এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > আবারও অগ্নিগর্ভ ঠাকুরবাড়ি! মমতাবালা ও শান্তনু অনুগামীদের মধ্যে হাতাহাতিতে পরিস্থিতি ঘোরালো

আবারও অগ্নিগর্ভ ঠাকুরবাড়ি! মমতাবালা ও শান্তনু অনুগামীদের মধ্যে হাতাহাতিতে পরিস্থিতি ঘোরালো

মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রয়াত বীণাপাণি দেবী চেয়েছিলেন, পরিবারে যতই রাজনীতি আসুক না কেন, সেখানকার শান্তি-শৃঙ্খলা যাতে বজায় থাকে। তবে কথায় আছে, মানুষ আশঙ্কা তখনই করে, যখন সেই আশঙ্কার বীজ তার মনে বপন করতে শুরু করে। হয়ত বা শেষ বয়সে বীণাপাণি দেবীর মনেও শাসক-বিরোধী রাজনীতির ছায়া এই মতুয়া মহাসঙ্ঘের পড়ায় সেই আশঙ্কার আচ এসে পড়েছিল। আর এবার প্রয়াত বীণাপাণি দেবীর সেই আশঙ্কাকে সত্যি করেই তার পরিবারের দুই সদস্য-সদস্যার অনুগামীদের মধ্যে তীব্র বচসা এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটল।

সূত্রের খবর, বুধবার দুপুরে মতুয়ার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে এনআরসি নিয়ে বৈঠক ডেকেছিল বিজেপি এবং তৃণমূল। আর সেখানেই সেই মতুয়া পরিবারের পুত্রবধূ তথা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বনাম সেই মমতাদেবীরই ভাইপো তথা বর্তমান বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের অনুগামীদের মধ্যে বচসা চরম আকার ধারণ করে।

জানা যায়, এদিন বর্তমান বিজেপি সাংসদ তথা মতুয়া পরিবারের সদস্য শান্তনু ঠাকুরের লোকজন ঠাকুরবাড়িতে ঢোকার পরই প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা মতুয়া পরিবারের আরেক সদস্য মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামীদের ওপর চড়াও হন। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়ে লড়াই করা সুকৃতি বিশ্বাসকে মারধর করা হলে তাকে বাঁচাতে যান সেই মমতাবালা ঠাকুর।

আর সেখানেই মমতাদেবীকেও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে শান্তনু ঠাকুর বনাম মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামীদের এই গন্ডগোলের ছবি এক চিত্রসাংবাদিক তুলতে গেলে তাকেও হেনস্তার শিকার হতে হয়। আর এই ঘটনা এখন ঠাকুর পরিবারের রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

ইতিমধ্যেই একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করে সরব হয়েছে দুই পক্ষই। পরিবারে তারা জেঠিমা – ভাইপোর সম্পর্কে আবদ্ধ থাকলেও রাজনীতির কারণে তাদের সম্পর্ক যে দিনকে দিন অবনতি হচ্ছে, তা এদিনের ঘটনা থেকে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিন এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা মতুয়া পরিবারের সদস্য মমতাবালা ঠাকুর বলেন, “এনআরসি নিয়ে আমাদের মিটিং চলাকালীন ওরা আচমকাই সুকৃতিবাবুকে মারধর শুরু করে। আমি বাঁচাতে গেলে আমাকে শান্তনুর অনুগামীরা মারধর করে। ঠাকুরবাড়িতে এই ধরনের সন্ত্রাস আগে কখনও হয়নি। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।”

এদিকে তৃণমূলের মমতাবালা ঠাকুর বিজেপি সাংসদ তথা নিজের ভাইপো শান্তনু ঠাকুর এবং তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ করলেও তা সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন সেই শান্তনু ঠাকুর। তিনি বলেন, “মতুয়া মহাসঙ্ঘের তরফে ঠাকুরবাড়িতে বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেই সময় মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। প্রাণে বাঁচতে আমাকে বাড়িতে ঢুকে যেতে হয়। সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করছি। যারা এই কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে একে অপরের বিরুদ্ধে এই গোটা ঘটনায় দোষারোপ করলেও রাজনীতিতে কিছুটা দূরে সরিয়ে রেখে ঠাকুরবাড়ির কৌলিন্য যে দিনকে দিন এই রাজনীতির জন্য কালিমালিপ্ত হচ্ছে সেই ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করতে শুরু করেছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ হোক বা বর্তমান বিজেপি সাংসদ, নিজেদের পরিবারের কৌলিন্য কেন মমতাদেবী বা শান্তনুবাবুর বজায় রাখছেন না! তা নিয়েও উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। কারণ কথায় আছে, কর্তা বা কত্রীর ইচ্ছেতেই কর্ম হয়।

ফলে রাজনীতির কাণ্ডারী হলেও তারা যদি ইচ্ছে করেন যে পরিবারের রাজনীতি প্রবেশ করতে দেবেন না, তাহলে যে সেখানে রাজনীতি ঢুকবে না সেই ব্যাপারে নিশ্চিত সকলেই। ফলে যেখানে রাজনীতি ঢোকার জন্যই এত অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে, সেখানে কেন ঠাকুর পরিবারের বারবার সেই রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে অশান্তির বাতাবরণ আনা হচ্ছে! তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!