এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে বড়সড় সিদ্ধান্ত গেরুয়া শিবিরের! এবার বহিষ্কৃত হতে চলেছেন একঝাঁক নেতা!

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে বড়সড় সিদ্ধান্ত গেরুয়া শিবিরের! এবার বহিষ্কৃত হতে চলেছেন একঝাঁক নেতা!

লোকসভায় বিজেপি বাংলায় ভালো ফল করলেও, যত দিন যাচ্ছে, ততই বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে বিজেপির মন্ডল সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলায় জেলায় তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। যেখানে বিভিন্ন জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মন্ডল সভাপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি করা হয়েছে বলে দাবি করছে দলের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় জেলায় নব্য বনাম আদি বিজেপি নেতা কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে সংঘর্ষও।

আর এই পরিস্থিতিতে লোকসভায় সাফল্য পাওয়া গেরুয়া শিবির যদি বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করার আগে নিজেদের শৃঙ্খলা অটুট রাখতে না পারে, তাহলে যে তা তাদের পক্ষে অত্যন্ত ভয়ংকর হবে, তা বুঝতে পেরেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। আর তাইতো এবার বিদ্রোহীদের কাবু করার মত সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গেল ভারতীয় জনতা পার্টিকে। দলের অনুশাসন মেনে না চললে দল যে কাউকে রেয়াত করবে না, তা প্রমাণ করে দিল বিজেপি।

বস্তুত, বহুদিন আগে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি পদ থেকে রতন দত্তকে সারিয়ে অন্তরা ভট্টাচার্যকে সভাপতি করা হয়। আর সেই সময় থেকেই প্রাক্তন বনাম বর্তমানের দ্বন্দ্ব শুরু হয় এখানে। সম্প্রতি মন্ডল সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেই বিবাদ আরও চরমে পৌঁছয়। অভিযোগ, গত 29 নভেম্বর দুপুরে ডেবরায় বিজেপি জেলা অফিসে এসে বেশকিছু বিজেপির নেতা কর্মী মন্ডল সভাপতি নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।

যেখানে জেলা সভানেত্রী অন্তরা ভট্টাচার্যের গাড়িও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। আর এই পরিস্থিতিতে দলের ভেতরকার কোন্দল বাইরে বেরিয়ে আসায় এবার সেই বিক্ষোভকারী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল বিজেপি নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার 23 জন নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করল বিজেপি। জানা যায়, বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছে সবং পঞ্চায়েতের সদস্য শংকর ঘোড়াই, মহিলা মোর্চার জেলা সভাপতি শোভা সাতরা, ডেবরার 14 জন, পিংলার 7 জন এবং সবংয়ের দুইজন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সোমবার এই প্রসঙ্গে সেই 23 জনকে বরখাস্ত করে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভানেত্রী অন্তরা ভট্টাচার্য বলেন, “রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে দল বিরোধী কাজের জন্য 23 জনকে বরখাস্ত করা হল। রাজ্য নেতৃত্ব পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশ বহাল থাকবে। তবে দলের কেউ যদি বহিষ্কৃতদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও দল ব্যবস্থা নেবে।” কিন্তু কেন এই বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হল?

তাহলে কি শুধুমাত্র মন্ডল সভাপতি দিয়ে তাদের আপত্তি এবং বিক্ষোভের জন্যই নেতাকর্মীদের বহিষ্কার হতে হল! এদিন এই প্রসঙ্গে অন্তরাদেবী বলেন, “রাজ্য নেতা সায়ন্তন বসুর উপস্থিতিতেই রবিবার এই নেতাকর্মীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পার্টি অফিসটি ভাড়া বাড়িতে রয়েছে। হামলাকারীরা বাড়ির মালিকের অংশ ভাঙচুর করে। লুটপাট চালানো হয়। এই ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে দলের বদনাম হয়েছে। তাই দল এই কড়া সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।”

তবে অন্তরা ভট্টাচার্য্য 23 জন নেতাকর্মীকে বরখাস্ত করলেও, তা আদতে তার বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা রতনবাবুকে বার্তা দেওয়ারই শামিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। যদিওবা এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন জেলা সভাপতি রতন দত্ত বলেন, “যারা সেদিন এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তারা অন্যায় করেছেন। তবে দলীয় নেতৃত্বদের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত ছিল। এভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হয়নি। যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তারা সকলেই পুরনো দিনের কার্যকর্তা।”

তিনি আরও বলেন, “তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। আমি মনে করি, এই সিদ্ধান্ত দলের গঠনতন্ত্রের ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্যজনক। এরকম চলতে থাকলে আগামী দিনে দল কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটাই চিন্তার বিষয়।” আর অন্তরা ভট্টাচার্যের পক্ষ থেকে দলের নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রাক্তন সভাপতি রতন দত্ত মুখ খোলায় বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও বৃদ্ধি পেল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ফলে সেদিক থেকে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করার মতো সিদ্ধান্ত নিলেও আদৌ দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কমে কিনা, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের। বিশেষ করে লোকসভায় রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড়ের পর, বিজেপি নেতা-কর্মীরা মনে করছিলেন সহজেই বিধানসভায় জয় এসে যাবে। কিন্তু, ৩ উপনির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়তেই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চরমে উঠেছে। সেইসব মিটিয়ে দলকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসায় এখন রাজ্য নেতাদের এক ও একমাত্র লক্ষ্য হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!