এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > লোকসভা ভোটে বিজেপির হাত শক্ত করে ঘুম উড়িয়ে দিতে পারেন অনেক নেতা- নেত্রীই, “গদ্দারদের” চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া শুরু তৃণমূলের

লোকসভা ভোটে বিজেপির হাত শক্ত করে ঘুম উড়িয়ে দিতে পারেন অনেক নেতা- নেত্রীই, “গদ্দারদের” চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া শুরু তৃণমূলের

একদা তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী তথা তৃণমূলের একসময়কার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বলে পরিচিত মুকুল রায় ঘাসফুল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরের পতাকা হাতে ধরার পরই মুখে স্বীকার না করলেও আড়ালে আবডালে প্রায় শাসক দলের অনেক নেতাকেই স্বীকার করে নিতে দেখা যায় যে হয়তো বা সেই মুকুল রায়ের হাত ধরেই তৃণমূলের ভাঙ্গন ধরবে। আর তৃনমূলের আশঙ্কাধারী সেই সমস্ত নেতাদের আশঙ্কাকে সত্যি করে কিছুদিন আগেই বিষ্ণুপুরের তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁকে বিজেপিতে যোগদান করিয়ে কার্যত মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। আর সৌমিত্র খাঁর বিজেপিতে যোগদানের পরেই মুকুল রায় দাবি করেছিলেন, “অপেক্ষা করুন, আরও অনেক চমক রয়েছে।”

আর এবার মুকুল রায়ের সেই দাবিকে ঘিরেই শাসক দল তৃনমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গের কোচবিহার আলিপুরদুয়ার, মালদহ এবং দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, নদীয়া, হুগলি এবং কলকাতার বেশ কয়েকজন শাসকদলের নেতা নেত্রী আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে জল মাপতে শুরু করেছেন। এমনকি তাঁদের মধ্যে অনেকেই বিজেপি নেতাদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ এবং কলের মাধ্যমে যোগাযোগও রাখছেন বলেও খবর। আর শাসকদলের এই সমস্ত নেতা, নেত্রীরা বিজেপির এক বাঙালি এবং অবাঙালি নেতার সঙ্গে বার্তালাপ চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

বিজেপির দাবি, তৃণমূলের বর্তমান তিন সাংসদের সঙ্গে তাঁদের সমস্ত কথা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। যার মধ্যে একজন উত্তরবঙ্গের এবং দুজন দক্ষিণবঙ্গের (তারমধ্যে একজন আবার মহিলা সাংসদ)। আর এখানেই একাংশের প্রশ্ন, তাহলে কি আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে ভাঙন ধরিয়ে শাসকদলের হেভিওয়েট নেতা, সাংসদদের বিজেপিতে যোগদান করাতে সক্ষম হবেন মুকুল রায়! বিজেপির দাবি, “অপেক্ষা করুন। সময় মতো সব দেখতে পাবেন।” কিন্তু বিজেপি এই ব্যাপারে নিজেদের সমস্ত রণকৌশল চালালেও ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে বেশ সাবধানী ঘাসফুল শিবিরের অন্দরমহল।

তৃণমূল সূত্রের খবর, আগামী ২৫ শে ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলের কোর কমিটির বৈঠক থেকেই সেই বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা দলের ‘গদ্দারদের’ চিহ্নিত করা এবং নিষ্ক্রিয় করার বিষয়টি নিয়ে বার্তা দেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে যে সমস্ত সাংসদেরা এলাকায় জনসমর্থন অটুট রাখতে পারেননি, তাঁদের এবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে। আর যে সমস্ত ব্যক্তিদের তৃণমূল তাঁদের প্রার্থী তালিকায় রাখবে না, তাঁরাই বিজেপির দিকে যেতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

তবে এহেন মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, “এই রাজ্যে প্লাস মমতা আর মাইনাস মমতার পার্থক্য কি তা প্রায় সকলেই জানেন। আসলে বিজেপি টাকা দিয়ে আর ভয় দেখিয়ে দল ভাঙানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু ওদের সেই চেষ্টা কোনদিনই সফল হবে না।” কিন্তু, তৃণমূলের এই দাবি সত্যিই কি যুক্তিযুক্ত! নাকি কিছুদিন পরেই তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা, মন্ত্রীরা সৌমিত্র খাঁর পথেরই পথিক হবেন! তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। তবে শেষ পর্যন্ত ঠিক কি হয় এখন তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!