এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > জল্পনা বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর

জল্পনা বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর

৩০ জুলাই অসমে প্রকাশিত নাগরিকপঞ্জীর চূড়ান্ত তালিকা থেকে ৪০ লাখ বাঙালির নাম বাদ যাওয়ার জেরে তীব্র অসন্তোষের জন্ম হয়েছে গোটা রাজ্যে। এই বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই একের পর এক বিতর্ক সামনে আসছে। এবার বিতর্কের নতুন মাত্রা যোগ হল বঙ্গের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করায়।  গতকাল বিজেপির যুব শাখা ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার তরফ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হল নেত্রীর বিরুদ্ধে অসমের ডিব্রুগড়ের নাখারকাটিয়া থানায়। এই অভিযোগটি এরপর গুয়াহাটিতে পাঠানো হতে পারে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে সংবাদ মাধ্যমের খবর থেকে। কিন্তু কিসের ভিত্তিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হল খোদ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে? আসুন জেনে নেওয়া যাক্।

 

রাজনৈতিক সূত্রের খবর থেকে জানা যাচ্ছে, গতকাল দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবের এই অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে অসমের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে কড়া ভাষায় কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারকে আক্রমণ শানাতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি সরাসরি মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য ৪০ লাখ বাঙালিকে উদ্বাস্তু ঘোষণা করেছে অসমের বিজেপি সরকার।  ভোটে জেতার জন্যে তাঁদের এর কারসাজি। ৭১ সালের মার্চ পর্যন্ত যাঁরা এদেশে এসেছেন তাঁরা,সবাই এদেশের নাগরিক,এমনটাই দাবী করেন তিনি। কিন্তু অসম সরকার খ্রীষ্টান,মুসলিম এবং দলিত দের বিরুদ্ধেই পক্ষপাতিত্ব করছে। পদবি ধরে ধরে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কানি দিচ্ছে। এভাবে বিজেপি দেশকে ‘গৃহযুদ্ধের’ দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। এই প্রসঙ্গে তিনি আরো জানান,যদি বাঙালিরা বলে বিহারিদের থাকতে দেব না। দক্ষিণ ভারতের মানুষ ‌যদি বলেন উত্তর ভারতের লোকজনদের থাকতে দেব না। উত্তরভারতের লোক ‌যদি দাবী করে দক্ষিণ ভারতের লোকেদের থাকা ‌যাবে না তাহলে দেশের কী অবস্থা হবে? এমনটাই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে।

এছাড়া আরো জানান যে, এই দেশে জাতি-ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে একসঙ্গে একই পরিবারের মতো বসবাস করে ভারতীয়রা। এরপর বিষ্ময় প্রকাশ করেন,দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদের পরিবারের লোকজনদের নাম নাগরিকপঞ্জীতে নেই দেখে। এরকম বহু মানুষের নাম ওই তালিকায় নেই বলেও উষ্মা প্রকাশ করেন এদিন তিনি। বঙ্গের নেত্রী এদিন শুধু বাঙালিদের দিকে ঝুঁকেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হননি। প্রসঙ্গে টেনেছেন অন্যান্য ভাষাভাষীর মানুষদেরও। জানিয়েছেন, ওখানে শুধু বাঙালি নয়, সংখ্যালঘু, বিহারি, হিন্দু সবাই সমস্যায় পড়েছেন। গতকাল ‌যে ৪০ লাখ মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছিল তারা হঠাৎ আজ উদ্বাস্তু হয়ে গেল কীভাবে! তা জানতে চেয়ে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিলেন এদিন তিনি মোদীসরকারের বিরুদ্ধে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে,’ বিজেপি দেশকে গৃহযুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছে’- এ অভিযোগেই তীব্র আপত্তি বিজেপির যুব শাখার। তাঁদের দাবী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওইধরনের বেফাঁস মন্তব্য করে পাশাপাশি অবস্থানকারী দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা এবং ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। উল্লেখ্য,গত বছর জানুয়ারী মাসেও গুয়াহাটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কয়েকজনের আইনজীবীর তরফ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। এবছর ফের সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। বঙ্গের নেত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা জেরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বঙ্গের রাজনৈতিকমহলে। তবে এ ব্যাপারে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে।

 

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!