এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > লোকসভার আগে জল্পনা বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর শিলান্যাস করা প্রকল্পের তালিকা ও তার রিপোর্ট তলব

লোকসভার আগে জল্পনা বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর শিলান্যাস করা প্রকল্পের তালিকা ও তার রিপোর্ট তলব

সম্প্রতি লোকসভা ভোটকে টার্গেট করেই জেলাস্তরে একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা এবং বেশি কিছু প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সব প্রকল্পের কাজ কতদূর এগোলো তা খতিয়ে দেখতেই তৎপরতা দেখাল প্রশাসন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিটি জেলা শাসকের কাছে ওইসব সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডি তথা ডেপুটি সেক্রেটারি বিনায়ক ঘোষচৌধুরী।

আলাদা আলাদা করে সাতটি পয়েন্টের উপর রিপোর্ট পাঠাতে বলেছেন তিনি। চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর শেষ সফর পর্যন্ত তাঁর ঘোষণা করা এবং শিলান্যাস করা প্রকল্প সম্পর্কে রিপোর্ট দিতে হবে৷ এখনো পর্যন্ত যেসব প্রকল্পের কাজ ৭৫% পর্যন্ত হয়েছে তা নিয়ে আলাদা করে রিপোর্ট দিতে হবে।

এর পাশাপাশি ৫০% কাজ হওয়া প্রকল্প,২৫% কাজ হওয়া প্রকল্প এবং এখনো কাজ শুরু হয়নি এসব প্রকল্পের উল্লেখও করতে হবে রিপোর্টে। বিষয়টির গুরুত্ব বোঝাতে ‘মোস্ট আর্জেন্ট’-এর তকমাও লাগানো হয়েছে। এ বিষয়ে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন,”মুখ্যমন্ত্রী যেসব প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন এবং শিলান্যাস করেছেন, সেইসব প্রকল্প নিয়ে একটা রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। আমরা সেই রিপোর্ট দ্রুত পাঠিয়ে দেব।”

নবান্ন থেকে জেলা জেলায় এই চিঠি আসার পর অবিলম্বেই প্রতিটি দপ্তরেই সেই চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছেন জেলা পরিকল্পনা অফিসার। এবং যত জলদি সম্ভব প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী রিপোর্ট জমা দেওয়ার নিদানও দিয়েছেন তিনি। জেলায় জেলায় বিভিন্ন বড় প্রকল্পের ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাস্তরে কোটি কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাসও করেছেন মন্ত্রী। যেমন,মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, কর্মতীর্থ, পথেরসাথী সহ নানা প্রকল্প রয়েছে।

এইসব প্রকল্পের কাজের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে জানতেই রিপোর্ট তলব করেছে রাজ্য সরকার। এই রিপোর্ট সংগ্রহ করার পর ওইসব প্রকল্পের কাজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানা যাবে৷ তাছাড়া এর মাধ্যমে কাজে গতিও আসবে। তাছাড়া লোকসভা ভোটের প্রচারে ওইসব প্রকল্পের কাজের খতিয়ানও তুলে ধরতে পারবেন নেত্রী। এমনটাই মনে করছে তৃণমূল শিবির।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

দলীয় সূত্রের খবর,এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জেলায় জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর শিলান্যাস এবং ঘোষণা করা সব প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। আলাদা আলাদা করে ক্যাটাগরির ভিত্তিতে সেই সব প্রকল্পের রিপোর্ট পাঠানো হবে নবান্নে৷ তাছাড়া যেসব প্রকল্পের কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে,যেগুলির অর্ধেক কাজ হয়েছে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট তৈরি করা নিয়ে চূড়ান্ত ব্যস্ততা রয়েছে জেলাস্তরের তৃণমূল কর্তাদের মধ্যে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে,মার্চের প্রথম সপ্তাহেই লোকসভা ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কাজেই লোকসভা ভোট এসেই গিয়েছে বলা যায়। তাই এই মুহূর্তে দলীয় প্রচারে কোনোরকম খামতি রাখতে চান না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা ভোটে ৪২-এ ৪২ দখলের লক্ষ্যমাত্রার কথা ফের একবার চলতি সপ্তাহের কোর কমিটির বৈঠকে জানিয়েছেন মমতা।

তাই একদিকে যেমন খাদ্যসাথী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, উৎকর্ষ বাংলা, গতিধারা, যুবশ্রী এবং সবুজসাথীর মতো প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ উপভোক্তার বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানোর কাজ করছে রাজ্যসরকার তেমনি মুখ্যমন্ত্রী ঘোষিত এবং শিলান্যাস করা প্রকল্পের কাজ কতদূর এগোলো তা জানতেও তৎপরতা দেখাল নবান্ন। রাজ্যসরকারের এই প্রকল্পকে ব্যবহার করেই লোকসভা ভোটের মুখে রাজ্যবাসীর মনে জায়গা করে নিতে চাইছে তৃণমূল,তা বলাবাহুল্য।

উল্লেখ্য,গত ৩০নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী পূর্ব বর্ধমানের কালনায় সরকারি সভায় ১০০০কোটি টাকা ব্যয়ে ভাগীরথী নদীর উপর কালনা-শান্তিপুর সংযোগকারী ব্রিজ তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। গডকালই ওই প্রকল্পে জমি নেওয়ার জন্যে সম্মতিপত্র জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

নেত্রী এই ঘোষণার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের মানুষের স্বার্থে ডানকুনি থেকে পানাগড় পর্যন্ত ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর, ডানকুনি থেকে পানাগড় হয়ে বাঁকুড়া পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর, ৩২০০কোটি টাকা ব্যয়ে মেচগ্রাম থেকে মোড়গ্রাম পর্যন্ত বিকল্প রাস্তা, ২৭৬৮কোটি টাকা ব্যয়ে লোয়ার দামোদর বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেছিলেন। এছাড়া বিশ্বব্যাঙ্কের আর্থিক সহযোগিতায় লোয়ার দামোদর বন্যা প্রতিরোধ স্কিমে দ্রুতই টেন্ডার ডাকা হবে বলেও জানা গিয়েছে সেচ ও জলপথ দপ্তর সূত্রে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!