এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > লক্ষ-লক্ষ টাকার এলপিজি কেলেঙ্কারিতে নাজেহাল বঙ্গের গেরুয়া শিবিরের নেতারা

লক্ষ-লক্ষ টাকার এলপিজি কেলেঙ্কারিতে নাজেহাল বঙ্গের গেরুয়া শিবিরের নেতারা

কেন্দ্রের রাশ বিজেপির হাতে থাকলেও রাজ্যে কিন্তু বিজেপি এখনো তৃণমূলের পেছেনেই আছে। লোকসভা ভোটে ক্ষমতার শীর্ষে থাকায় লক্ষ্যবিন্দু স্থির করলেও একের পর এক বিতর্কে জড়াচ্ছেন বিজেপি নেতারা। গত বছর মে মাসে মোদী সরকারের আবাস যোজনায় আর্থিক কারচুপি করার অভিযোগ উঠেছিলো বঙ্গের বিজেপি নেতৃত্বদের বিরুদ্ধে। এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গেলো। চলতি মাসেই লিকুইউ পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) কেলেঙ্কারিতে জড়ালো তাঁদের নাম। এ ঘটনা অস্বীকার করেননি রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষও। কিন্তু কীভাবে বঙ্গ বিজেপি আবার এই কেলেঙ্কারিতে যুক্ত হল? আসুন জেনে নেওয়া যাক্।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

সম্প্রতি মুর্শিদাবাদে বিজেপির এক মন্ডল সভাপতি সহ আরো আটজন কর্মী এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) এর চারজন সদস্য গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর হওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিলো। এরপর দলের মুখপাত্ররা তাঁদেরকে জানান যে এই বিষয় নিয়ে তাঁরা কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলবেন। আরো জানান যে জন প্রতি দুই থেকে তিন লাখ টাকা দিলে তবে পাওয়া যাবে ডিস্ট্রিবিউশনশিপ। এ কথা শুনে ওই বিজেপি কর্মীরা প্রশ্ন করেছিলো যে বিজেপির সমর্থক হয়েও কেন তাঁদের টাকা দিয়ে ডিস্ট্রিবিউশনশিপ কিনতে হবে? তখন নাকি তাঁদেরকে জবাবে জানানো হয়, গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউশনশিপ পেতে গেলে ১৭/১৮ লক্ষ টাকা ঘুষ দেওয়াই নাকি নিয়ম। সেখানো তো তাঁদের অনেক কম টাকাতেই কাজ হয়ে যাচ্ছে। এ কথা বিশ্বাস করে আবেদনকারীরা ওই টাকা দেন কিন্তু পরে লটারিতে দেখা যায় যে তাঁদেরকে ডিস্ট্রিবিউশনশিপ দেওয়া হয়নি। তখন তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং রাজ্য নেতৃত্বদের কাছে অভিযোগ করেন।

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

জানা গেছে,মুর্শিদাবাদের জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর ঘোষ নাকি এই অর্থ দুর্নীতি কান্ডে জড়িত। এই টাকা দেওয়া নেওয়া কান্ড নাকি গত নভেম্বর মাসেই গোপনে এক গাড়িতে মেটানো হয়। এখন নাকি এই কেলেঙ্কারির কথা প্রকাশ্যে আসায় তিনি বলেছেন ওই লেনদেনের টাকা তিনি আবেদনকারীদের কাছে কোলকাতায় পৌছে দেবেন। এছাড়া আবেদনকারীরা যাতে স্বচ্ছভাবে এবং কোনো রকম সমস্যায় না পড়ে গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউশনশিপ পান সেজন্য তিনি বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্বের সঙ্গে কথাও বলবেন। ইতিমধ্যেই রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং আরএসএস এর দক্ষিণবঙ্গের প্রান্ত প্রচারক বিদ্যুৎ মুখোপাধ্যায় আবেদনপত্রে সই করে সুপারিশও করে দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, জানা যাচ্ছে যে গত বছর মে মাসের কেন্দ্রীয় আবাস যোজনাকে কেন্দ্র করে বসিরহাটে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে আর্থিক কারচুপির যে অভিযোগ উঠেছিলো তা নিয়ে তদন্ত করছে গোয়েন্দা বিভাগ। গৌরীশঙ্করবাবুকে এলপিজি কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন যে দলের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতেই নাকি মিথ্যে কথা রটাচ্ছে।

এ ব্যাপারে সবর হয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। স্পষ্ট কথায় তিনি জানিয়েছেন যে, মুর্শিদাবাদ থেকে নাকি কয়েকজন তাঁর কাছে এসেছিলেন অভিযোগ নিয়ে। তিনি সবটাই শুনেছেন। তবে তিনি দোষ দিয়েছেন অভিযোগকারীদেরই কারণ তাঁরা আগ বাড়িয়ে টাকা দিয়েছেন যেটা তাঁদের একদম করা উচিৎ ছিল না। কারণ টাকা দিলেও বিজেপি পার্টি এসব দুর্নীতিমূলক কাজ করবে না। এরপর তাকে প্রশ্ন করা হয় আর্থিক কারচুপির জন্য দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে কিনা। জবাবে তিনি জানান যে, তদন্তে অভিযুক্তদের দোষ প্রমাণ হলে নিশ্চয়ই হবে। ওই আবেদনকারীদের গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউশনশিপ পাওয়া নিশ্চিত করতে তিনি সুপারিশ করেছিলেন বলেও এক জেলা নেতা কর্মীদের কাছে দাবী করেছেন। এ দাবী অস্বীকার করে দিলীপবাবু জানান যে তাঁর হস্তাক্ষর করা কাগজ কেউ তাকে দেখাতে পারলে তবেই তিনি একথা বিশ্বাস করবেন। আর গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউশনশিপ বিষয়ক অভিযোগকে  বিদ্যুৎবাবু “ভুয়ো” বলে দাবি করেন।

Top
error: Content is protected !!