এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > “কোথায় যাব আর কোথায় থাকব জানি না।” বিজেপির উত্থানে দাবি মানস ভূঁইয়ার

“কোথায় যাব আর কোথায় থাকব জানি না।” বিজেপির উত্থানে দাবি মানস ভূঁইয়ার

পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে না বাঁচতেই লোকসভা ভোটের প্রস্তুতি শুরু করতে হল। হাতে গোনা আর কয়েকটা দিনই মাত্র বাকি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী যুদ্ধের। তাঁর আগেই নিজেদের সংগঠন মজবুত করার কাজে কোমর বেঁধে লেগে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল। পঞ্চায়েত নির্বাচনে আশানুরূপ ফল করতে পারেনি এবার তাঁরা। বেশ কয়েকটি জায়গাতেই বিরোধীদের দাপটে কোনঠাসা হতে হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। বিশেষ করে বঙ্গে বিজেপির উত্থান নিয়ে এই মুহূর্তে সবথেকে বেশি চাপে রয়েছে রাজ্যের শাসকদল।সম্প্রতি জাতীয় বিজেপি সেনাপতি অমিত শাহ বঙ্গ সফরে এসে আবার লোকসভা ভোটে ২২ টি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দাবী করে গেছে রাজ্যের পদ্মশিবিরের কাছে। এছাড়ায় দফায় দফায় মোদীজির দূতেরা এসে রাজ্য বিজেপির সংগঠন চাঙ্গা করে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় রাজ্য বিজেপি সংগঠনের থেকে নিজেদের বেশি শক্তিশালী করে তুলতে মরিয়া রাজ্যের শাসকদল। তাই লোকসভা ভোটকে টার্গট করে জন সংযোগের কাজটি ইতিমধ্যই শুরু করে দিয়েছেন রাজ্যের তৃণমূল নেতৃত্বরা।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

 এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

২১ জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে ধর্মতলা চত্বরে আয়োজন করা হয়েছে তৃণমূলের জনসভা।  তার আগেই সভা প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের ডাকে শহরের রবীন্দ্র ভবনে “২১ জুলাই শহীদ স্মরণে ধর্মতলা চলো” প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো। এই অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ছিলেন সাংসদ মানস ভুঁইয়া l এছাড়াও এই সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো, মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু, সাংসদ মৃগাঙ্ক মাহাতো, বিধায়ক উমাপদ বাউরী, বিধায়ক পূর্ণচন্দ্র মাহাতো, জেলা যুব সভাপতি সুশান্ত মাহাতো সহ জেলার বহু তাবড় তারড় নেতৃত্বরা l শহীদ আদিত্য সিং মল্ল কে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এই সভা শুরু করা হয়। অনুষ্ঠানে কাতারে কাতারে ভীড় করেছিলো মানুষ।

অনুষ্ঠানটি ধর্মতলায় জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানোর আর্জি নিয়েই করা হয়েছিলো। প্রধাণ বক্তা তৃণমূলের বিশিষ্ট নেতা মানস ভুঁইয়ার বক্তব্যেও ধরা পড়ল এমনই ইঙ্গিত। তিনি এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে কর্মীদের সচেতন হতেও বার্তা দিয়ে আসেন। বলেন,সদস্যদের বলেন, “আপনারা সচেতন থাকুন। কিন্তু আপনারা যদি চকচকে মাড় দেওয়া পাঞ্জাবি, কটকটে জিনসের প্যান্ট, ঠকঠকে মাথা এবং রুক্ষ্ম কথাবার্তা নিয়ে চলেন, তাহলে কোথায় যাব আর কোথায় থাকব জানি না।” মঞ্চে উঠে সরাসরি বিজেপিকেই তোপ দেগে মন্ত্রী জানালেন যে বাংলা থেকে এবার একটা আসনও পাবে না বিজেপি। আগে তাঁরা কেন্দ্রের কুর্সি সামলাক,তারপর বাংলার দিকে নজর দেবেন। ঝাড়খন্ডের সীমান্তবর্তী প্রান্তিক মানুষগুলোকে ভুলভাল বুঝিয়ে আসছেন মোদীজি-অমিত শাহরা। এমনভাবেই বিজেপির বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন তিনি। পাশাপাশি এটাও জানান যে মানুষ যদি তৃণমূল সরকারের পাশে থাকে তাহলে একটা ভোটও বিজেপির পকেটে ঢুকবে না। একথা বলার পরই পুরুলিয়া জেলার প্রতিটি ব্লকের জেলা নেতৃত্বদের নির্দেশ দেন জেলার মানুষের চাহিদা পুরণ করতে। যে এলাকায় তৃণমূলের সমর্থন কম সেসব জায়গায় খোদ জেলার যুব সভাপতি সুশান্ত মাহাতোকে নজর দিতে বলেন মন্ত্রী। কোথায় কোন গলদ আছে তা খতিয়ে দেখে অবিলম্বে সংগঠন মজবুজ করার নির্দেশ দিলেন তিনি। এর পাশাপাশি আরো জানান যে লোকসভা ভোটের তৃণমূল প্রার্থীদের তিনি নিজে পরীক্ষা করে নেবেন এবার থেকে। এ প্রসঙ্গে তিনি জেলা নেতৃত্বকে পরামর্শ দেন কর্মীদের নিয়ে মাঠে হাঁটতে,পাড়ায় পাড়ায়ে যেতে। খোঁজ খবর নিতে কোন এলাকার কোন মানুষের কী সমস্যা সেগুলো খাতায় লিখে নিতে। এছাড়াও এমন কোনো বাড়ি আছে কিনা যাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৪৭ টি কর্মসূচি পাওয়ার কথা ছিল অথচ পায়নি,সেগুলিও তালিকাবদ্ধ করতে নির্দেশ দেন মন্ত্রী। পরে তিনি কর্মীদের এসব কাজের খতিয়ান তিনি পঞ্চায়েতত সমিতির সভাপতিদের কাছ থেকে নেবেন এমনটাও জানান তিনি।

এর পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তি দলের কাছে তুলে ধরার জন্য বক্তব্যে বলেন,”ওই দেখুন, আমাদের নেত্রীর দিকে। ১৫০ টাকার শাড়ি পরেন। সামান্য একটা চপ্পল পরে ঘুরে বেড়ান। আর একটা ছোট্ট গাড়িতে চাপেন। ভাবা যায়! আমি দলের সকল নেতাদের বলছি, রাতে বাড়ি ফিরে আয়নায় নিজের মুখটা দেখবেন। পাউডার মেখে নয়, একেবারে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে। কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন, সেটা নিজেরাই যাচাই করুন। পুরুলিয়া ভালোবাসার জায়গা, একে BJP-র হাতে রক্তাক্ত হতে দেবেন না। এটাই হোক ২১ জুলাই প্রস্তুতি সভার শপথ।” এরসঙ্গে রাজ্য সরকারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি এটাও জানান যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে রেশন ব্যবস্থারও আমূল পরিবর্তন হয়েছে। তিনি জানান যে,বিগত ৬ বছরে রাজ্য সরকার যে উন্নয়ন করেছে তা সত্যিই বিষ্ময়ের ব্যাপার। এদিনের অনুষ্ঠানে জনসমাবেশ দেখে তৃণমূল নেতৃত্বে আশা করছেন যে আগামী ২১-এর ধর্মতলার জনসভায় নজিরবিহীন ভীড় হবে। আপাতত এটা নিয়েই জোর প্রস্তুতি চলছে দলীয় অন্দরে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!