এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে এসেও মানুষের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন – অর্পিতার প্রচারে মমতার দাবি

মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে এসেও মানুষের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন – অর্পিতার প্রচারে মমতার দাবি

এবার বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের সমর্থনে ইটাহার ও বুনিয়াদপুরের জনসভা থেকে সেই অর্পিতা ঘোষেরই ভূয়শী প্রশংসা শোনা গেল দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার প্রথমে ইটাহার এবং পরে বুনিয়াদপুরের নারায়ণপুরে বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের হয়ে সভা করেন তৃণমূল নেত্রী। জানা যায়, এদিন প্রথমেই ইটাহারের সভায় যোগ দিয়ে রাজ্যের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর সেখানেই অর্পিতা ঘোষের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “যদি বলেন অর্পিতা ঘোষ কি করেছে, তাহলে বলি ও প্রতিদিন পার্লামেন্টে দ্রব্যমূল্যের বিরুদ্ধে, এনআরসির বিরুদ্ধে, নোটবন্দির বিরুদ্ধে ভারতবর্ষকে একত্রিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে লড়াই করেছে। 2016 সালে ওর একটা অ্যাক্সিডেন্টে হাত-পা ভেঙে যায়। ও লড়াই করে উঠে এসেছে। আপনারা ওকে আবার জিতিয়ে আনুন।”

আর এই ইটাহারের সভার পরই বুনিয়াদপুরের নারায়ণপুরের সভায় রওনা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানে গিয়ে ফের আরও একবার দলীয় প্রার্থী অর্পিতা ঘোষকে জেতানোর জন্য আবেদন জানান তিনি। সূত্রের খবর, এদিন বুনিয়াদপুরের নারায়ণপুরের এই সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সভাপতি বিপ্লব মিত্র, মন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা, প্রাক্তন মন্ত্রী শংকর চক্রবর্তী সহ অন্যান্যরা।

আর বুনিয়াদপুরের নারায়নপুরের সভাতে উপস্থিত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অর্পিতার সাথে বালুরঘাট নিয়ে আমার প্রায়ই ঝগড়া হয়। কখনও বলে বালুরঘাটে এটা করে দিন। গঙ্গারামপুর, তপন, বুনিয়াদপুরে ওটা করে দিন। ইটাহারের জন্য এটা করে দিন। ও আমার সঙ্গে কাজ নিয়ে ঝগড়া করুন, তবে সত্যিই যেন কাজ হয়। সেদিকে নজর দিতে হবে।” অন্যদিকে নারায়ণপুরের সভা থেকে বিগত 2016 সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় অর্পিতা ঘোষের ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথাটাও তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, “হিলিতে একটা দুর্ঘটনা হয়েছিল। অর্পিতার বাঁচার কথা ছিল না। ওর সারা দেহে আঘাত লেগেছিল। টানা এক বছর মেয়েটা লড়াই করেছে। যখন যা বলি ও তাই শোনে। ওকে আপনারা জেতান। অর্পিতা বালুরঘাটের মানুষের পাশে সব সময় থাকবে।” তবে বুনিয়াদপুরের নারায়নপুরের এই সভাতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখতে উঠে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতি কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

অনেকেই বলছেন, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম সভা বুনিয়াদপুরের রাস্তার ধারে করার কথা থাকলেও তা পরিবর্তন করে সেই রাস্তা থেকে অনেকটা ভিতরে করা হয়। আর তা নেত্রীকে না জানানোতেই এদিন মঞ্চে উঠে এই ব্যাপারে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। আর এরপরই অর্পিতা ঘোষকে জয়যুক্ত করানোর আবেদন জানানোর পাশাপাশি গত 2016 র বিধানসভা নির্বাচনে এই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে সিংহভাগ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীরা হেরে যাওয়ায় এদিন দিন সেই কথাও উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, “এর আগে এখানে তৃণমূলের দিক থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে ছিল। আমাদের কিছু ভুলত্রুটি ছিল। তবে বিরোধীরা জিতে কোনো কাজ এখানে করেনি। তাই ওদের ভোট দিয়ে আর আপনারা ভোট নষ্ট করবেন না।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে অর্পিতা ঘোষকে প্রার্থী করা নিয়ে এবার প্রথম থেকেই আপত্তি জানাতে দেখা গিয়েছিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তৃণমূলের সভাপতি বিপ্লব মিত্র এবং তার অনুগামীদের।

এমনকি প্রার্থী হিসেবে অর্পিতাদেবীর নাম ঘোষণা করার পর প্রকাশ্যে এই ব্যাপারে মুখ খুলতেও দেখা গেছে জেলা তৃণমূল সভাপতিকে। আর তাই জেলায় এসে অর্পিতা ঘোষের জয়ে যাতে কোনো কাটা না থাকে, তার জন্য কিছুটা সেন্টিমেন্টমূলক বক্তব্য দিয়ে সাধারণ মানুষের আবেগকেই কাজে লাগাতে চাইলেন তৃণমূল নেত্রী বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই টনিক আদৌ বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে কাজে দেবে কি না তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে আগামী 23 মে পর্যন্ত।

Top
error: Content is protected !!