এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়া নিয়ে দুই হেভিওয়েটের লড়াই এবার প্রকাশ্যেই, তীব্র অস্বস্তিতে শাসকদল

লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়া নিয়ে দুই হেভিওয়েটের লড়াই এবার প্রকাশ্যেই, তীব্র অস্বস্তিতে শাসকদল

বিগত 2016 র বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সিংহভাগ বিধানসভা আসন হারাতে হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে। আর এই ঘটনায় অনেকটাই অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে তৃণমূলকে। এমনকি বিভিন্ন সময়ে এই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এসে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে রোধ করে সেখানে যাতে দলকে সঠিক পথে পরিচালনা করা যায় তার জন্য বিভিন্ন বার্তাও দিয়েছেন তৃনমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

তৃনমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি থেকে শুরু করে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের অতিরিক্ত পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পাওয়া রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব – প্রায় প্রত্যেকেই দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বন্ধ করতে জেলা নেতৃত্বদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের আগে এবার সেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ফের শাসকদলের দুই হেভিওয়েট নেতা নেত্রীর কোন্দল প্রকাশ্যে আসাকে ঘিরে তীব্র অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছে শাসক দলের অন্দরে। যার একদিকে বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বর্তমান তৃণমূল সাংসদ অর্পিতা ঘোষ আর অন্যদিকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিপ্লব মিত্র।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হবে তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একটি চাপানউতোর চলছিল। জেলার অভিভাবক বিপ্লব মিত্রকে বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করানোর দাবি জানিয়ে বিভিন্ন সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে দেখা যায় সেই বিপ্লব বাবুর অনুগামীদের।

পাল্টা বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বর্তমান তৃণমূল সাংসদ অর্পিতা ঘোষের অনুগামীদের পক্ষ থেকেও সোশ্যাল সাইটে সেই অর্পিতাদেবীকেই প্রার্থী করানোর দাবি জানিয়ে গত সাড়ে চার বছর ধরে জেলার উন্নয়নে অর্পিতা দেবীর অবদান তুলে ধরা হয়। তবে তৃণমূলের এই দুই নেতা-নেত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের অনুগামীদের তরফে এহেন পোস্ট করা হলেও দলের তরফে যে প্রার্থী হবে তাকেই জেতাতে হবে বলে এতদিন বলে আসলেও এবার একে অপরের বিরুদ্ধে দুইজনকেই মুখ খুলতে দেখা গেল।

সূত্রের খবর, এদিন বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ তথা নাট্যকার অর্পিতা এক অভিযোগ করে বলেন, “আমাকে প্রার্থী করা হলে বিপ্লববাবু নাকি জেতাতে পারবেন না এমনটাই তিনি শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন বলে আমার কাছে খবর এসেছে। বিপ্লববাবু আমার নামে কি রটাচ্ছে বা আমাকে তিনি জেতাতে পারবেন কি পারবেন না তা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। আমার ওপর জনগণ, তৃণমূল কর্মী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ রয়েছে। তাই আমি প্রার্থী হলে মমতাদির আশীর্বাদ এবং কর্মীদের সমর্থনেই জিতব।”

অন্যদিকে অর্পিতা ঘোষের এহেন অভিযোগকে খন্ডন করে পাল্টা মুখ খুলেছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের সভাপতি বিপ্লব মিত্র। এদিন তিনি বলেন, “আগের বার ভোটে অর্পিতা দেবীকে বিপুল মার্জিনে জিতিয়েছি। তাই তিনি যে অভিযোগ করছেন তা একেবারেই ভিত্তিহীন। এবারও যদি উনি প্রার্থী হন তাহলে ওনাকে জয়যুক্ত করে মুখ্যমন্ত্রীকে এই কেন্দ্র উপহার দেব। মানুষ আমাকে প্রার্থী হিসেবে চাইতে পারেন, তবে নেত্রী যাঁকে প্রার্থী করবেন তাঁকেই চূড়ান্ত ভোটে জয়লাভ করানো হবে। তবে কে প্রার্থী হবেন সেই সিদ্ধান্ত একমাত্র নেত্রীই নেবেন।”

হোয়াটস্যাপের কিছু টেকনিক্যাল অসুবিধার জন্য আমরা ধীরে ধীরে হোয়াটস্যাপ সাপোর্ট বন্ধ করে দিয়ে, পরবর্তীকালে শুধুমাত্র Telegram অ্যাপেই নিউজের লিঙ্ক শেয়ার করব

তাই আপনাদের কাছে একান্ত অনুরোধ – প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর নিয়মিত ভাবে পেতে হলে Telegram অ্যাপটি ইনস্টল করুনআমাদের Telegram গ্রূপে যোগ দিন। যাঁরা Telegram-এ নতুন, ভয় পাবেন না – এটি হোয়াটস্যাপের মতোই সমস্ত ফিচার যুক্ত এবং আরো আরো সহজে ব্যবহার করা যায়।

যোগ দিন আমাদের Telegram Group – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
আর এখনও যাঁরা আমাদের WhatsApp Group-এ যোগ দিতে চান, তাঁরা ক্লিক করুন এই লিঙ্কে (কিন্তু, মনে রাখবেন এই হোয়াটস্যাপ সাপোর্ট আমরা হয়ত খুব বেশিদিন আর চালু রাখব না)

তবে নিজেদের মধ্যে এত দ্বন্দের মাঝেও বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বর্তমান সাংসদ অর্পিতা দেবী ইতিমধ্যেই বালুরঘাটে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদাকে নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি নানা বৈঠক করতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে নির্বাচনী প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কর্মী সভা শুরু করেছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিপ্লব মিত্রও।

ফলে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্র আসনটিতে তৃণমূলের তরফে ঠিক কে প্রার্থী হন এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে। আর যদি বিপ্লব মিত্র এবং অর্পিতা ঘোষের মধ্যে কোনো একজন প্রার্থী হন এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যদি এই দুইজনের মধ্যে কোনো একজন ক্ষুন্ন হন তাহলে অতীতের বিধানসভা নির্বাচনের মতোই বালুরঘাট লোকসভা আসনটি নিয়ে প্রবল শঙ্কায় দিন গুনতে হবে তৃণমূলকে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Top
Close
error: Content is protected !!