এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > কন্যাশ্রী নিয়ে বড় ঘোষণার দিনেই মতুয়াদের জন্য আরো বড় উপহার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর – জানুন বিস্তারিত

কন্যাশ্রী নিয়ে বড় ঘোষণার দিনেই মতুয়াদের জন্য আরো বড় উপহার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর – জানুন বিস্তারিত

মেয়ের জন্যে কৃষ্ণনগরে কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিলান্যাস করার পাশাপাশি বৈষম্য দূর করতে ছেলেদের জন্যেও একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করার বার্তা দিলেন এদিন। এই কৃষ্ণনগরেই উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস হবে। এমনটাই গতকাল নদীয়ার কৃষ্ণনগর গভর্ণমেন্ট কলেজ মাঠের প্রশাসনিক সভা থেকে ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই করতালিতে ফেটে পড়ে সভা চত্বর।

১৯’এর ব্রিগেড সমাবেশকে টার্গেট করেই একদিনের জেলাসফরে গতকাল নদীয়া আসেন মুখ্যমন্ত্রী। ভিড়ে ঠাসা কৃষ্ণনগরের প্রশাসনিক সভা থেকে একগুচ্ছ প্রকল্পের শিলান্যাস করতে গিয়ে প্রথমেই কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিলান্যাস করেন তিনি। এই কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠবে গাবতলার মাঠেই। প্রথমে এই বিশ্ববিদ্যালয় নির্মান নিয়ে বামেরা বিরোধিতা করলেও পরে তাঁরা সরে আসেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের পড়ার খরচ সরকার বহন করবে,শিলান্যাস করতে এসে এটাও জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে বলেন,রাজ্যসরকারেী কন্যাশ্রী প্রকল্প আজ বিশ্বের দরবারে স্থান করে নিয়েছে। কন্যাশ্রীর টাকায় স্কুলে পড়াশুনো করতে পারছে মেয়েরা। কন্যাশ্রী আগে পেতে গেলে বছরে দেড় লক্ষ টাকার কম আয় দেখাতে হতো। কিন্তু,এখন সে শর্তও তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন রাজ্যের সব কন্যা সন্তানরাই সরকারি স্কুল পড়লে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে।

আর একধাপ এগিয়ে কন্যাশ্রীর দ্বিতীয় পর্যায়ে কলেজেও এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ১৮ বছর উত্তীর্ণারা এককালীন ২৫ হাজার টাকা পাচ্ছে। কলা বিভাগে পড়লে দু হাজার এবং বিজ্ঞান বিভাগে পড়লে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এরপর আরো এক ধাপ এগিয়ে কন্যাশ্রী থ্রি-তে এই বিশ্ববিদ্যালয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। বিনামূল্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনো করে আগামীদিনের কন্যাশ্রীরা ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করবে।

এই কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়কে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে বলেও জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এটাও ঘোষণা করলেন,”মেয়েরা কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয় পাচ্ছে। এবার ছেলেরা ভাবতেই পারে, আমরা কী পাব? মমতাবালা ঠাকুরকে চেনেন তো? ইনি মতুয়া মায়ের ছেলের বউ। আমাদের এমপি, সংসদ সদস্য। শুক্রবার বারাসত থেকে হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিলান্যাস করব। গাইঘাটায় হবে ওই বিশ্ববিদ্যালয়। অনেক দিনের দাবি। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ক্যাম্পাস কৃষ্ণনগরকে দেব। তাহলে ছেলেরাও পেয়ে গেল, মেয়েরাও পেয়ে গেল। কোনও বৈষম্য থাকল না।”

আমাদের খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে, নীচের যে কোন একটি করুন –

১. যোগ দিন আমাদের WhatsApp Group – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
২. যোগ দিন আমাদের Telegram Group – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৩. যোগ দিন আমাদের Facebook Group – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৪. যোগ দিন আমাদের Twitter Handle – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৫. যোগ দিন আমাদের Google+ Group – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৬. যোগ দিন আমাদের LinkedIn Group – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৭. যোগ দিন আমাদের Tumblr গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৮. বুকমার্ক করে রাখুন আমাদের Official Home Page – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
৯. যোগ দিন আমাদের YouTube Chanel – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
১০. যোগ দিন আমাদের Facebook Page – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তবে কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজেই হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস হবে কিনা তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি প্রশাসনের থেকে। তবে এই কলেজ চত্বরেই উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস গড়ে উঠুক এমনটাই চাইছে গভর্নমেন্ট কলেজের প্রাক্তনীরা। কারণ হিসাবে তাঁরা জানিয়েছেন,কলেজে পর্যাপ্ত জমি রয়েছে। ফলত ক্যাম্পাস গড়ে উঠতে কোনো সমস্যা হবে না। তাছাড়া গভর্নমেন্ট কলেজের মাঠেই কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠছে। ফলে কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয় ও হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস একই জায়গায় থাকার ফলে পড়ুয়াদের সুবিধাই হবে একরকম।

উল্লেখ্য,গতকাল কৃষ্ণনগরে যে একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী তার মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণনগরের আইটি হাব। ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই আইটি হাব তৈরি হবে। এবং প্রায় এক হাজার ছেলেমেয়ে এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বহুদিনের দাবী মেনে তেহট্ট মহাকুমা হাসপাতালের ব্ল্যাড ব্যাঙ্কেরও উদ্বোধন করেন তিনি। তেহট্টের নাজিরপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আগে শুধুমাত্র আউটডোর পরিষেবা মিলত।

এবার থেকে সেখানে ইনডোর পরিষেবাও মিলবে। বেথুয়াডহরি গ্রামীন হাসপাতালের ২০ টি বেড বাড়ানোর ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে কালীগঞ্জের পলাশীতে পর্যটকদের থাকার সুবিধার কথা ভেবে ৫ টি কটেজ এবং ১ টি ডরমেটরির উদ্বোধন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে মায়াপুরে যুব আবাসেরও উদ্বোধন করলেন জনদরদী নেত্রী।

জানালেন,”নবদ্বীপ হেরিটেজ আগেই ঘোষিত হয়েছে। তার কাজও চলছে। এবার মায়াপুর। মায়াপুরে ৭২০একর জমিতে নতুন সিটি হবে। মায়াপুর থেকে আমায় অনুরোধ করা হয়েছিল। আমরা সেটা কনসিডার করছি।” এছাড়া হরিনঘাটায় ফ্লিপকার্টের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার খবরও দিলেন তিনি। সবমিলিয়ে,লোকসভা ভোটের আগে একদিনের নদীয়া সফরে এসে জেলার থমকে থাকা উন্নয়নকে গতি দিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Top
Close
error: Content is protected !!