনগাঁ লোকসভা আসনটি ফাঁকা হলে গাইঘাটার তৃণমূল বিধায়ক মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর রাজ্যের মন্ত্রী পদ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং সেখানে সেই মঞ্জুলকৃষ্ণের ছেলে সুব্রত ঠাকুর বিজেপির প্রার্থী হন। অপরদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রার্থী করা হয় সেই ঠাকুর পরিবারেরই প্রয়াত কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরের স্ত্রী মমতাবালা ঠাকুরকে। অবশেষে এই বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রটি নিজেদের হাতেই রাখে শাসক দল।

কিন্তু এবারে সম্প্রতি মতুয়াদের জন্য কারা বেশি তৎপর তা নিয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল বনাম বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে তীব্র দড়ি টানাটানির সৃষ্টি হয়। কিছুদিন আগেই মতুয়া মহাসঙ্ঘের বড়মা বীনাপানি দেবীর জন্ম শতবর্ষ অনুষ্ঠান উদযাপনে সেই গাইঘাটার ঠাকুরনগরে আসে এসে বড়মা কে পাশে বসিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এবারে সেই মতুয়াদের ভোট পেতে সেই ঠাকুরনগরকে টার্গেট করেছে বিজেপিও।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, আগামী 28 শে জানুয়ারি এই ঠাকুরনগরে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইতিমধ্যেই ঠাকুর পরিবারের অন্যতম সদস্য শান্তনু ঠাকুর সারা ভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে এই ব্যাপারে একটি চিঠিও দিয়েছেন। আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সেই সভাতেও যাতে বড়মা বীণাপাণি দেবী উপস্থিত থাকতে পারেন সেই ব্যাপারেও চলছে জোর চেষ্টা।

কিন্তু সত্যিই কি বড়মা অসুস্থ শরীর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সেই সভায় উপস্থিত হবেন? এদিন এই প্রসঙ্গে ঠাকুর পরিবারের সদস্য তথা বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুর বলেন, “বড়মাকে আমরা আমন্ত্রণ করব। কিন্তু ওনার বয়স হয়েছে। ওনাকে মঞ্চে তোলা নিয়ে তৃণমূল গণ্ডগোল করতে পারে। তাই আমরা এব্যাপারে কোন টানাহেঁচড়া করব না।”

অন্যদিকে বড়মার মঞ্চে থাকার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে তারই বড় বৌমা তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলেন, ওরা (শান্তনু ঠাকুর ও বিজেপি) তো বড়মার খোঁজও রাখে না। এখন ওনাকে নিয়ে যাওয়া মানে তো জোর করা হবে। জানি না ওরা কি করবে।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক মতুয়া মহাসঙ্ঘের বড়মা বীনাপানি দেবীর ওপরই নির্ভর করে। তাই সেই বীণাপাণি দেবীকে তৃ নিজেদের মঞ্চে রাখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বীণাপাণি দেবী মোদির সভায় হাজির হন কিনা এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!