এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মহুয়া মৈত্র থেকে রিক্তা কুন্ডু! শাসকদলের অস্বস্তি নদীয়াতে ক্রমশই বাড়ছে, টের পেলেন পর্যবেক্ষক

মহুয়া মৈত্র থেকে রিক্তা কুন্ডু! শাসকদলের অস্বস্তি নদীয়াতে ক্রমশই বাড়ছে, টের পেলেন পর্যবেক্ষক

2019 সালের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে আশানুরুপ ফল করতে পারেনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। আর বিরোধী দলের নেতা তথা বঙ্গ বিজেপির চানক্য মুকুল রায় ঘোষণা করেছিলেন 19 সালের নির্বাচনের পর প্রকাশিত হওয়ার পরই ঝাকে ঝাকে তৃণমূল নেতা দল পরিবর্তন করে ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে শামিল হয়ে যাবে। তারপরে কথা মিলিয়ে অনেক নেতা বিধায়ক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছে। আর এবার সেই দলবদলের হাওয়াকে উস্কে দিয়েছে লোকসভায় তৃণমূলের হয়ে প্রায় সব থেকে বেশি সরব হওয়া সাংসদ মহুয়া মৈত্রর নাম।

উল্লেখ্য গত সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পরেই ফ্যাসিস্ট সরকারের রূপরেখা নিয়ে সংসদের জোরদার বক্তব্য রাখেন কৃষ্ণনগরের সংসদ মহুয়া মৈত্র। তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে অনেকটা বেশি গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে ওঠে সদ্য নির্বাচনে জয়ী সাংসদ মহুয়া মৈত্র এর। কিন্তু এবার দিলীপ ঘোষের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রীতিমতো সরগম বাংলা রাজনীতি।

বাংলা সিনেমার এক সময়কার বিখ্যাত অভিনেত্রী দেবশ্রী রায় এর ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান নিয়ে অনেকদিন আগের থেকেই জলঘোলা হতে শুরু হয়েছিল গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। কারণ শোভন চট্টোপাধ্যায় দলে যোগ দেওয়ার পর জানিয়ে দিয়েছিলেন দেবশ্রী ভারতীয় জনতা পার্টিতে আসলে তিনি পার্টির সেবা করতে পারবেন না এরপরে শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তার বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগদান করলেও দেবশ্রীকে নেওয়ার ব্যাপারে রীতিমতো দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সবই পরিবর্তিত হয় তাই এবার দেবশ্রী রায়কে দলে যোগদান প্রসঙ্গে একমত হতে পারেনি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। তাই বর্তমানে দেবশ্রী রায় না ঘরকা না ঘাটকা অবস্থান করছেন। কিন্তু দেবশ্রীর ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ তা বারবার শোনা গেছে রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্ব দের গলায়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

 

পাশাপাশি এটাও বাস্তব রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বের যতবার দেবশ্রী রায় বিজেপিতে যোগদানের ব্যাপারে মুখ খুলেছেন ততবার শোভন-বৈশাখী তরফ থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে। অবশেষে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানালেন কেন তিনি দেবশ্রী রায় এর সঙ্গে কথা বলেছেন। দীলিপবাবু জানান লোকসভায় তার সতীর্থ কৃষ্ণনগরের সংসদ মহুয়া মৈত্র তাকে ফোন করে অনুরোধ করেন দেবশ্রী রায় এর সঙ্গে কথা বলার জন্য সেজন্যেই দীলিপবাবু দেবশ্রী রায় এর সাথে কথা বলেছেন।

আর দিলীপ বাবুর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এখন উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। সকলেরই প্রশ্ন তাহলে কি বিজেপির সঙ্গে গোপন ভাবে সম্পর্ক রেখে চলেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ তথা নদিয়া জেলা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্র? যদিও গোটা ব্যাপারটিকেই ভুল বলে জানিয়েছেন মহুয়া। তিনি সাংবাদিকদের কে বলেন আপনারাই বলুন এমন ঘটনা কি সম্ভব? দীলিপবাবু রসিক মানুষ তাই রসিকতা করেছেন কিন্তু, গত লোকসভা নির্বাচনের পরে যেভাবে তৃণমূল নেতারা দলবদল করেছেন তাতে এক বাক্যেই কারো কত যে বিশ্বাস করে নেওয়া যায় না সে বিষয়ে নিশ্চিত প্রায় সকলেই।

আর মহুয়া মৈত্র এর দলীয় কার্যকলাপ নিয়ে অনেকবারই প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূল দলের অন্দরে। গতকাল তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্যদেরকে নিয়ে নদীয়া জেলার জেলা পরিষদ ভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়. যেখানে পৌরহিত্য করেন তৃণমূলের নদীয়া জেলার পর্যবেক্ষক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বস্তুত জেলার সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই মিটিং হয়েছিল কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন মহুয়া যে কারণে মিটিংয়ে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়তে হয় রাজীবকে।

