এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > মালদা উত্তর ও দক্ষিণ আসনে জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল – কে পাচ্ছেন বিজেপির টিকিট? জল্পনা চরমে

মালদা উত্তর ও দক্ষিণ আসনে জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল – কে পাচ্ছেন বিজেপির টিকিট? জল্পনা চরমে

মালদা উত্তর দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বাছাই নিয়ে নাজেহাল অবস্থা গেরুয়াশিবিরের। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রীতিমতো দুই মেরুতে ভাগ হয়ে গিয়েছে মালদা বিজেপি শিবির। জেলা বিজেপির একাংশের দাবী,জনপ্রিয় সেলিব্রিটি বা রাজ্য বা জাতীয় স্তরের কোনো পরিচিত মুখকেই উত্তর এবং দক্ষিণ মালদায় প্রার্থী করা হোক।

অন্যদিকে,জেলা বিজেপি সভাপতি সঞ্জিত মিশ্রের ঘনিষ্ঠমহলের বক্তব্য,জেলা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কাউকেই প্রার্থী করা হোক। দুই পক্ষের দুটি ভিন্ন ধরণের মতামতের কারণে প্রার্থী বাছাই কর্মসূচি ঝুলে রয়েছে। এই অবস্থায় রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে মালদা জেলা বিজেপি। এই লোকসভা ভোটে প্রার্থী বাছাই নিয়ে দলীয় মহবিরোধের একটি সম্ভাবনা সংগঠনকে দূর্বল করতে পারে বলেই আশঙ্কা বিজেপি’র জেলা নেতৃত্বের একাংশের।

গত লোকসভা ভোটে মোদী ম্যাজিক কামাল দেখালেও উত্তর মালদহে তেমন চমক দেখাতে পারেননি বিজেপি প্রার্থী সুভাষকৃষ্ণ গোস্বামী। মৌসম নুরের থেকে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার ভোট কম পেয়ে চতুর্থ স্থানে ছিলেন তিনি। এই অবস্থায় আসন্ন লোকসভা ভোটে উত্তর মালদহ আসনে জিততে চাইছে বিজেপি।

এই প্রেক্ষিতে জেলা বিজেপি সভাপতির অনুগামীরা চাইছেন মৌসম নূরের মতো দাপুটে নেত্রীর বিরুদ্ধে উত্তর মালদার কোনো হেভিওয়েট নেত্রীকে। তৃণমূলের তরফ থেকে উত্তর মালদা লোকসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়াচ্ছে সম্প্রতি কংগ্রেস থেকে আসা সাংসদ মৌসম নূর।

দক্ষ সংগঠন এবং হেভিওয়েট এই নেত্রীকে টেক্কা দিতে হলে দলের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন প্রার্থী বেছে নেওয়াই সংগত হবে বলে মনে করছেন জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। অন্যদিকে,জেলা বিজেপির অন্য গোষ্ঠীর মতে,মৌসমের মতো একজন জনপ্রিয় এবং দাপুটে নেত্রীকে ধরাশায়ী করতে হলে বাইরের কোনো পরিচিত মহিলা মুখ বেছে নেওয়াই ঠিক হবে। এবং এই মহিলা মুখ যদি কোনো সেলিব্রিটি হন তাহলে তো একেবারে সোনায় সোহাগা।

একই ছবি দক্ষিণ মালদারও। এই আসনেও গত লোকসভা ভোটে দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিজেপি। বিজেপির বিষ্ণুপদ রায় কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরির (ডালু) কাছে প্রায় এক লক্ষ ৬৪ হাজারেরও বেশি ভোটে হেরে গিয়েছিলেন। তবে জেলা বিজেপির অনুগামীরা অবশ্য এর হারকে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ।

তাঁদের মতে,সিপিএম তৃণমূলকে পেছনে ফেলে বিজেপির দ্বিতীয় স্থানে আসাটাই যথেষ্ট কৃতিত্বের। তাই প্রার্থী পরিবর্তন না করার পক্ষেও সায় দিলেন তাঁরা। যুক্তি,গতবার বিজেপির তরফ থেকে লড়াই করা প্রার্থীটি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছেন এলাকায়। তাঁর এই জনপ্রিয়তার সূত্র ধরেই বিজেপির জয়ের দোরগোড়ায় পৌছাবে বলেই মনে করছে তাঁরা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে,বিজেপির অন্য পক্ষের যুক্তি,দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই এখানে। লক্ষ্যটা জয়ের। আর কংগ্রেসের শক্তিশিবিরে ডালুবাবুর মতো কংগ্রেসের একজন তিনবার জয়ী সাংসদকে টেক্কা দিতে গেলে রাজ্য বা জাতীয় স্তরের হেভিওয়েট কোনো বিজেপি নেতাকেই প্রার্থী করাটা উচিৎ হবে বলেই মনে করছেন তাঁরা।

জেলা বিজেপি সভাপতি সঞ্জিত মিশ্রের বক্তব্য,’আমাদের দলে প্রার্থী চূড়ান্ত করার নির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং ফোরাম রয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত সকলের জন্য প্রযোজ্য। তবে স্থানীয় মুখকে প্রার্থী করলে ভোটাররা অনেক সময় বিশ্বাস করেন যে সংসদ সদস্যকে প্রয়োজনে হাতের কাছে পাওয়া যাবে। তাই নীচু স্তরের অনেক নেতাকর্মী মালদহের দু’টি লোকসভা কেন্দ্রেই স্থানীয় স্তরের পরিচিত মুখদের প্রার্থী করার কথা বলছেন।’ তবে এখনই কিছু চূড়ান্ত করা হয়নি। সব দিক বিবেচনা করে ভেবে চিন্তেই নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থী নির্বাচন করা হবে বলে জানালেন তিনি।

জেলা সভাপতির এই বক্তব্যকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে পাল্টা শিবিরের বক্তব্য,প্রার্থী বাছাই করার আগে এটা মাথায় রাখতে হবে যে ডালুবাবু বা মৌসম একাধিক বারের জয়ী সাংসদ। তাই এঁদেরকে টেক্কা দিতে গেলে এমন প্রার্থী প্রয়োজন যাঁরা এঁদেরকে হারানোর ক্ষমতা রাখেন। তা না হলে ফের মালদা উত্তর এবং দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপিকে হারতে হবে বলেই মনে করছেন করছেন তাঁরা। এই প্রেক্ষিতে মালদার এই দুটি লোকসভা কেন্দ্র প্রার্থী নির্বাচন করতে রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে জেলা বিজেপি শিবির।

উল্লেখ্য,মালদা উত্তর এবং দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র বিজেপির তরফ থেকে কে ভোটে দাঁড়ায় তা নিয়ে বিন্দুমাত্রও মাথা ঘামাতে রাজি নয় তৃণমূল। এমনটাই বললেন জেলা তৃণমূল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। মৌসম নূরকে উত্তর মালদহে প্রার্থী করার পর থেকেই প্রচারের ঝড় উঠেছে জেলায়।

মৌসমের নেতৃত্বই উত্তর মালদহে কামাল দেখাবে তৃণমূল,এমনটাই আশা জোড়াফুল শিবিরের। ওদিকে দক্ষিণ মালদহেও জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত শাসকদল। তৃণমূলের এই আত্মবিশ্বাস বিজেপির মনোবল ভাঙতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে বলেই জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনৈতিকমহলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!