এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > দাপুটে নেত্রী বিজেপি যোগ দিতেই তাঁকে নিস্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিলে স্বয়ং মমতা?

দাপুটে নেত্রী বিজেপি যোগ দিতেই তাঁকে নিস্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিলে স্বয়ং মমতা?

 

2011 সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মিনি মহাকরন নিয়ে বিভিন্ন জেলায় ছুটে যেতে দেখা গেছে পশ্চিমবাংলার প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দিনাজপুর থেকে দমদম, সর্বত্রই রাজ্য সরকারের আমলা, জনপ্রতিনিধি সকলকে সঙ্গে নিয়ে এলাকাভিত্তিক উন্নয়নের রূপরেখা স্থির করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  সেরকমই গত 19 নভেম্বর 2019 দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে গঙ্গারামপুর স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন মখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রশাসনিক আমলা, জনপ্রতিনিধি সকলের সঙ্গে আলোচনা করে জেলার উন্নয়নের পরিসংখ্যান নিতে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। আলোচনার মধ্যেই উঠে আসে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া লিপিকা রায়ের নিষ্ক্রিয়তার প্রসঙ্গ। আর তাতেই কার্যত জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে বাদ রেখে সহ-সভাধিপতি ললিতা টিগ্গাকে সামনে রেখেই আগামী দিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করতে নির্দেশ দেন পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধান।

আলোচনার মধ্যেই কার্যত জেলার বন্ধ থাকা বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পেছনে মূল কারণ হিসেবে জেলা পরিষদের সভাধিপতি সহ 5 জন সদস্যের অসহযোগিতার প্রসঙ্গ উঠে আসে। আর এই খবর কানে যেতেই বেজায় রুষ্ট হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর রোষানল থেকে বাদ পড়েনি স্বয়ং জেলাশাসক। কার্যত দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক নিখিল নির্মলকে ধমকের সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা কি বিয়ে বাড়ি নাকি? যে সবাইকে রাখতে হবে! 5 জন বেশি! না 13 জন বেশি!”

শুধু তাই নয়, জেলার উন্নয়ন মূলক কাজগুলোকে বাস্তবায়িত করার জন্য আগামী দিনে সহ- সভাধিপতি ললিতা টিগ্গাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা পরিষদের শীর্ষ পদে আসীন থাকেন সভাধিপতি। তাই কাজকর্মের জন্য তার সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিপ্লব মিত্র ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেওয়ার সময় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি সহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মাধক্ষ ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

তাদের মধ্যে কিছু কিছু তৃণমূলে ফিরে আসলেও পাঁচজন এখনও পর্যন্ত ভারতীয় জনতা পার্টির রয়ে গেছে। উন্নয়নের কর্মকাণ্ডে সভাধিপতি সহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মাধ্যক্ষদের অনুপস্থিতিতে যে আইনি সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে জেলা প্রশাসনকে, তাও প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্পষ্ট করেন জেলার আমলারা। আর এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যদি কাজ না হয়, তাহলে জনগণ আমাকে ধরবে‌। আপনাদের নয়।”

আইনি যে সমস্ত সমস্যা রয়েছে, আগামী দিনে তা কাটিয়ে উঠতে জেলাশাসককে বিশিষ্ট আইনজীবী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী শংকর চক্রবর্তী সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি শঙ্কর চক্রবর্তীর উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শংকর চক্রবর্তী বালুরঘাটের এক নম্বর উকিল।” তবে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে সভাধিপতি, নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করা হলেও এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেছে বিজেপিতে যোগ দেওয়া দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায়ের গলায়।

তিনি বলেন, “জেলাশাসক যে সমস্ত দাবি করেছেন, তা একেবারে ভিত্তিহীন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে আমার ফোন রিসিভ পর্যন্ত করেন না। দেখা করতে গেলে দেখা করেন না। আমি মিটিংয়ের জন্য চিঠি দিলেও জেলাশাসক কোনো উত্তর দেন না। আমি চাই জেলার উন্নয়ন হোক।” এমনকি জেলা পরিষদের অচলাবস্থা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে নিজের পিঠ বাঁচাতে জেলাশাসক অসত্য কথা বলেছে বলে অভিযোগ করেন সভাধিপতি। তবে জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি ললিতা টিগ্গা জানিয়েছেন, “মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসককে যে নির্দেশ দিয়েছেন, যাবতীয় সমস্যার সমাধান করে উন্নয়নের কাজ চালু করতে হবে। আশা করছি, এই নিয়ে প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগী হবে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা পরিষদ নিজেদের দখলে রাখলেও সভাধিপতি পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেওয়ায় কার্যত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় রাজ্যের শাসক দলকে। এমনকি সভাধিপতিকে বাদ দিয়ে উন্নয়নের কর্মকান্ড বাস্তবায়িত করতে অসুবিধার মুখে পড়তে হয় জেলা প্রশাসনকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সহ- সভাধিপতিকে নিয়ে কাজ করতে আগামী দিনে প্রশাসনকে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় কিনা! সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!