এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > আসছেন কেজরিওয়াল থেকে তেজস্বী, শীতের কনকনে ঠান্ডাতেও সারারাত জেগে মমতার সঙ্গী মন্ত্রী থেকে সাধারণ সমর্থক

আসছেন কেজরিওয়াল থেকে তেজস্বী, শীতের কনকনে ঠান্ডাতেও সারারাত জেগে মমতার সঙ্গী মন্ত্রী থেকে সাধারণ সমর্থক

রাজপথে প্রতিবাদ, আন্দোলনের মধ্য দিয়েই 2011 সালে বাম শাসনকে বিদায় জানিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপর দীর্ঘ সাত বছর তেমনভাবে আর কোনো প্রতিবাদ, আন্দোলনে রাজপথে সেই মমতাকে দেখা না গেলেও এবার সিবিআই তদন্তের বিরুদ্ধে দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার্থে জাতীয় রাজনীতিতে অন্যতম মুখ্য ভূমিকা নেওয়া তৃণমূল নেত্রী তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিবাদের মূল স্থান মেট্রো চ্যানেলে গতকাল রাত থেকে ধরনায় বসলেন।

কিন্তু বিগত বাম আমলে যে সিবিআই তদন্তের দাবিতে প্রায়শই ধর্নায় বসতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শাসকের ক্ষমতায় এসে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সেই সিবিআই তদন্তের বিরুদ্ধে কেন রাজপথে ধরনায় অবতীর্ণ হলেন তিনি? রাজ্যের শাসক দলের একাংশের দাবি, কেন্দ্রের তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে দিয়ে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। গতকাল বিজেপির সেই চক্রান্ত শেষ সীমায় পৌঁছয় বলে অভিযোগ রাজ্যের শাসক দলের নেতাদের।

একাংশের মতে, কলকাতা পুলিশের কমিশনার রাজীব কুমারকে সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জেরা করার জন্য তদবির করা হলেও কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে 13 ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেই কমিশনারকে জেরা করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়ার পর গতকাল রাতে সিবিআই কর্তারা সেই রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আসে। আর এটাকেই আদালত অবমাননার শামিল বলে মনে পড়ছে রাজ্য প্রশাসন।

আর সিবিআইয়ের এই বাড়বাড়ন্তের পরই মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসার সিদ্ধান্ত নেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে শীতের রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্নায় বসলেও উপস্থিত তৃণমূল কর্মী সমর্থক থেকে সাধারণ মানুষরা যাতে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যান তার জন্য সকলকে অনুরোধ করেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু কে কার কথা শোনে! উপস্থিত জনতার কলরবে তখন শুধু একটাই আওয়াজ, “দিদি গণতন্ত্র বাঁচানোর যে ডাক আপনি দিয়েছেন, তাতে আমরা সকলে শামিল হব। আপনি যতক্ষন এখানে থাকবেন, ততক্ষণ আমরাও এখানে বসে থাকবো।”

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

একাংশের মত, বিগত সিঙ্গুর আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনে সাধারণ মানুষের এই প্রবল উৎসাহ দেখা দিয়েছিল। আর এবার রাজ্যের শাসক দলের ক্ষমতায় এসেও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থানে সাধারণ মানুষদের পক্ষ থেকে সেই একই উৎসাহ চোখে পড়ছে।

তবে শুধু সাধারণ কর্মী সমর্থকই নয়, এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধরনা মঞ্চে রাতভর উপস্থিত থাকতে দেখা যায় রাজ্যের পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার, প্রাক্তন ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ, মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রাজীব ব্যানার্জি, নির্মল মাঝি, রত্না কর ঘোষ, লক্ষ্মীরতন শুক্লা, উজ্জ্বল বিশ্বাস, সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী সহ তৃণমূলের একাধিক নেতা মন্ত্রীদের।

প্রথমে মেট্রো চ্যানেলের সামনে চেয়ারে অবস্থান ধরনা শুরু হলেও পরে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি হয়। আর রাত দেড়টা নাগাদ সেই অস্থায়ী মঞ্চে উঠে যান মুখ্যমন্ত্রী। জানা গেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার্থে এই অবস্থান বিক্ষোভে আজ কলকাতায় আসতে পারেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, আরজেডির তেজস্বী যাদব সহ অন্যান্যরা।

সব মিলিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষা করবার জন্য নিজের রাজনৈতিক আন্দোলনের পীঠস্থান বলে পরিচিত কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসে জাতীয় রাজনীতিতে ফের নিজের প্রতিবাদী ভাবমূর্তিকেই তুলে ধরার চেষ্টা করছেন অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!