এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > সুপ্রিম রায়ে এবার কি তাহলে অস্তিত্বসংকটের মুখে পড়তে চলেছে টেলিকম কোম্পানীগুলি ?

সুপ্রিম রায়ে এবার কি তাহলে অস্তিত্বসংকটের মুখে পড়তে চলেছে টেলিকম কোম্পানীগুলি ?

লাইসেন্স ফি এবং স্পেকট্রাম ব্যবহারের চার্জ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুরনো বছরের শেষ লগ্নে মাথায় হাত পড়ে ছিল দেশের টেলিকম সংস্থাগুলির ওপর। তার মধ্যে ভোডাফোনের উপর ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেড়ে গেছিল, যে বাজারে গুজব রটেছিল যে তাঁরা তাঁদের ব্যবসা গুটিয়ে চলে যেতে চলেছে। তবে সাময়িকভাবে সমস্ত আশঙ্কাকে অস্বীকার করে পরিষেবার চার্জ বাড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভোডাফোন। অন্যদিকে, ক্রেতা সুরক্ষা সংগঠন টেলিকম দপ্তরের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করে। যেখানে অভিযোগ করা হয় লাইসেন্স ফি এবং স্পেকট্রাম ব্যবহারের চার্জ সময়ে না মেটালে টেলিকম সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না কেন্দ্র।

আর এর পরেই সুপ্রিম কোর্ট চাপ দেওয়া শুরু করে টেলিকম ডিপার্টমেন্টের ওপর। সুপ্রিমকোর্টের পক্ষ থেকে তীব্র হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় নির্দেশ না মানার জন্য। এবার সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে। আর তারপরেই টেলিকম ডিপার্টমেন্ট তাঁদের নির্দেশে বদল আনে। মোবাইল কোম্পানিগুলোকে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে, মাঝরাতের মধ্যে তাঁদের বকেয়া মেটাতে হবে। সূত্রের খবর, জানুয়ারি মাসে টেলিকম ডিপার্টমেন্টগুলি তাঁদের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছিল, ঋণগ্রস্ত টেলিকম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কোনরকম শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা যাবেনা। কিন্তু এবার আর সেই নির্দেশ বলবৎ থাকবে না।

ইতিমধ্যে জানা গেছে, লাইসেন্স ফি এবং স্পেকট্রাম চার্জ বাবদ টেলিকম কোম্পানীগুলির সরকারের কাছে প্রায় হাজার হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। সেই টাকা এবার মেটানোর সময় হাজির। এদিন শুনানির সময় বিচারপতি অরুণ মিশ্র প্রশ্ন করেন, দেশের আইন ব্যবস্থা আছে কিনা তা নিয়ে। এমনকি তিনি টেলিকম ডিপার্টমেন্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর মাসে সুপ্রিমকোর্টে দীর্ঘ 14 বছর এর মামলায় অবশেষে সরকারের পক্ষ নিয়ে কোর্ট রায় দেয়।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এই রায়ের ফলে দেখা যায়, দেশের সুবৃহৎ টেলিকম কোম্পানিগুলির ওপর বৃহৎ অঙ্কের বকেয়া টাকা চেপে রয়েছে। যার মধ্যে ভোডাফোন আইডিয়ার রয়েছে 53 হাজার কোটি টাকা। ভারতী এয়ারটেলের বকেয়া রয়েছে 35 হাজার 500 কোটি টাকা এবং ভারত থেকে ব্যবসা গুটিয়ে চলে যাওয়া টাটা টেলি সার্ভিসেসের বকেয়া রয়েছে প্রায় 14 হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে টাকার অঙ্ক পৌঁছে গেছে প্রায় 92 হাজার কোটি টাকায়। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এতগুলি টাকা এক রাতের মধ্যে কিভাবে টেলিকম কোম্পানিগুলি জোগাড় করবে? এই মুহূর্তে টেলিকম কোম্পানী গুলির কাছে শিওরে সংকট।

অন্যদিকে, টেলিকম বিশেষজ্ঞদের মতে এয়ারটেল, ভোডাফোন বা টাটা টেলিসার্ভিসেস ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে বকেয়া মেটানোর জন্য বাড়তি সময় চেয়ে। আগামী সপ্তাহে সেই আবেদনের শুনানি হবে বলে জানা গেছে। অতএব পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এতগুলি টাকা এক রাতের মধ্যে টেলিকম কোম্পানিগুলি মেটাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করেছে টেলিকম বিশেষজ্ঞরা। আবার, টেলিকম দুনিয়ার একাংশের প্রশ্ন, জোরজবরদস্তি করে আদায় করতে গিয়ে যদি কোন টেলিকম কোম্পানি ইতিমধ্যে ঝাঁপ বন্ধ করে দেয় তাহলে তো গ্রাহকরাই মূল অসুবিধায় পড়বে। গ্রাহকদের অসুবিধার কথা তাহলে কে চিন্তা করবে? আপাতত এই সমস্ত সমস্যার সমাধান কি হবে সেদিকে লক্ষ্য রাখছেন টেলিকম বিশেষজ্ঞরা

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!