এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > বিজেপিকে আটকাতে বাম শরিকদের আন্তরিক ভাবে কাছে পাওয়ার প্রচেষ্টা শুরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

বিজেপিকে আটকাতে বাম শরিকদের আন্তরিক ভাবে কাছে পাওয়ার প্রচেষ্টা শুরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

১৯’এর লোকসভায় বিজেপি রুখতে ১৯ জানুয়ারি বিগ্রেড মহা জনসভার ডাক আগেই দিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মহা সমাবেশে কংগ্রেসের পাশাপাশি বিজেপি বিরোধীতায় বামেদেরও পাশে পেতে মরিয়া তৃণমূল নেত্রী। তাই ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে নিজের লেখা আমন্ত্রণপত্র বামফ্রন্টের তিন শরিক দল সিপিআই,আরএসপি এবং ফরওয়ার্ড ব্লকের কাছে পাঠিয়ে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তবে এখনো সিপিএম-এর কাছে নেত্রীর চিঠি পৌছায়নি। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেরলের মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য পিনারাই বিজয়নকে এই সমাবেশে বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। নেত্রীর সেই চিঠিতে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা এবং কেন বিজেপি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো উচিৎ তা নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।

নেত্রীর এই চিঠিতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে সিপিএম-এর রাজ্যনেতৃত্বরা। তবে তৃণমূলের বিগ্রেড সমাবেশে অংশগ্রহনের সম্ভাবনা আগেই বাতিল করেছে বামেরা। বিজয়ণ বা অন্য কেউ তৃণমূলের এই আমন্ত্রণে সাড়া দেবে না বলেই নিশ্চিত আলিমুদ্দিন কর্তারা। কারণ সকলেই অতীতে বিজেপি-তৃণমূলের আচরণ বিলক্ষণ জানেন আর বাংলা কোন রাজনৈতিক সময়ের সাক্ষী থাকছে সেটাও অজানা নয় কারো।

তবে নিজেদের দলের ব্যাপারে নিশ্চিত হলেও এ ব্যাপারে শরিকদলেরা কী সিদ্ধান্ত নেয়,তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিমান বসু-সূর্যকান্ত মিশ্রদের মনে। সিপিআইকে নিয়ে চিন্তা কম থাকলেও ফরওয়ার্ড ব্লক এবং আরএসপিকে নিয়ে উদ্বেগের কারণ রয়েছে। কারণ কংগ্রেসের হাত ধরে লড়াই করার ব্যাপারে শরিকদলগুলো আগে থেকেই আপত্তি জানিয়ে দিয়েছে,এমনতাবস্থা তাঁরা তৃণমূলের ডাকে সাড়া দেয় কিনা তার উপরই নির্ভর করে আছে জোটের ভবিষ্যত।

এদিন ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর পাওয়া চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করে বললেন,এখনো বিগ্রেডে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে তাঁরা কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আগামী সপ্তাহে দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে আলোচনার পরই তাঁরা এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। অন্যদিকে,আরএসপির রাজ্য সম্পাদক ক্ষিতি গোস্বামী চিঠি পাওয়ার ব্যাপারটি স্বীকার করে নিয়েছেন। জানিয়েছেন,বাঁকুড়ায় চলতি দলীয় রাজ্য সম্মেলনে বিষয়টি জানানো হবে।

সেখানেই সম্মিলিত উদ্যোগে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সিপিআইয়ের রাজ্যদপ্তরে এখনো চিঠি না পৌছালেও দলের সাধারন সম্পাদক সুধাকর রেড্ডির কেন্দ্রীয় দপ্তরে পৌছে গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণ বার্তা।দলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর আচরণকে দ্বিচারী বলেই উল্লেখ করলেন। যুক্তি,একদিকে তিনি রাজ্যকে বিরোধীশূন্য অবস্থানে দেখতে চাইছেন অন্যদিকে বিগ্রেড সমাবেশ বিরোধীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। এটা দ্বিচারিতা ছাড়া আর কি হতে পারে?

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি। ওদিকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র এদিন সাফ জানিয়ে দেন তৃণমূলের তরফ থেকে কোনো চিঠি তাঁরা পাননি। আর পাওয়ার প্রত্যাশাও করেন না। এমনকি কারা পেল তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যাথা নেই তাঁদের। বামেরা যদি তৃণমূলের ডাকে সাড়া না দেয় তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে,তা নিয়ে তীব্র চর্চা চলছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে।

আপনার মতামত জানান -
Top