এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > উপনির্বাচনে জোটের ভরাডুবি! একাধিক হেভিওয়েট নেতা পা বাড়াচ্ছেন বিরোধী শিবিরে!

উপনির্বাচনে জোটের ভরাডুবি! একাধিক হেভিওয়েট নেতা পা বাড়াচ্ছেন বিরোধী শিবিরে!

লোকসভা নির্বাচন থেকে রাজ্যে দলবদলের হিড়িক শুরু হয়েছিল। 2019 এর লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি কিছুটা ভালো ফলাফল করার পর তৃণমূল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে বিজেপিতে যোগদানের হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। আর এবার রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফলে তৃণমূল জয়লাভ করায় বিরোধী দল থেকে তৃণমূলে যোগদানের খবর পাওয়া গেল। সূত্রের খবর, এবার উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলায় কংগ্রেস এবং সিপিএম থেকে একাধিক নেতার তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, কংগ্রেসের ডালখোলা টাউন কমিটির সভাপতি জাভেদ আলম এবং সিপিএমের ডালখোলা এরিয়া কমিটির সদস্য তথা 12 নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর আব্দুল হালিম সহ অন্যান্যদের ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখানোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যা নিয়ে এখন উত্তর দিনাজপুর জেলায় তৈরি হয়েছে গুঞ্জন। আর কংগ্রেস এবং সিপিএমের এই দুই হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব যদি দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন, তাহলে তৃণমূল এখানে অত্যন্ত শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বস্তুত, কংগ্রেসের যে জাভেদ আলমকে নিয়ে জল্পনা চলছে, সেই জাভেদ আলমের বাবা সারাফত হোসেন কংগ্রেস সরকারের আমলে গোয়ালপোখরের বিধায়ক ছিলেন। অন্যদিকে তার জেঠু হাজি সাজ্জাদ হোসেন করণদিঘির বিধায়ক ছিলেন। সেদিক থেকে ডালখোলায় এই জাভেদ আলমের পরিবারের একটা গুরুত্ব রয়েছে। তাই তার মতো ব্যক্তিত্ব যদি তৃণমূলে যোগদান করে, তাহলে তৃণমূলের অত্যন্ত ভালো হবে বলেই মত একাংশের। অন্যদিকে সিপিএমের আব্দুল হালিম দলে আসা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূলকে কিছু শর্ত দিয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সেক্ষেত্রে পৌরসভা নির্বাচনে টিকিটের দাবি করেছেন তিনি। কিন্তু তৃণমূলের একটা অংশ এই ব্যাপারে প্রবল আপত্তি জানাচ্ছেন। তবে এই ব্যাপারে তার কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন সিপিএমের আব্দুল হালিম। কিন্তু যদি এই দুই দলের দুই হেভিওয়েট নেতা দল ছাড়েন, তাহলে কি এখানে কংগ্রেস এবং সিপিএমের ভিত আরও দুর্বল হবে? এদিন এই প্রসঙ্গে সিপিএমের ডালখোলা এরিয়া কমিটির সম্পাদক রাম বিশ্বাস বলেন, “আমার এমন কোনো খবর জানা নেই।”

অন্যদিকে এই ব্যাপারে উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, “জাভেদ ও ডালখোলার আরও একজন তৃণমূলের যাবে বলে আমি শুনেছি। আমার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। কেউ চলে গেলে তো ধরে রাখা যাবে না।” তবে কংগ্রেস এবং সিপিএমের এই দুই নেতাকে দলে গ্রহণ করার ব্যাপারে কি বলছে তৃণমূল নেতৃত্ব? এদিন এই প্রসঙ্গে ডালখোলা টাউন তৃণমূলের সভাপতি তনয় দে বলেন, “তারা যদি দলে আসেন, তাহলে আমাদের দল শক্তিশালী হবে। কিন্তু কাউকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেওয়া হবে না।”

অন্যদিকে এই ব্যাপারে তৃণমূলের উত্তর দিনাজপুর জেলার সভাপতি কানাইলাল আগরওয়াল বলেন, “কালিয়াগঞ্জ উপনির্বাচনে এতদিন ব্যস্ত ছিলাম। কিছুদিনের মধ্যে ডালখোলায় যোগদান কর্মসূচি নেওয়া হবে।” বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যোগদান কর্মসূচির পেছনে যদি সব থেকে বড় কোনো কারণ থাকে, তাহলে তা উপনির্বাচনে তৃণমূলের জয় এবং ঢাকঢোল পিটিয়ে করা বাম-কংগ্রেস জোটের ভরাডুবি।

আর সেই তৃণমূলের জয় দেখেই এবং বিরোধীদের কুপোকাত হয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখেই বিরোধী দলের এই দুই হেভিওয়েট নেতা তৃণমূলে পা বাড়ানোর লাইনে রয়েছেন বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের তৃণমূলে যোগদান সুসম্পন্ন হয় কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। তবে, ২০১৬-এর পর আবার বাম-কংগ্রেস জোট হওয়ায় অনেকেই আশাবাদী ছিলেন ভালো ফলের – কিন্তু, বাস্তবে তা না হওয়ায় এবং মানুষ জোটকে ভয়াবহভাবে প্রত্যাখ্যান করায় অনেক জোট নেতাই এবার হয় তৃণমূল অথবা বিজেপির দিকে পা বাড়াচ্ছেন বলে সূত্রের খবর।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!