এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ভারত-পাক যুদ্ধ নিয়ে মোদির ‘রাজনীতি’ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারত-পাক যুদ্ধ নিয়ে মোদির ‘রাজনীতি’ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা হামলার পর থেকেই দফায় দফায় মোদী বিরোধী সুর চড়া করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মর্মান্তিক জঙ্গী হামলায় ৪৪ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুতে গোটা দেশ যখন শোকস্তব্ধ,পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বদলার মানসিকতায় ক্ষোভে ফুঁসছে যখন দেশবাসী, তখন কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছিলেন উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষারোপ করা ঠিক নয়। নেত্রীর এই মন্তব্যের পর তাকে দেশবিরোধী তকমা দিয়ে কিছু মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। নেত্রীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাঙ্গ বিদ্রুপও হয়েছে প্রচুর, তবুও নেত্রী চুপ থাকেন নি।

মোদী সরকারের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মানসিকতার তীব্র নিন্দা করে নেত্রী বলেছেন, লোকসভা ভোটের আগে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা লুটবার জন্যে দেশবাসীর সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগাচ্ছেন মোদী। গোটা দেশেই একটি যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব তৈরি করে রেখেছেন। এদিন ফের ভারত-পাক যুদ্ধ নিয়ে নিজের স্পষ্ট অবস্থানের কথা জানালেন তৃণমূলনেত্রী। নবান্ন থেকেই নিজস্ব কড়া মেজাজে বললেন, “রাজনীতির প্রয়োজনে যুদ্ধ চাই না। একটা নির্বাচনে জেতার জন্য যুদ্ধ চাই না। দেশের প্রয়োজনে যদি যুদ্ধ হয় আমরা আছি।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

এই প্রসঙ্গে মিডিয়াকেও একরকম খোঁচা দিয়ে বললেন, “মিডিয়া যে এত যুদ্ধ যুদ্ধ করছে, আজ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলগুলির সঙ্গে একটাও মিটিং করেননি। পুলওয়ামা বা এয়ারস্ট্রাইকের পরও কোনও আলোচনা করা হয়নি। দেশবাসী হিসেবে আমরা তো এই হামলাগুলি সম্পর্কে জানতেই পারি।” পাশাপাশি আরো জানান, দেশের বিরোধী কেউই নয় এখানে। প্রত্যেকেই দেশকে ভালোবাসে। তবে জওয়ানদের রক্ত নিয়ে কোনো রাজনীতিকে সমর্থন করেন না তিনি। কারণ জওয়ানদের রক্ত অমূল্য, জওয়ানরা দেশের গর্ব। জওয়ানরা সীমান্তে লড়াই করেন। রাজনৈতিক নেতারা ভোটবাক্সের খাতিরে ফায়দা তোলার জন্যে রাজনীতি করে। এই ধরণের রাজনৈতিক মানসিকতার তীব্র নিন্দা করলেন তিনি।

এসবের পাশাপাশি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, মোদী সরকার হামলার খবর আগে পেয়েও, এর বিরুদ্ধে আগে থেকে ব্যবস্থা নেয়নি। যার জেরে পুলওয়ামার মতো মর্মান্তিক জঙ্গী হামলা হল। এর আগে ‘উরি’ হামলা হয়েছে, পাঠানকোট হয়েছে। সবক্ষেত্রেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে শুধু। আগাম তথ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেননি মোদী। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ফায়দা লোটার স্বার্থে এতো জওয়ানের মৃত্যু হল বলে দাবী করলেন নেত্রী। তারপর হঠাৎ করেই মিডিয়ার বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হয়ে বলেন, সমস্ত টিভি চ্যানেলগুলোকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ারও জন্যে, মোদীর জয়গান গাইতে বলে রাখা হয়েছে। তারা সেরকম কাজ করছে। এর সাথেই তৃণমূল নেত্রী প্রশ্ন তোলেন, কেন দেশবাসীকে বিভ্রান্তিতে রাখা হচ্ছে? কেন তাঁদের বিপথে চালিত করছে কেন্দ্রীয় সরকার? তা সামনে তাঁদের আনতে হবে।

Top
error: Content is protected !!