এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > মালদা উত্তরে তৃণমূলের “সন্ত্রাসে” ক্ষোভে ফুঁসছে বিজেপি-বাম, প্রচারই বয়কট করে প্রতিবাদে কংগ্রেস

মালদা উত্তরে তৃণমূলের “সন্ত্রাসে” ক্ষোভে ফুঁসছে বিজেপি-বাম, প্রচারই বয়কট করে প্রতিবাদে কংগ্রেস

লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজার কিছুদিন আগেই একদা গনি গড় বলে পরিচিত কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি মালদহে গনি পরিবারের অন্যতম সদস্য তথা উত্তর মালদহের বিদায়ী সাংসদ মৌসম বেনজির নূর কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরই উত্তাল হয়ে ওঠে মালদহের রাজনীতি।

এদিকে মৌসম কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরই তাঁকে উত্তর মালদহের তৃণমূল প্রার্থী বলে ঘোষণা করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে এইখানে কংগ্রেসের তরফে প্রার্থী করা হয় সেই মৌসমেরই দাদা ইশা খান চৌধুরীকে। আর বোন বনাম দাদার রাজনৈতিক লড়াইয়ে যখন জমজমাট উত্তর মালদহ লোকসভা কেন্দ্রের প্রচার পর্ব, ঠিক তখনই এবার নির্বাচনী প্রচারে দলীয় কর্মী সমর্থকরা তৃণমূলের দ্বারা আক্রমনের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে প্রচার প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন উত্তর মালদহ লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী ইশা খান চৌধুরী।

আর কংগ্রেসের এহেন সিদ্ধান্তের পেছনে তাহলে কি ভোটের আগেই তারা হেরে গেছে এই আশঙ্কা করেই প্রচার প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নিল হাত শিবির – তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। কিন্তু কেন কংগ্রেস এই সিদ্ধান্ত নিল? জানা গেছে, গত শনিবার রতুয়ায় কংগ্রেসের হয়ে প্রচারের ছিলেন অভিনেত্রী নাগমা।

আর ওই সভাতেই তৃণমূল ভয় দেখিয়ে অনেক সাধারণ মানুষকে আসতে দেয়নি বলে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে উত্তর মালদহ লোকসভার কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী ইশা খান চৌধুরী। পাশাপাশি রবিবার চাচোল 1 ব্লকের কলিগ্রামে কংগ্রেসের পথসভা চলাকালীন কংগ্রেস কর্মী আব্দুস সালামের উপরে তৃণমূল হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা।

পাশাপাশি বামোনগোলায় এক কংগ্রেস কর্মীর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আর একের পর এক দলীয় কর্মী সমর্থকদের ওপর এহেন হামলা এবং অত্যাচারের ঘটনায় এবার প্রচার প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে নিলেন উত্তর মালদহ লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী ইশা খান চৌধুরী।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

জানা গেছে, সোমবার সকালে চাচোলের এসডিও অফিসের সামনে হাজির হয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বরা এই ব্যাপারে প্রবল বিক্ষোভ শুরু করে। আর সেখানেই উপস্থিত হয়ে উত্তর মালদহ লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী ইশা খান চৌধুরী বলেন, “তৃণমূল নিয়মিত আমাদের উপর সন্ত্রাস চালাচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই আমি প্রচার কর্মসূচী স্থগিত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নির্বাচন কমিশন হস্তক্ষেপ না করলেন আমাদের কর্মীরা আমার জন্য প্রচার করে নিজেদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করুক আমি তা হতে দেব না।”

অন্যদিকে দলীয় কর্মীদের ওপর তৃণমূলের আক্রমণ দেখে চরম দুঃখ পেয়েছেন ইশা খান চৌধুরী। তাই তিনি এই কথা বলেছেন বলে জানান মালদহ জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোস্তাক আলম। তবে কংগ্রেস প্রার্থী প্রচার স্থগিত রাখার ব্যাপারে মন্তব্য করলেও এর পেছনে তৃণমূল এবং কংগ্রেসের মধ্যে সমঝোতাকেই প্রকাশ্যে আনছে বিরোধী দল বামফ্রন্ট এবং বিজেপি।

এদিন এই প্রসঙ্গে মালদহ জেলা বিজেপির সভাপতি সঞ্জিত মিশ্র বলেন, “সন্ত্রাসের অভিযোগ ঠিক। কিন্তু আমরা কংগ্রেস প্রার্থীর মতো হাত গুটিয়ে থাকব না। বরং আমাদের কর্মীদের বলে দেওয়া হয়েছে প্রতিরোধের রাস্তায় হাঁটতে। আর তাহলেই তৃণমূলকে যোগ্য জবাব দেওয়া যাবে।”

এদিকে বিজেপির পথে হেটে একই কথা শোনা গেছে মালদহ জেলা সিপিএমের সম্পাদক অমর মিত্রের গলাতেও। সব মিলিয়ে এবার উত্তর মালদহ লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের সন্ত্রাসের কথা তুলে ধরে প্রচার প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন উত্তর মালদহ লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী ইশা খান চৌধুরী। আর যে ঘটনা নিয়ে এখন তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলের অন্দরে।

Top
error: Content is protected !!