এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > মমতার রোষানলে কারা? সর্বসমক্ষে কি বার্তা? তীব্র জল্পনা শাসকদলের অন্দরে?

মমতার রোষানলে কারা? সর্বসমক্ষে কি বার্তা? তীব্র জল্পনা শাসকদলের অন্দরে?

Priyo Bandhu Media


 

বিধানসভার পর লোকসভায় ভরাডুবির পর অবশেষে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় পা রাখতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, আগামী 19 তারিখ গঙ্গারামপুর স্টেডিয়ামে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক করতে আসলেও জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের কপালে এখন ঘাম ঝরতে শুরু করেছে।

কেননা গোষ্ঠী কোন্দলে জর্জরিত এই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এবার প্রশাসনিক বৈঠকের ফাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় নেতৃত্বদের কোনো বার্তা দেন কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন অনেকে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের অন্দরে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের এই প্রশাসনিক বৈঠক ঘিরে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।

জানা যায়, রবিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর স্টেডিয়াম মাঠে মুখ্যমন্ত্রীর সভার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা শাসক নিখিল নির্মল, জেলা পুলিশ সুপার প্রসন বন্দোপাধ্যায়, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী অর্পিতা ঘোষ সহ অন্যান্যরা। এদিন মুখ্যমন্ত্রী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীও গঙ্গারামপুর স্টেডিয়াম মাঠ পরিদর্শন করেন।

জানা গেছে, কলকাতার বিশেষ ডেকোরেটরের উদ্যোগে গঙ্গারামপুর স্টেডিয়ামের মাঠে বিশাল প্যান্ডেল করা হয়েছে। রাখা হয়েছে দু’শোর বেশি চেয়ার। যেখানে জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং পৌরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যানরা উপস্থিত থাকবেন। তবে প্রশাসনিক বৈঠক যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করবেন, এটা কারও অজানা নয়।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

কিন্তু গত 2016 সাল থেকে যেভাবে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় গোষ্ঠী কোন্দল শুরু হয়েছিল এবং তার কারণে যেভাবে এখানে হাত দেখতে হয়েছিল তৃণমূলকে, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি দলীয় নেতৃত্বকে কি কোনো বার্তা দেবেন! এখন তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।

একাংশ মনে করছেন, অর্পিতা ঘোষ সভাপতি হওয়ার পরেও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল বজায় রয়েছে। ফলে গোপনে গোপনে পিকের টিমের মাধ্যমে সেই খবর নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়ত বা সেই সমস্ত কোন্দল সৃষ্টিকারী নেতাদের সতর্ক করে দিতে পারেন। তবে তা প্রকাশ্যে করবেন, নাকি আলাদা করে দলীয় বৈঠকের মাধ্যমে করবেন! তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকের মধ্যেই। আর এই সব সংশয়েই এখন ঘুম ছুটছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের।

এদিন এই প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান তথা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী অর্পিতা ঘোষ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক নিয়ে আমাদের জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবার দুপুর দুটোয় এই প্রশাসনিক সভা হবে। আমাদের জেলায় দলীয় কর্মীদের মধ্যে আর কোনো সমস্যা নেই। আগে কি ছিল, জানি না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা সংঘবদ্ধভাবে লড়াই করে তার প্রমাণ দিয়েছি। জেলা পরিষদের সদস্যরা ভুল করে বিজেপিতে গিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই আজ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। গঙ্গারামপুর পৌরসভা আমাদের দখলে রয়েছে। এখানে একটাই দল তার নাম তৃণমূল কংগ্রেস। প্রশাসনিক সভার পর মুখ্যমন্ত্রী দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন কিনা, এই বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।”

এদিকে এই প্রসঙ্গে তপনের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাষ্ট্রমন্ত্রী বাচ্চু হাসদা বলেন, “আমাদের দলে এখন কোনো কোন্দল নেই। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। জেলায় আর আগের পরিবেশ নেই।” কিন্তু যে যাই বলুন না কেন, সমালোচক মহলের একাংশ বলছেন, প্রকাশ্যে নেতারা সুপ্রিমোর কোপের হাত থেকে রক্ষা পেতে এই ধরনের কথা বলছেন। তবে তারা নিজেও জানেন যে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তৃণমূলে ঠিক কতটা কোন্দল রয়েছে! আর তাই তাদের মনের কথা নেত্রী অনুধাবন করে এখন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এসে জেলা নেতৃত্বকে কোনো বার্তা দেন কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!