এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > প্রকাশ্যে এল মদন মিত্রর নতুন স্টিং! একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগের ঝড়! নিশানায় খোদ দলনেত্রী!

প্রকাশ্যে এল মদন মিত্রর নতুন স্টিং! একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগের ঝড়! নিশানায় খোদ দলনেত্রী!

রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বর্ণময় চরিত্রের নাম মদন মিত্র। তৃণমূল কংগ্রেসের এই দাপুটে নেতা একদিকে একসময় যেমন ক্রীড়া ও পরিবহনের মত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর সামলেছেন। অন্যদিকে, সেই তাঁকেই আবার সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যেতে হয়েছে! তিনিই রাজ্য-রাজনীতিতে প্রথম ব্যক্তি – যিনি জেলে থাকাকালীন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। আবার তিনিই ভাটপাড়া উপনির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট পেয়ে – তাকে ভারতরত্ন পাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ফলে মদন মিত্র মানে একদিকে যেমন তুমুল জনপ্রিয়তা – আবার মদন মিত্র মানেই তীব্র বিতর্ক। এর আগে সারদা কাণ্ডে তাঁর নাম জড়ানোর পাশাপাশি, নারদের স্টিং অপারেশনের ভিডিওতেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। আর এবার, আবার স্টিং অপারেশনের ‘শিকার’ মদন মিত্র। এক সর্বভারতীয় নিউজ চ্যানেলের করা স্টিং অপারেশনে মদন মিত্র একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনে ঝড় তুলে দিলেন রাজ্য-রাজনীতিতে।

সবথেকে বড় কথা এই স্টিং অপারেশনে দেখা যাচ্ছে – তাঁর অভিযোগের তীর সরাসরি তৃণমূল নেত্রী ও তাঁর পরিবারের দিকে। ওই নিউজ চ্যানেলে প্রকাশিত স্টিং অপারেশনে দেখা যাচ্ছে মদন মিত্র কথা শুরু করছেন ইংরেজিতে, কিন্তু পরে তিনি বাংলাতেও কথা বলছেন। ‘স্পাই ক্যামেরার’ উল্টোদিকে আছেন এক মহিলা কন্ঠী! মদন মিত্র কথা শুরুই করছেন ‘ক্ষমতা দুর্নীতি ডেকে আনে’ বলে! এর সাথেই তিনি জানিয়েছেন – অ্যাবসলিউট পাওয়ার কোরাপ্টস অ্যাবসলিউটলি!

এরপরে মদনবাবু তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও স্পষ্টভাবে নিজের মত জানিয়েছেন। তাছাড়া, তৃণমূলের খারাপ পারফর্মেন্সের জন্য তৃণমূলের প্রতি মানুষের বিতৃষ্ণা নয়, দায়ী করেছেন তৃণমূলের নেওয়া কিছু ‘ভুল’ সিদ্ধান্তকে। আর সেই ভুল সিদ্ধান্তের পিছনে যে আসলে ‘দিদি’ তাও তিনি মেনে নিয়েছেন! এমনকি, জয় শ্রীরাম ধ্বনি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদক্ষেপ ‘খারাপ অ্যাটিচুড’ বলে মনে করেছেন মদনবাবু।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

মদনবাবু এছাড়াও জানিয়েছেন, এই সব ঘটনার জন্য ‘দিদি’ এবং তাঁর পরিবার দায়ী। এবং সেই প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘দিদির পরিবার’ মানে শুধু ‘অভিষেক’ নন, ‘দিদির ভাইয়েরা এবং তাঁদের স্ত্রীরা’ দায়ী! এমনকি ‘জয় শ্রীরাম’ শুনে দিদির ‘অবজেকশন’ কেন ছিল প্রশ্ন করা হলে মদনবাবু জানিয়েছেন, মমতা ব্যানার্জি মনে করেছিলেন যে তাঁর বিরুদ্ধে একটা ‘পপুলার স্লোগান’ উঠে আসছে, যেটা তাঁকে ‘হার্ট’ করতে পারে। কেননা এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক’ সহ ‘মূল শক্তিকেন্দ্রে’ ক্ষতি হয়ে যেতে পারে!

এরপরেই বিস্ফোরকভাবে মদনবাবু দাবি করেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়লে পার্টি জিতবে না, এই ‘ভয়’ থেকেই ‘মেরে জেতার’ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। আর যখন দেখা গিয়েছিল ‘মেরেও জেতা যাবে না’, তখন ‘পুলিশকে দিয়ে জেতার’ ব্যবস্থা করা হয়েছিল! তবে শুধু পুলিশ নয়, পঞ্চায়েতে জেতার জন্য ‘প্রশাসনকেও’ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মদন বাবু।

মদনবাবু বিস্ফোরকভাবে জানান, নির্বাচন কমিশন একদিনে নির্বাচন করতে চায় নি, কিন্তু ‘মমতা ‘ জোর করাতেই তা হয়। আর তারফলে অন্তত ১৫০ জনের প্রাণহানি হয় – যেটা সবথেকে মারাত্মক! সেই মৃত্যুর সংখ্যা এখনও পর্যন্ত আরও বেশি, যা শুধুমাত্র হারের ভয় থেকেই বলেও দাবি করেছেন তিনি! আর বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস পুরোপুরি পুলিশ ও প্রশাসন দিয়ে পরিচালিত হয় বলেও দাবি করেছেন তিনি।

মদনবাবু আরও দাবি করেছেন, বিভিন্ন বিধানসভায় ‘পার্টির মিটিং’ করার জন্য ‘পুলিশ ফোন করে’ ব্যবস্থা করছে! এমনকি ভাটপাড়া উপনির্বাচনের সময় যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিল সেই সময় ‘সংখ্যালঘুদের মৃতদেহ’ নিয়েও রাজনীতি করার চেষ্টা করেছিল তৃণমূল বলে জানিয়েছেন মদনবাবু। আর দিদির এইসব ‘ভুল’ ও ‘ফুলিশ ডিসিশনের’ জন্যই এইসব হচ্ছে – বলে দাবি তাঁর!

সবথেকে বড় কথা ভাটপাড়াই শেষ নয়, গোটা বাংলা জুড়েই আগামীদিনে আরও এইধরনের ঘটনা আরও হবে বলেও দাবি করেন মদন মিত্র। একই সাথে মদনবাবু আরও জানান, আগামীদিনে যে কত নির্বাচন হবে, সেখানে তৃণমূল ‘গোহারা’ হারবে! মেরেধরে যে কত আসন পাওয়ার পাওয়া যাবে – তাতে অবশ্য ‘ওর’ কোনো ক্রেডিট নেই!

যদিও এই স্টিং অপারেশন ভিডিওর সত্যতা প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার তরফে যাচাই করা সম্ভব হয় নি। এই প্রবন্ধ সম্পূর্ণরূপে ওই সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও স্টিং অপারেশনের পরিপ্রেক্ষিতে করা, কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় বা কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে রচিত নয়।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!