এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মমতার রোষানলে হেভিওয়েট চেয়ারম্যান, পৌরসভা নির্বাচনের আগে বাড়ছে জল্পনা!

মমতার রোষানলে হেভিওয়েট চেয়ারম্যান, পৌরসভা নির্বাচনের আগে বাড়ছে জল্পনা!

দল থেকে প্রশাসনের অন্দরমহল। কাজ না করলে তার গুডবুকে যে কেউ থাকে না, তা বারেবারেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের মত তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে ঘাসফুল শিবিরের পতন লক্ষ্য করা গেছে। ঝাড়গ্রাম থেকে বাঁকুড়া, কমবেশি প্রায় প্রত্যেক জায়গাতেই ফুটে গিয়েছে পদ্মফুল। আর ঘাসফুলকে উঠিয়ে পদ্মফুলের চেপে বসাতে তিনি যে বড়ই অসন্তুষ্ট, তা বারেবারেই প্রমান করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু অতীতকে বেশিদিন স্মরণে না রেখে এবার ভবিষ্যতে ভালো দিন আসার আশায় রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। আর তাইতো দিকে দিকে দলীয় কর্মসূচি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়া, দলের নেতাদের কর্মকাণ্ডের দিকে নজর রাখছেন তিনি।

সামনেই পৌরসভা নির্বাচন ইতিমধ্যেই তৃণমূল সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, যে সমস্ত কাউন্সিলররা দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণের সঙ্গে জড়িত, তাদের এবার টিকিট দেবে না ঘাসফুল শিবির। আর এর ফলে তৃণমূলের অনেক বর্তমান কাউন্সিলরদের ঘাম ঝরতে শুরু করেছে। আর রাজ্যের সিংহভাগ পৌরসভার কাউন্সিলরদের যখন চিন্তায় ঘুম হচ্ছে না, তখন বাঁকুড়ার তিন পৌরসভার পৌরপ্রধানকে ধমক দিয়ে তাদের ঘুমও কেড়ে নিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সূত্রের খবর, এদিন বাঁকুড়ার রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর এবং সোনামুখী পৌরসভার চেয়ারম্যানদের কাজে উষ্মা প্রকাশ করেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। বাঁকুড়ার চেয়ারম্যান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্তের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনি কি কাজকর্ম করেন না! আপনার নামে মানুষের এত অভিযোগ কেন! মানুষের জন্য কাজ করা আর মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করা, এই দুটো কাজের একটাও আপনি করেন!” আর মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী রোষানলে পড়ে রীতিমতো থতমত খান বাঁকুড়া পৌরসভার তৃণমূলের চেয়ারম্যান মহাপ্রসাদবাবু। পরিস্থিতি সামলাতে তিনি বলেন, “সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘুরে বেড়াই।”

 

তবে চেয়ারম্যানের এই সাফাইয়ে তিনি যে একদমই খুশি হননি, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়। বাড়ী বাড়ী গিয়ে যাতে চেয়ারম্যান ক্ষমা চেয়ে আসেন, তার জন্য তাকে নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি এই পৌরসভায় ভাইস চেয়ারম্যানের সাথে চেয়ারম্যানকে কাজ করার নির্দেশ দিতে দেখা যায় বাংলার প্রশাসনিক প্রধানকে। এদিকে বাঁকুড়ার পর বিষ্ণুপুর পৌরসভা নিয়েও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষ্ণুপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনি দলের সিনিয়র লিডার, প্রাক্তন বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী। আমি কাজে খুশি নই।”

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

শ্যামাপ্রসাদবাবুকে হকারদের পুনর্বাসন এবং ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়ে সোনামুখী পৌরসভার পৌরপ্রধান সুরজিৎ মুখোপাধ্যায়কেও কিছুটা ধমক দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সময়মত জল সমস্যা সমাধানের জন্য চেয়ারম্যানকে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। আর বাঁকুড়ার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এখানকার তিন পৌরসভার চেয়ারম্যানকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধমক দেওয়া রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়েছে জল্পনা।

অনেকে বলছেন, ইতিমধ্যেই তৃণমূলের রণনীতিকার প্রশান্ত কিশোরের টিম নানা জায়গায় সমীক্ষা করে তৃণমূলের বর্তমান কাউন্সিলর থেকে চেয়ারম্যানদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জনাদেশ নিতে শুরু করেছে। আর সেই জনাদেশে বাঁকুড়া জেলার এই তিন পৌরসভার চেয়ারম্যানের ভূমিকা নিয়ে নেতিবাচক ভাবনা উঠে এসেছে। যা দেখেই এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে তিন পৌরসভার চেয়ারম্যানকে সতর্ক করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

একাংশ বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তার মধ্যে দিয়েই সেই চেয়ারম্যানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনীহা লুকিয়ে আছে। কেননা এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে সেই চেয়ারম্যানদের টিকিট পাওয়া যে সামনের পৌরসভা নির্বাচনে আর হচ্ছে না, তা কার্যত পরিষ্কার হয়ে গেছে দলনেত্রীর কথায়। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধমকের পর বাঁকুড়া, সোনামুখী এবং বিষ্ণুপুর পৌরসভার চেয়ারম্যানরা সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিতে কতটা উদ্যোগী হন, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!