এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > করোনা আবহেই মোদি বিরোধী মহাজোটের পুনর্মিলন শুরু! সলতে পাকানোয় মধ্যমনি সেই মমতাই

করোনা আবহেই মোদি বিরোধী মহাজোটের পুনর্মিলন শুরু! সলতে পাকানোয় মধ্যমনি সেই মমতাই


একদিকে করোনা ভাইরাস এবং অন্যদিকে আমপানের মতো ভয়াবহ বিপর্যয়, এই দুইয়ের সঙ্গে মোকাবিলা করতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। শুক্রবার বাংলা পরিদর্শনে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যেখানে তার সঙ্গে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর শত বিরোধিতা থাকলেও, কেন্দ্রের প্রশাসনিক প্রধান এবং রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের এই মেলবন্ধনের চিত্র দেখে আশাবাদী হয় বাংলার জনসাধারণ।

কিন্তু সকালে এই দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেও, বিকেলের মধ্যেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। কেননা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে শুক্রবার দিন ছিল সোনিয়া গান্ধীর ডাকা বিরোধী জোটের বৈঠক। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলের নেতা নেত্রী সহ তৃণমূল নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সূত্রের খবর, এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিরোধী প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দল। যেখানে তারা প্রত্যেকেই পশ্চিমবঙ্গের ভয়াবহ দুর্যোগ নিয়ে সকলেই পশ্চিমবঙ্গের পাশে আছে বলে জানিয়ে দেন।

শুধু তাই নয়, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বাংলা এবং ওড়িশায় ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্যোগকে জাতীয় বিপর্যয় বলেও আখ্যা দেওয়ার দাবি ওঠে এই বৈঠকে। অর্থাৎ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের এই ভয়াবহ দুর্যোগে বাংলার পাশে থেকে প্রধানমন্ত্রী আর্থিক সাহায্যের দাবি করলেও, বিরোধীরা যাতে এই ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং কেন্দ্রকে পাল্টা চাপে ফেলতে পারে, তার জন্যই বিরোধীদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিনের এই বৈঠকে কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধী‌। তিনি বলেন, “সংবিধানের অন্যতম ভিত্তি যুক্তরাষ্ট্র পরিকাঠামো‌। মোদি সরকার তা ভুলে গিয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিনষ্ট করে যাবতীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করছে প্রধানমন্ত্রীর অফিস।” এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কুড়ি লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণাকে এদিন “নিষ্ঠুর পরিহাস” বলেও দাবি করেন কংগ্রেসের সভানেত্রী।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

তবে এদিনের বৈঠকে বিজেপি বিরোধী বাইশটি রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা উপস্থিত থাকলেও, অতীতের মতই বিরোধী মহাজোটের এই বৈঠকে সকলের মধ্যমণি ছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। সোনিয়া গান্ধীর ডাকা এই বৈঠকে উপস্থিত হয়ে প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের ভয়াবহ দুর্যোগের কথা সকলের সামনে তুলে ধরেন তিনি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কলকাতা থেকে বসে তিনি বলেন, “একদিকে করোনা, অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। করোনা মোকাবিলায় 600 কোটি টাকা খরচ করেছি।”

তিনি আরও জানান, “তার মধ্যেই বিধ্বংসী ঝড়। কেবল খরচ বাড়ছে, আয় নেই। করোনার কারণে কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।” তবে ভয়াবহ দুর্যোগের কারণে সব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বিরোধীদের এই বৈঠকের মাত্র কুড়ি মিনিট উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাকি সময় তার প্রতিনিধি হিসেবে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। পরবর্তীতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে রাজ্যকে আর্থিক সাহায্য করা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে তারা রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হবেন বলেও বৈঠকে প্রস্তাব দিয়েছেন তৃনমূলের এই রাজ্যসভার সাংসদ।

তবে এদিনের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতটা সময় দিয়েছেন, সেই সময়ের মধ্যে তিনিই সবথেকে কেন্দ্র বিরোধী মনোভাব পোষণ করেছেন বলে দাবি করছেন বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা। এদিন এই প্রসঙ্গে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মমতাদিদিই ছিলেন সবচেয়ে সরব। ওনার সঙ্গে এই ব্যাপারে একমত। মহারাষ্ট্রে বিজেপি একই রাজনীতি করছে। করোনা মোকাবিলায় রাজ্যগুলি কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। কিন্তু বিরোধী দলের সরকারের সঙ্গে বিজেপি মোটেই ভালো ব্যবহার করছে না‌।”

অর্থাৎ শিবসেনা সুপ্রিমোর এই কথা থেকে পরিষ্কার যে, এখনও পর্যন্ত বিজেপি বিরোধিতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবার শীর্ষে রয়েছেন। সেদিক থেকে বিরোধীদের বৈঠকে উপস্থিতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সকল বিরোধী দলের কাছে বিজেপি বিরোধীতায় মধ্যমনি হয়ে উঠেছেন, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল। এমনিতেই করোনা আবহে আপাতত রাজনৈতিক কার্যকলাপ কিছুটা স্তিমিত। কিন্তু, লকডাউন হাল্কা হতেই যে মোদী সরকারকে চেপে ধরতে তৎপরতা বাড়বে তা কার্যত নিশ্চিত। এখন নতুন করে দানা বাধতে শুরু করা এই বিরোধী মহাজোট কতটা সাফল্য লাভ করে, তার দিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!