এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? তৃণমূলের অন্দরের গুঞ্জনে তোলপাড় রাজনৈতিকমহল

প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? তৃণমূলের অন্দরের গুঞ্জনে তোলপাড় রাজনৈতিকমহল

লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে প্রবল গেরুয়া উত্থান ও তার পরিপ্রেক্ষিতে ঘাসফুল শিবিরে ভাঙন – এখন বঙ্গ রাজনীতির চর্চিত বিষয়। তৃণমূল যেখানে ৪২-এ-৪২ দাবি করে ৩৪ থেকে কমে ২২ এসে ঠেকেছে, সেখানে ‘উনিশে হাফ আর একুশে সাফ’ আওয়াজ তুলে নিজেদের আসন ২ থেকে বাড়িয়ে ১৮ করে নিয়েছে গেরুয়া শিবির। স্বাভাবিকভাবেই, নিজেদের ‘টার্গেটের’ ধারে-কাছেও পৌঁছাতে পারে নি ঘাসফুল শিবির। অন্যদিকে, নিজেদের ‘টার্গেট’ প্রায় পূর্ণ করে ফেলেছে বিজেপি। ফলে, বিজেপির তরফে দাবি করা হয়, তৃণমূল কংগ্রেস বাংলায় ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আর তাই, পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনেই নবান্নের কুরসী থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত উচ্ছেদ করার ডাক দিয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু, তৃণমূল নেত্রীও যে এত সহজে ছেড়ে দেবার পাত্রী নন, তা এক কথায় মানতে রাজি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কেননা, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনীতি করে, লড়াই-সংগ্রাম করে, অবশেষে নিজের দল খুলে তবে বাংলায় প্রবল পরাক্রমী বাম শাসনের অবসান ঘটাতে পেরেছেন তিনি। তাই, সেই রাজ্যপাট এত সহজে তিনি ছেড়ে দেবেন না – তা জলের মত স্পষ্ট।

আর তাই, লোকসভা নির্বাচনের গেরুয়া উত্থানকে, বিধানসভা নির্বাচনে ফণা তুলতে না দেবার জন্য তিনি এক বড়সড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দেন। জাতীয় রাজনীতিতে নির্বাচন-কৌশলী হিসাবে পরিচিত প্রশান্ত কিশোরকে তিনি তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা নিযুক্ত করেন। আর তার পর থেকেই, প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচি রাজ্যের শাসকদল নিতে শুরু করে বলে জল্পনা ছড়ায়। যার মধ্যে, অন্যতম ‘দিদিকে বলো’ – যে তৃণমূল প্রতিনিধিদের এতদিন, নিজেদের এলাকায় দেখা যেত না বলে অভিযোগ – তাঁরাই এবার প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়েও জনসংযোগ করছেন ভোটগুরু পিকের পরামর্শে বলে গুঞ্জন।

কিন্তু, এবার কি তৃণমূল ও প্রশান্ত কিশোরের সুখের সংসারে ফাটল ধরেছে? এক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে – একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরে সি জল্পনাই তীব্র করা হয়েছে। ওই সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, তৃণমূল নেত্রীর একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে যেমন প্রশান্ত কিশোর অসন্তুষ্ট, ঠিক তেমনই প্রশান্ত কিশোরের একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তুষ্ট তৃণমূল নেতৃত্ত্বও। এই নিয়ে সরকারি ভাবে তৃণমূল বা প্রশান্ত কিশোর কেউ মুখ না খুললেও, ওই সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে – দু তরফেই নাকি ফাটল ক্রমশ বাড়ছে!

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোর যে যে বিষয়ে অসন্তুষ্ট –
১. মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি কলকাতায় এক বিরাট রাজনৈতিক পদযাত্রা করেন। কিন্তু, সেই পদযাত্রায় রাস্তার দু-ধারে ব্যারিকেড করতে একদিনের জন্যই নাকি খরচ হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা আর তার ভার বহন করেছে নাকি কলকাতা পুরসভা! যা নিয়ে রীতিমত ক্ষুব্ধ পিকে!
২. রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার বেহাল দশা নিয়েও নাকি চটেছেন প্রশান্ত কিশোর। বার বার কাউন্সেলিং করিয়েও রাজ্যের ৩৪ হাজার বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং আসনের ৯ হাজার মাত্র ভর্তি করা গেছে! আর এই নিয়ে পিকে সাহেব নাকি সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমোকেই!
৩. এছাড়াও, ইঞ্জিনিয়ার হয়ে আবেদন করতে হচ্ছে সামান্য ওয়ার্ড মাস্টারের চাকরির! এই নিয়েও প্রশান্ত কিশোর প্রশ্ন তুলেছেন।
৪. রাজ্যের অর্থমন্ত্রী গত সাড়ে আট বছরে সাড়ে ৬ লক্ষ চাকরির যে দাবি করেন – তা নিয়েও সন্তুষ্ট নন পিকে সাহেব! এর বাস্তবতাও তিনি জানতে চেয়েছেন।
৫. রাজ্যে হওয়া দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও তিনি নাকি অসন্তুষ্ট।

এছাড়া ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, তৃণমূল নেতৃত্ত্ব যে যে বিষয়ে অসন্তুষ্ট –
১. বিভিন্ন দেশের সীমান্তবর্তী ও বহু ভাষাভাষী মানুষের বাসযুক্ত এই রাজ্য সম্পর্কে ঠিক কতটা জানেন প্রশান্ত কিশোর?
২. তৃণমূলের অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধিদের যেভাবে তিনি দিন-রাত-ভোর – দিনের ২৪ ঘন্টা ধরেই জনসংযোগের পাঠ ও নির্দেশ দিচ্ছেন, তাতে নাকি বেজায় চটেছেন তাঁরা।
৩. স্বয়ং তৃণমূল নেত্রীই নাকি অনুধাবন করেছেন প্রশান্ত কিশোরের সব পরিকল্পনা বাংলায় কাজ করবে না, তাই এখন থেকেই কার্যত তাঁকে উপেক্ষা করছেন।
৪. দিদিকে বলো কর্মসূচি নিয়ে প্রশান্ত কিশোরের টিমের সঙ্গে দুজন IAS-এর বিতর্ক, ওয়েবেল-এর জড়িয়ে পড়া এবং নবান্নের জন-অভিযোগ কেন্দ্র নিয়ে তীব্র বিতর্ক।
৫. ইদানিংকালে প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের না শোনা।

আর এইসব নিয়েই ওই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বিস্ফোরকভাবে দাবি করা হয়েছে তৃণমূল শিবির ও প্রশান্ত কিশোর শিবিরের মধ্যে ফাটল ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। যদিও এই খবরের সত্যতা বা সূত্র সম্পর্কে ওই সংবাদমাধ্যমে কিছু লেখা নেই, প্রিয়বন্ধু বাংলার তরফেও এই খবরের সত্যতা যাচাই করে দেখা সম্ভব হয় নি। এই প্রবন্ধ সম্পূর্ণরূপে ওই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে করা, কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় বা কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে রচিত নয়।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!