এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > মাওবাদী হানায় মৃতদের পরিবারকে চাকরির দাবিতে বড়সড় আন্দোলন শিলদায়

মাওবাদী হানায় মৃতদের পরিবারকে চাকরির দাবিতে বড়সড় আন্দোলন শিলদায়

একসময় মাওবাদীদের সন্ত্রাসে উত্যক্ত থাকতো যেসব এলাকা,এবার সেসব যায়গায় মাওবাদী আক্রান্ত মানুষেরাই উত্তেজনা বাড়িয়ে পথে নামলেন। স্থান ঝাড়গ্রামের শিলদা। মাওবাদী হানায় নিহত এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবাররা এদিন শিলদার ৫ নম্বর রাজ্য সড়ক অবরোধ করলেন। দাবী, মাওবাদীদের হামলার জেরে মৃত এবং নিখোঁজ পরিবারের একজনকে চাকরি দিতে হবে। এছাড়াও,নিখোঁজদের মৃত ঘোষণা করতে হবে। অবিলম্বে তাঁদের দাবী না মানা হলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা,এমনটাই হুঁসিয়ারী দিলেন রাজ্য সরকারকে। ইতিমধ্যে বিক্ষুব্ধরা শহীদ এবং নিখোঁজ পরিবারের যৌথমঞ্চও তৈরি করেছেন দাবী আদায়ের জন্য।

বাম আমলে ঝাড়গ্রাম ছিল মাওবাদ অধ্যুষিত এলাকা। মাওবাদী সক্রিয় কার্যকলাপ এলাকাবাসীর নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল। কত মানুষ এদের হামলার জেরে খুন হয়েছে,কত মানুষের তো এখনো খোঁজও পাওয়া যায়নি। তৎকালীন বিরোধী শিবিরের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য থেকে মাওবাদের চিহ্ন মুছে ফেলেতে নিয়েছিলেন অভিনব রণকৌশল। তাঁর কথায় ভরসা করেই অনেক মাওবাদীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের শাস্তি কমিয়ে জীবনের মূলস্রোতে ফিরিয়েছে। এমনকি তাঁরা যাতে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে তার জন্য সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করে দিয়েছে। সেইসঙ্গে মাওবাদী আক্রমণের নিহতদের পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সে কথা রাখেননি তিনি। হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া কেউই চাকরি পাননি। তাছাড়া মাওবাদীরা যাদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল,আট-দশ বছর পেরিয়ে গেলেও সেসব মানুষের কোনো হদিশ পাওয়া যায়নি। এই প্রক্ষিতের সেসব নিখোঁজ ব্যক্তিদের মৃত বলে ঘোষণার দাবী তুললেন যৌথমঞ্চের সম্পাদক শুভঙ্কর মন্ডল। সঙ্গে এটাও জানালেন,’মাওবাদী হানায় যাঁরা মারা গিয়েছেন তাদের পরিবারকে চাকরি দিতে হবে।’

পরিসংখ্যান বলছে,ঝাড়গ্রাম জেলায় মাওবাদীদের হানায় নিহত হয়েছেন ৩৪৩ জন,আহত প্রায় ১০০ জন এবং ৮০ জনের কোনো খোঁজই পাওয়া যায়নি। এদিন সকালে প্রথমে বেলপাহাড়ি এলাকায় প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন সহযোগে মিছিল শুরু হয়। মহিলারা সাদা ও কালো শাড়ি পড়ে প্রতিবাদ মিছিলে হাঁটেন। পরিকল্পনামাফিক দুপুর সাড়ে ১২ টা থেকে ২.৩০ অব্দি শিলদা মোড়ে ৫ নম্বর রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। সেখানেই মাওবাদী হানায় মৃত এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদেট জন্য স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। গত জুন মাসেই ঝাড়গ্রামে মিছিল করে তাঁরা জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের দাবীদাওয়া গুলোর ব্যাপারে কোনো হেলদোল নেই রাজ্যসরকারের। শুভঙ্কর বাবুর প্রশ্ন,যারা মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকল তাদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন,তাদের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনলেন। তাহলে যারা মাওবাদী হানায় ভুক্তভোগী তারা বঞ্চিত হবে কেন? তাই অবলম্বে তাদের দাবীদাওয়াগুলো মেটানো না হলে ২৯ অক্টোবর থেকে লাগাতার আন্দোলনের পথে নামার সংকল্প নিয়েছেন তারা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

বললেন,ওই মহিলারা রাস্তায় থালা হাতে নিয়ে পথে নামবেন। উল্লেখ্য, জঙ্গলমহল তৃণমূলের প্রাণকেন্দ্র। পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের শক্তিশিবিরেই জয়ের পতাকা উড়েছিল বিজেপি। সেখান থেকেই মমতা-বিরোধী মিছিল পথে নামলে জঙ্গলমহলে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ফের প্রভাব ফেলতে পারে বিজেপি,এমনটাই আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!