এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > তৃণমূলের শহীদ দিবস ছেড়ে মদন মিত্রের নতুন পদক্ষেপ, চূড়ান্ত জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

তৃণমূলের শহীদ দিবস ছেড়ে মদন মিত্রের নতুন পদক্ষেপ, চূড়ান্ত জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

সারদা কাণ্ডে দুর্নীতির দায়ে বহুদিন শ্রীঘরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। দলের সঙ্গে বহুদিন সেইভাবে সম্পর্ক ছিল না তাঁর বলেও গুঞ্জন। কিন্তু দীর্ঘদিন বাদে শ্রীঘর থেকে বেরিয়ে প্রায়শই রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন বক্তব্য শোনা যেত রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্রের। আর এহেন মদন মিত্রকে একটা রাজনৈতিক সুযোগ দেওয়ার জন্য সম্প্রতি ভাটপাড়া বিধানসভা উপনির্বাচনে টিকিট দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে নেত্রী সুযোগ দিলেও তার সদ্ব্যবহার করতে পারেনি মদনবাবু। অর্জুন পুত্র পবন সিংয়ের কাছে গোহারা হেরেছেন তিনি। আর এরপর থেকেই তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দলেরই একাংশ নানা প্রশ্ন তুললে, কিছুদিন আগেই কিছুটা বেসুরো সুর গাইতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সৈনিককে। আর এরপর থেকেই মদন মিত্রের বিজেপি যোগের জল্পনা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠতে শুরু করে। তবে তৃণমূল ছেড়ে তিনি অন্য কোথাও যাচ্ছেন না বলে বারে বারেই জানিয়ে দেন রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী।

কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই রামকে নিয়ে যেভাবে শাসক দল তৃণমূল বনাম বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে তুমুল তরজা শুরু হয়েছে, যেভাবে রামনাম শুনলেই দলনেত্রী বিরক্ত হচ্ছেন, সেকথা জেনেও এবার সেই রামেরই ভজনা করতে দেখা যাচ্ছে মদন মিত্রকে। সূত্রের খবর, একুশে জুলাইয়ের আগেই প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রীর বাড়িতে এই রামকথার আসর বসতে চলেছে। যা নিয়ে এখন তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে নানা মহলে। অনেকে বলছেন, বিজেপি যে রাম নামের স্লোগান দেয়, তাকে নাথুরামের সঙ্গে তুলনা করে তৃণমূল। কিন্তু সেই রামের ভজনা করে তাহলে কি বিজেপির সাথে নিজের সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছেন মদন মিত্র?

বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, রাজনীতিতে সম্ভব অসম্ভব বলে কিছু না থাকলেও ধর্মের সঙ্গে কেন রাজনীতিতেকে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে? সকলেই জানেন মদন মিত্র রাম ভক্ত, তাই তিনি রাম সেবায় ভগবান রামের ভজনা করছেন। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি তাঁর অনুগামীদের। তবে দাদার ভাইয়েরা যে দাবিই করুন না কেন, সারদা কাণ্ডের পর মদনবাবু শ্রীঘরে গেলে, যেভাবে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন – তাতে অনেক অভিমানই জমা হয়ে থাকতেই পারে, বলে মনে করছেন অনেকেই!

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে, শ্রীঘর থেকে ফিরে মদন মিত্র যখন দলের মূল স্রোতে আসবার চেষ্টা করেছিলেন, তখন কিন্তু তাঁর পাশের বিধানসভায় উপনির্বাচনের প্রচারেও তাঁকে ডাকা হয় নি! যা নিয়ে তিনি অভিমান করে নিজেকে ‘লাস্ট বয়’ বলে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন তখন। এদিকে ‘ভাই’ মদন মিত্রের প্রতি স্নেহবসত ভাটপাড়া বিধানসভা উপনির্বাচনে তাকে টিকিট দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী বলে অনেকেই দাবি করেন, এমনকি মদনবাবু নিজে বলেছিলেন ভাটপাড়া উপনির্বাচনে টিকিট দিয়ে তাঁকে নাকি ‘ভারতরত্নের’ থেকে বড় সম্মান দিয়েছেন নেত্রী!

কিন্তু মদনবাবুর নিজের গড়ে কান পাতলে যে অন্য কথা শোনা যাচ্ছে! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অংশের বক্তব্য, মদনবাবুকে তো প্রাথমিকভাবে রায়গঞ্জে লোকসভার টিকিট দেওয়া হবে বলে ঠিক ছিল। তাতো হয় নি – তাহলে দিদির স্নেহের ‘বর্ষণ’ ঠিকঠাক হলো কই? অন্যদিকে, ভাটপাড়াতে তৃণমূল প্রার্থী হারবেন একথা প্রায় সকলেই জানতেন। তা সত্ত্বেও, কামারহাটি পৌরসভার এক দাপুটে নেতার রাজনৈতিক জমি ‘খালি’ করতেই কি তাঁকে ভাটপাড়াতে হারতে পাঠানো হয়েছিল? যাতে করে বলা যায়, পরপর দুবার হারা নেতাকে আবার টিকিট দিলে দলের ‘মুখ পুড়বে’!

কেননা শ্রীঘরে থাকলেও ২০১৬ তে টিকিট দিয়েছিলেন দলনেত্রী, সেখানে অল্প ব্যবধানে কিজন্য হার হয়েছিল, সেকথা নাকি কারোরই জানতে বাকি নেই – কামারহাটি জুড়ে। অথচ, মদনবাবুর হারের পিছনে থাকা ‘হাতগুলোর’ বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয় নি। এদিকে, ভাটপাড়াতেও সাফল্য না আসায়, একদা দাপুটে নেতার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে – বলেও গোপন প্রচার চলছে তাঁর খাসতালুকেই। ফলে, মদনবাবুর উপর রাজনৈতিক চাপ রীতিমত বাড়ছে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

এই অবস্থায়, কিছুদিন আগের বিস্ফোরক ফেসবুক লাইভে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তাঁর সামনে নাকি সব রাস্তায় খোলা আছে! আর এবার তৃণমূলের সবথেকে বড় বাৎসরিক কর্মসূচি ২১ শে জুলাইয়ের আগে, তিনি দলনেত্রীর ‘রামনাম’ অপছন্দ জেনেও, বিজেপির রামভজনার সুরে সুর মেলাতে চলেছেন! মদন মিত্রের মত পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদের, এটি খুব সহজ সমীকরণ – মেনে নিতে পারছেন না রাজনৈতিক মহল। ফলে, নিজের ভবানীপুরের বাসভবনে তৃণমূল নেতা মদন মিত্রের রামভজনা নিয়ে প্রবল অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। আর, তারপরের অধ্যায় ঠিক কিভাবে লেখা হয়, সেদিকেই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আপাতত সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!