এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > দিদি প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের কল্যাণ হবে – ওঁর সততা আছে, দিদির শ্রীবৃদ্ধি হোক : মোহন্ত মহারাজ

দিদি প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের কল্যাণ হবে – ওঁর সততা আছে, দিদির শ্রীবৃদ্ধি হোক : মোহন্ত মহারাজ

Priyo Bandhu Media

রাজ্যের শাসকদলের সিংহভাগ নেতারাই যখন ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে চাওয়ার দাবি তুলছেন, ঠিক তখনই সেই প্রধানমন্ত্রী পদে সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দেখতে চাওয়ার কথা শোনা গেল কপিলমুনি মন্দিরের প্রধান মোহন্ত স্বামী জ্ঞানদাস মহারাজের গলায়। বস্তুত দেশজুড়ে যখন বিজেপির ওপর রাম মন্দিরের স্থাপন নিয়ে চাপ বাড়াচ্ছে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো, ঠিক তখনই কপিলমুনি আশ্রমের প্রধানের গলায় প্রবল বিজেপি বিরোধী তথা বিরোধী মহাজোটের অন্যতম শরিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চাওয়ার মন্তব্যে সরগরম হয়ে উঠল জাতীয় রাজনীতি।

সূত্রের খবর, এদিন দক্ষিন বিষ্ণুপুরে একটি সরকারি সভা করে বিকেল চারটে নাগাদ সাগরদ্বীপের কপিলমুনির মন্দিরে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীকে শাঁখ বাজিয়ে স্বাগত জানান কপিলমুনি মন্দিরের প্রধান মোহন্ত জ্ঞানদাসজী সহ অন্যান্যরা। এদিকে মন্দিরে ঢুকেই বিগ্রহ দর্শন করে বেশ কয়েকটি ডালি পূজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এরপরেই মন্দিরের মোহন্ত জ্ঞানদাসজীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপরই দুজন মিলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

আর এই সাংবাদিক বৈঠকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবিষ্যতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেখতে চান বলে মন্তব্য করেন কপিলমুনি মন্দিরের প্রধান মোহন্ত স্বামী জ্ঞানদাস মহারাজ। শুধু তাই নয় কেন্দ্রের বর্তমান বিজেপি সরকারকেও রাম মন্দির ইস্যুতে এদিন একহাত নেন তিনি। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কপিল মুনি আশ্রমের প্রধান বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের কল্যাণ হবে। ওনার সততা আছে। দিদির শ্রীবৃদ্ধি হোক”।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে, ভোটের সময় বিজেপি শুধু রামকে ‘ব্যবহার’ করে বলে এদিন গেরুয়া শিবিরের উদ্দেশ্যেও কটাক্ষ সূরে দিয়েছেন মোহন্ত স্বামী জ্ঞানদাস মহারাজ। একই কথা বলে বিজেপিকে কটাক্ষ করেছেন আখড়ার মোহন্ত পদের উত্তরাধিকারী সঞ্জয় দাস মহারাজও। এদিন তিনি বলেন, “বিজেপি মুখে এক, আর কাজে আর এক। এবার উত্তর প্রদেশ সহ দেশের সর্বত্রই ওরা হারবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে উন্নয়ন করছেন তাতে তাঁদেরই প্রধানমন্ত্রী হওয়া দরকার”।

এদিকে কুম্ভমেলায় উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার ঠিকমতো উন্নয়ন না করলেও বাংলায় তৃণমূল সরকারের আমলে গঙ্গাসাগরের প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে বলে রাজ্যের ভূয়শী প্রশংসা করেন কপিলমুনি আশ্রমের প্রধান। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে যখন সারাদেশে রাম মন্দিরকে সামনে রেখে নির্বাচনে লড়তে চাইছে বিজেপি, ঠিক তখনই কপিল মুনির আশ্রমের প্রধানকে পাশে বসিয়ে তাঁর মুখ দিয়েই সেই বিজেপিকে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সব ধর্মের মানুষ এদেশে একসঙ্গে বসবাস করে। এখানে সম্প্রীতি ও সংহতির গেট তৈরি করা হয়েছে। মোহন্তজির ঘরেও সব ঠাকুরের ছবি আছে”। তবে এসব সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ঠিক কোন দলের হাতে কেন্দ্রের মসনদ থাকে তা দেখবার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে আরও বেশ কিছুদিন। কিন্তু, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা – বিজেপি বিরোধী প্রধান মুখ হওয়ার দিকে ক্রমশ এগোচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার মোহন্ত মহারাজের আশীর্বাদ পাওয়ায় তাতে আরও গতি পাবে – সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!