এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > মানস ভূঁইয়াকে ‘ক্লিনচিট’ দিলেন জয়দেব জানার স্ত্রী, বিতর্ক বাড়ালেন বিরোধীরা

মানস ভূঁইয়াকে ‘ক্লিনচিট’ দিলেন জয়দেব জানার স্ত্রী, বিতর্ক বাড়ালেন বিরোধীরা

২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে সবং কেন্দ্রে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন মানস রঞ্জন ভূঁইয়া। রাজ্যজুড়ে প্রবল তৃণমূল হাওয়ার মধ্যেও নিজের গড় ধরে রেখে প্রায় ৫০ হাজার ভোটে জিতে বিধায়ক হন মানসবাবু। কিন্তু নির্বাচনের আগেই সবংয়ে খুন হন তৃণমূল কর্মী জয়দেব জানা। তৃণমূল সেই সময় সরাসরি অভিযোগ আনে সেই খুনের পিছনে আছে মানস ভূঁইয়া স্বয়ং, মৃত তৃণমূল কর্মী জয়দেব জানার স্ত্রী প্রকাশ্যে মানস ভূঁইয়াকে ফাঁসি দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। রাজ্যে পুনরায় তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর সিআইডিও জয়দেব জানার খুনের তদন্তে আগ্রাসী হয়। কিন্তু এরপরেই হয় নাটকীয় পট পরিবর্তন। অধীর চৌধুরী ও আব্দুল মান্নানের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের জোয়ারে সঙ্গ দিতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন মানস ভূঁইয়া। যদিও বিরোধীরা কটাক্ষ করে বলতে থাকেন, জয়দেব জানা খুনের অভিযোগ থেকে বাঁচতেই শাসকদলে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন মানসবাবু।
আর তৃণমূলে যোগ দিয়েই একের পর ‘পুরস্কার’ পেয়ে চলেছেন মানস ভূঁইয়া। প্রথমেই তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করলেন দলনেত্রী। তাঁর ছেড়ে আসা সবং থেকে বিধায়ক হলেন তাঁর স্ত্রী গীতারানি ভূঁইয়া, এমনও গুঞ্জন বাতাসে যে আগামী লোকসভায় নাকি মানস-পুত্র এক ‘হেভিওয়েট’ দলীয় সাংসদের জায়গায় তৃণমূলের টিকিট পেতে চলেছেন। সব থেকে বড় ব্যাপার, তিনি শাসকদলে আসার পর জয়দেব জানা হত্যাকান্ড নিয়ে সিআইডির তৎপরতা বর্তমানে অন্তর্হিত বলে বিরোধীদের অভিযোগ।
আর এই পরিস্থিতিতে কি বলছেন এক বছর আগে মানস বাবুর ফাঁসির দাবিতে সরব হওয়া মৃত জয়দেব জানার স্ত্রী মানসী জানা? সবং উপনির্বাচনে জয়দেব জানার দুবরাজপুর বুথে জয়ী হয়েছেন শাসকদলের প্রার্থী। আর তারপর মানসী দেবীর বক্তব্য, মানস ভুঁইয়া তো নিজে আমার স্বামীকে খুন করেননি, কংগ্রেস ও সিপিএমের লোকেরা খুন করেছিল। এখন মানসদা আমাদের দলে এসেছেন, দলীয় প্রার্থী গীতাদি জয়ী হয়েছেন, আমি খুশি। এখন বুঝি এক বছর আগে ফাঁসির দাবি করেছিলাম, সে সব ভুল ছিল। ভোটের আগে মানসদার সঙ্গে কথা বলেছিলাম, আমার একার রোজগারে সংসার চালানো কঠিন। ছেলের কাজের ব্যবস্থা করবেন, বলেছেন মানসদা, গীতাদি জয়ী হওয়ায় আশা বাড়ছে। তবে স্বামী হারানোর সব দুঃখ মনে চাপা রয়েছে। প্রসঙ্গত, ডেবরা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে অস্থায়ী কর্মীর কাজ পেয়েছেন মানসীদেবী, জেলা পরিষদের টাকায় পাকা বাড়িও করছেন বলে জানিয়েছেন। উপনির্বাচনের পরে বড় ছেলে সরোজের কাজের বন্দোবস্ত করে দেওয়া হবে বলে আশ্বাসও পেয়েছেন বলেও জানালেন।
আর মানসীদেবীর এহেন বক্তব্যের পর সরব হয়েছেন বিরোধীরা। সবং উপনির্বাচনের বিজেপি প্রার্থী অন্তরা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, শাসকের পক্ষে কথা না বললে পরিবারের আরও কাউকে হারাতে হতে পারে ভয় পাচ্ছেন মানসী। অন্তরাদেবীর সুরেই কথা বলেছেন সেখানকার সিপিআইএম প্রার্থী রীতা মন্ডল জানা। তিনি বলেছেন, তৃণমূল কর্মী খুনে অভিযুক্ত মানস ভুঁইয়া তৃণমূলে আত্মসমর্পণ করেছেন, তার পরে নিহতের স্ত্রী চাকরি পেয়েছেন। এখানে নতুন করে কিছু হারানোর আশঙ্কা ও চাওয়া-পাওয়ার স্বার্থ থেকে নিহতের স্ত্রী স্বামীর খুনে অভিযুক্তকে মাফ করছেন, কিন্তু এটা তাঁর মনের কথা নয়। এমনকি মানসীদেবীর চাকরি পাওয়ার কথা তুলে কটাক্ষ করেছেন সবংয়ের কংগ্রেস প্রার্থী চিরঞ্জীব ভৌমিকও। সব মিলিয়ে মৃত জয়দেব জানার স্ত্রীর ‘ক্লিনচিট’ পেলেও বিরোধীরা কিছুতেই স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছে না মানস রঞ্জন ভূঁইয়াকে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!