এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি যেতেই পাল্টা রণকৌশলে একঝাঁক হেভিওয়েটকে ‘বিশেষ কাজে’ পাঠাচ্ছে বিজেপি

মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি যেতেই পাল্টা রণকৌশলে একঝাঁক হেভিওয়েটকে ‘বিশেষ কাজে’ পাঠাচ্ছে বিজেপি

প্রিয় বন্ধু মিডিয়া এক্সক্লুসিভ – রাজ্য-রাজনীতিতে এই মুহূর্তে অন্যতম চর্চিত বিষয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারেবারে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার জিগির তুলে কোনো কেন্দ্রীয় বৈঠকে নিজে তো উপস্থিত হনই না, নিজের কোনো প্রতিনিধিকেও যেতে দেন না – তিনিই হঠাৎ করে রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন! এই একটি ঘটনাতেই চমকে যাচ্ছে রাজ্য রাজনীতি।

বিশেষ করে, লোকসভা নির্বাচনের সময় নরেন্দ্র মোদিকে যে ভাষায় তিনি আক্রমন করেছিলেন – কখনো ‘গণতন্ত্রের থাপ্পড়’ মারতে চেয়ে, কখনো কান ধরে ওঠবস করতে চেয়ে তো কখনো মাটি-কাঁকরের মিষ্টি খাইয়ে – তারপর এই পদক্ষেপ চমক তো জাগাবেই। তার থেকেও বড় কথা লোকসভা নির্বাচনের আগের ‘রনং দেহি’ মূর্তি কিন্তু লোকসভায় ভরাডুবির পরেও ছাড়েননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহকে কাঠগড়ায় তুলে এখনও তাঁর বাক্যবাণ অব্যাহত!

ফলে, অধীর চৌধুরী থেকে সুজন চক্রবর্তী, বাবুল সুপ্রিয় থেকে দিলীপ ঘোষ – সকলেই ইঙ্গিতবাহী ভাবে বলে চলেছেন, সিবিআই অফিসাররা রাজীব কুমারের পিছনে ‘হাত ধুয়ে পড়ার’ ফলেই কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়া! রীতিমত খোঁচা দিয়ে তাঁদের উক্তি – শুধু রাজীব কুমারই নয় – তাঁর একাধিক ‘ভাই ও আত্মীয়দের’ বাঁচাতেই নাকি তিনি দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করছেন। যদিও দিল্লি যাত্রার আগে মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলে গেছেন – তিনি রাজ্যের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে দরবার করতেই যাচ্ছেন।

কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রীর এই দিল্লি সফর ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকে কি সহজভাবে নিচ্ছে না রাজ্য বিজেপি? এই সফরের পিছনে কি অন্য কোনো ‘তাৎপর্য’ খুঁজে পাচ্ছেন বঙ্গ-বিজেপির নেতারা? এই জল্পনা চরমে উঠেছে – কেননা আগামীকাল সকালে আপৎকালীন ভিত্তিতে দিল্লি রওনা হচ্ছেন একঝাঁক হেভিওয়েট বিজেপি নেতা। সেই তালিকায় নাম রয়েছে – মুকুল রায়, অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁ, নিশীথ প্রামানিক, ভারতী ঘোষ, অনুপম হাজরা ও শঙ্কুদেব পণ্ডার।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

আপাতত এই কটি নাম জানা গেলেও – এই তালিকা দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। সব থেকে বড় কথা – এই তালিকায় যাঁদের নাম পাওয়া যাচ্ছে, তাঁরা কিন্তু প্রত্যেকেই তৃণমূল ত্যাগী! ফলে, মমতা বান্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে কিন্তু এঁরা প্রত্যেকেই ওয়াকিবহাল? তাই কি ‘বিশেষ কিছু’ আঁচ করতে পেরেই জরুরি ভিত্তিতে দিল্লি পারি দিচ্ছেন মুকুল অ্যান্ড ব্রিগেড? এই প্রসঙ্গে মুকুলবাবু নিজে অবশ্য সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরকে তিনি খুব সদর্থক ভাবেই নিয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে মুকুলবাবু জানিয়েছেন, রাজ্যের উন্নতির স্বার্থে যদি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন – সেটা তো খুবই ভালো। এর মধ্যে অনর্থক রাজনীতি খুঁজতে যাওয়ার কোনো অর্থ হয় না। কিন্তু, তাহলে হঠাৎ করে একসাথে এতজন প্রাক্তন তৃণমূলী দিল্লিতে ঘাঁটি গাড়ছেন কেন? তাও আবার মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরের দিনই! সবথেকে বড় কথা মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন দিল্লিতে ১৮৩ নম্বরে, যার পুরো সুরক্ষার দায়িত্বে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশ।

আর বিজেপির হেভিওয়েট ব্রিগেড থাকতে চলেছেন তারই পাশের ১৮১ নম্বরে – যেখানে ইতিমধ্যেই সাজো সাজো রব পরে গেছে। বিশেষ সুরক্ষা বলয় তৈরী করেছে দিল্লি পুলিশ! সবটাই কি কাকতলীয়? মুকুলবাবুর উত্তর, আমরা ব্যক্তিগত কিছু কাজে দিল্লি যাচ্ছি! কি সেই ব্যক্তিগত কাজ? ভেঙে বলেননি পোড়খাওয়া এই রাজনীতিবিদ। তবে, বিনা কারণে মুকুল রায় যে কোনো কিছুই করেন না – তা আর জানতে বাকি নেই কারোরই। আর তাই, এই ‘ব্যক্তিগত কাজের’ মধ্যেই বড়সড় ইঙ্গিত পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

মুকুলবাবু বা অন্য বিজেপি নেতা এই নিয়ে মুখ খুলতে না চাইলেও – আমাদের বিশেষ গোপন সূত্র বলছে, বড় ‘কিছুর’ ইঙ্গিত পেতেই আর কোনও ঝুঁকি না নিয়ে দিল্লি পারি দিচ্ছেন একদিন তৃণমূলের ঘর করা এই নেতারা। সূত্রের খবর, আগামীকাল ১৮১ নম্বরে দফায়-দফায় বৈঠকে বসতে চলেছেন এই নেতারা। থাকতে পারেন একাধিক কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্বও। এমনকি, বিজেপি বা কেন্দ্র সরকারের বিশেষ বিশেষ কোনো নেতা বা মন্ত্রীর সঙ্গেও গিয়ে দেখা করে আলাদা আলাদা ভাবে বৈঠক করতে পারেন এঁরা!

ফলে ১৮১ ও ১৮৩ নম্বর বাংলো ঘিরে দিল্লিতে এখন থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতা! বাংলা রাজনীতির এক মেগা পর্বের সাক্ষী হতে চলেছে এই দুই বাংলো বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে বঙ্গ-রাজনীতির গুরুত্ত্বপূর্ন চররিত্রদের ঘিরে আগামীকাল দিনভর থাকবে টানটান উত্তেজনা। কোন দিকে খেলা ঘোরে বা দিনের শেষে শেষ কূটনৈতিক চালটা কোন শিবির থেকে বেরোয় সেদিকেই এখন নজর আমজনতার। কিন্তু, মুকুল রায় শিবির যে সহজে কোনো পক্ষকে বাজিমাত করতে দেবে না – সেকথা নিয়ে এখন থেকেই নিশ্চিত বঙ্গ রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!