এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > উপচে পড়া ভিড়কে সাক্ষী রেখে দেশের ঐক্য-সংহতি রক্ষায় নতুন স্লোগান প্রকাশ্যে নিয়ে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

উপচে পড়া ভিড়কে সাক্ষী রেখে দেশের ঐক্য-সংহতি রক্ষায় নতুন স্লোগান প্রকাশ্যে নিয়ে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

১৯’ এর নির্বাচনকে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বঙ্গের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটাই লক্ষ্য এখন- বিজেপি সরকার উৎখাতে জনমত একত্রিত করা। প্রস্তুতিটা শুরু হয়ে গিয়েছে মাসকয়েক আগে। তবে তার আগে বছর ঘুরতেই রয়েছে বিগ্রেড সমাবেশ। সেই বৃহত্তর ১৯’এর সমাবেশে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে এক ছাতার তলায় এনে লোকসভা ভোট জয়ের ডাক দেবেন নেত্রী।

সূত্রের খবর,দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৮ থেকে ২০ টি অবিজেপি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ১৯ জানুয়ারির বিগ্রেড সমাবেশে উপস্থিত হওয়ার জন্যে নেত্রীর প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছেন। এই বিগ্রেড সমাবেশে লোক জমায়েত করে আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিতে চান তৃণমূল সুপ্রিমো। আর সেই লক্ষ্যেই জেলা সফর শুরু করেছেন তিনি।

জঙ্গলমহলে প্রচার কর্মসূচি সেরে নেত্রী পা রেখেছেন শিল্পাঞ্চলে। আসানসোলের জামুরিয়ায় সভা করে বিজেপি উৎখাতের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি সারলেন দলীয় প্রচারমূলক কর্মসূচি। জনজোয়ারকে সাক্ষী রেখে দেশের ঐক্য সংহতি রক্ষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন শ্লোগান সামনে এল – ‘দিল্লি কা গদ্দি বদল দো, বদল দো, বদল দো!’

পড়শি রাজ্য বিহার,ওড়িশা,উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ,মহারাষ্ট্র থেকে কর্মসংস্থানের দায়ে শ’য়ে শ’য়ে মানুষ আসে জামুরিয়ায় কয়লাখনিতে কাজ করতে। হিন্দি,বাংলা ভাষীর মানুষের মিশেলে জামুরিয়া যেন হয়ে উঠেছে ভারতবর্ষেরই ছোট প্রতিফলন। তবে এই শ্রমিক মহল্লার সম্প্রীতির বন্ধন বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে বিজেপি।

তাই সংহতি রক্ষায় জামুড়িয়ার শ্রীপুর এরিয়া স্টেডিয়ামের সভামঞ্চ থেকেই নতুন শ্লোগান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের-‘দিল্লি কা গদ্দি বদল দো, বদল দো, বদল দো!’ আর নেত্রীর এই শ্লোগানে উচ্ছ্বসিত মিশ্র ভাষাভাষীর এই খনি অঞ্চলের জনতা। শ্লোগানের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের দু’টাকা কিলো দরে চাল,কন্যাশ্রী সবুজসাথী,সবুজশ্রীর মতো প্রকল্পের সুবিধা তাদের কাছে পৌছাচ্ছে কিনা সেটাও জেনে নেন নেত্রী।

এরপর বিজেপি শাসিত ঝাড়খন্ড শহরের উদাহরণ টেনে বলেন,বিজেপি শাসিত বলে ওই রাজ্যের এতো অধঃপতন। দাঙ্গা আর সন্ত্রাস ছাড়া ওখানে আর কিছুই হয় না। বলেন ঝাড়খন্ড থেকে মাথায় ফেট্টি বেঁধে দুষ্কৃতিরা প্রবেশ করছে এ রাজ্যে,মুখে তাঁদের জয় শ্রী রাম বুলি। বিজেপির মদতেই এ রাজ্যে সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে তারা। বিভেদের রাজনীতি করতে চাইছে বিজেপি। তাই রাজনীতির ইতি টানতে সকলকে একসঙ্গে লড়াই করার আহ্বান জানালেন নেত্রী। বললেন,‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা, হিন্দুস্থান’-এর রীতি। তা কিছুতেই ভাঙতে দেব না। বিজেপি দেশ বিক্রি করতে চাইছে, এই দেশকে রক্ষা করতেই হবে। সবাই মিলে পণ করি—দেশ ভাগ হতে দেব না, বেচতে দেব না।’

বিভাজন শুধু আগুন,রক্ত,কান্না আর হাহাকার ছাড়া আর কিছুই দিতে পারে না। তাই বাংলাভাষীদের পাশাপাশি হিন্দিভাষী এবং উর্দুভাষীদেরও আহ্বান জানালেন নেত্রী বিভাজনের রাজনীতি করা বিজেপি সরকারকে উৎখাত করতে। বিশ্বাস রাখতে বললেন, মা-মাটি-মানুষের সরকারের উপর। আবেগভরা গলায় নেত্রী বললেন,তৃণমূল সরকার কিছু দিতে না পারলেও মোটা কাপড় আর ভাত অবশ্যই দেবে।

উল্লেখ্য,রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিম বর্ধমানের মিশ্রভাষী এলাকায় বাংলার পাশাপাশি হিন্দি এবং উর্দুর প্রসারেও জোর দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তৈরি করেছেন হিন্দি মাধ্যম স্কুল এবল কলেজ। যেসব এলাকায় ১০ শতাংশের বেশি মানুষ উর্দুতে কথা বলেন সেখানে সেই ভাষাকেই সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দিয়েছেন তিনি।

গত লোকসভা ভোটে হিন্দিভাষীদের বড়সড় সমর্থন পেয়েছিল বিজেপি। তাই এবার এদেরই সমর্থন তৃণমূলের দিকে টানার কৌশল নেত্রীর। লক্ষ্য করার মতো বিষয় হল,মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের সভায় বাংলাভাষী মানুষের পাশাপাশি উর্দু এং হিন্দিভাষী মানুষের উপস্থিতিও ছিল ব্যাপক। এই মিশ্র অবস্থানের প্রেক্ষিতে ঐক্যের বার্তা দিলেন নেত্রী।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

বিজেপি সরকার কেন এই সংহতির রক্ষার পরিপন্থী,সেটাও বিস্তারে ব্যাখ্যা করলেন নেত্রী। বললেন,’সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে থাকাটাই আমাদের রীতি। আমরা বিজেপি’র মতো ভোটের জন্য বাঙালি-বিহারি করি না।’ এদিন ছটপুজোয় রাজ্যসরকারের তরফ থেকে দু’দিনের ছুটি ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই করতালিতে উল্লাস ফেটে পড়েছিল জনতার।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!