এখানে প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে দলের এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এ কেন অনুপস্থিত সাংসদ মহুয়া মৈত্র? তাহলে কি বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের ফোনের কথা চাউর হতেই আড়াল করা হচ্ছে মহুয়াকে? সেই কারণেই কি বৈঠকে তিনি অনুপস্থিত? যদিও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে জেলার বাইরে আছে মহুয়া।তিনি বলেন আমার সঙ্গে আজ ওর কথা হয়েছে কাল ও কথা হয়েছে।

দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের ব্যাখ্যা তিনি নিজেই দিয়েছেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও তার বক্তব্য জানিয়েছেন কিন্তু মহুয়াকে নিয়ে তৃণমূলের অস্বস্তি নতুন নয়। এর আগেই জেলার সংগঠনের দুটি স্তরের বৈঠক করার নির্দেশ জানিয়ে মহুয়া মৈত্র যে চিঠি বলেছিলেন তার নিচে বাই অর্ডার কথাটি লেখা ছিল। যার কারনে রীতিমতো শোরগোল তৈরি হয় জেলা রাজনীতির অন্দরে।

এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এবং জেলার পর্যবেক্ষককে চিঠিও করেন নাকাশিপারার বিধায়ক কল্লোল খাঁ। এই দিন এই চিঠির প্রসঙ্গ উঠলে পরে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায় দলীয় পর্যবেক্ষক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন কী করেই চিঠি সংবাদমাধ্যমের কাছে গিয়ে পৌঁছলো কল্লোল খাঁ যদি কিছু বলে থাকেন তাহলে সেটার দলনেত্রীকে বলেছেন আর পর্যবেক্ষক হিসেবে আমার কাছে এসেছে। এই বিষয় নিয়ে আমি সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলব না।

 

এছাড়াও মহুয়া মৈত্রকে নিয়ে লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই দলীয় কর্মীদের মধ্যে নানান রকম অভিযোগ লক্ষ করা যায়। ফোনে না পাওয়া, জেলায় দেখা না যাওয়া,একাধিক বিষয় নিয়ে এর আগেও অভিযোগ জানিয়েছেন বিধায়ক কল্লোল খাঁ। আর পরপর এই অভিযোগগুলো দলের পক্ষে কতটা অস্বস্তিকর তা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি রাজিব বাবু। তিনি শুধু বলেন আমি দলের একজন অনুগত সৈনিক। যেটুকু বলার তা দলনেত্রী কে বলব। আর আগামীতে যদি এরকম নির্দেশ দেয় সেই মতই যা করার করব।

এ দিনের দলীয় সভা শুরুর আগে থেকেই এক এক করে উপস্থিত হতে থাকেন জেলা পরিষদের সদস্যরা আর তাদের মধ্যে দেবশ্রী, মহুয়া ও দিলীপকে নিয়ে মুখরোচক আলোচনা হতে শোনা যায়। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ কিছুই বলতে চায়নি। মুচকি হেসে জেলা পরিষদের এক সদস্য বলেন, বলব বলব আগে দেখে নিই দল কি ব্যবস্থা নেয়।

এরপরে বৈঠক শুরু হলে পরে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায় নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি রিক্তা কুন্ডুকে। কোন কোন সদস্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তিনি নাকি সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন সদস্যদের অভিযোগ অনেক সময় কথা বলতে গিয়ে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন সভাধিপতি। পরে অবশ্য রিক্তা এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। দলীয় সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী সভাধিপতি রিক্তা কুন্ডু দাবি করেন এটাই তার কথা বলার ধরন এটা তার দোষের মধ্যে পড়ে। ইচ্ছাকৃতভাবেই তিনি কাউকে আঘাত করতে চান না যদিও পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেন সভায় এমন কিছুই হয়নি।

অন্যদিকে গত ৮ ই আগস্ট কৃষ্ণনগর পৌরসভার সভা কক্ষে তেহট্টের জেলা পরিষদ সদস্য টিনা ভৌমিক অভিযোগ করেন তার এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ হলে তাকে কিছুই জানা হয় না। আর রাজিব বাবু স্পষ্ট জানিয়ে দেন এলাকায় উন্নয়নের কাজ হলে সেখানকার সদস্যকে অবশ্যই জানাতে হবে। সেইসঙ্গে পূর্ত সেচ ইত্যাদি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে কাজ করতে হবে। এদিন এক মাস অন্তর অন্তর জেলা পরিষদ সদস্যদেরকে বৈঠক করার নির্দেশ দেন। তৃণমূলের জেলা পর্যবেক্ষক এই নির্দেশ দলনেতা চঞ্চল দেবনাথ কে জানিয়ে দেন রাজিব বাবু সব কিছু মিলিয়ে মহুয়া থেকে শুরু করে রিতা একাধিক ইস্যুতে নদীয়া জেলার রাজনীতি যে একেবারে জমে উঠেছে সে বিষয়ে একমত প্রায় সকলেই।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!