এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > লোকসভায় কংগ্রেস-বামফ্রন্ট জোট হলে কি বড়সড় ‘বিদ্রোহ’ রাজ্য-রাজনীতিতে? বাড়ছে জল্পনা

লোকসভায় কংগ্রেস-বামফ্রন্ট জোট হলে কি বড়সড় ‘বিদ্রোহ’ রাজ্য-রাজনীতিতে? বাড়ছে জল্পনা


লোকসভা ভোটে তৃণমূল-বিজেপি রুখতে কংগ্রেসের সঙ্গে গাঁটছড়া বাধতে মরিয়া সিপিএমের বঙ্গ বিগ্রেড। তবে এ সিদ্ধান্তে বেঁকে বসেছে বামফ্রন্টের দুই শরিক দল আরএসপি এবং ফরওয়ার্ড ব্লক। নিজেদের প্রবল কংগ্রেস বিরোধী মনোভাব স্পষ্ট করেছে সংশ্লিষ্ট দলের নীচু তলার কর্মী সমর্থকরা। পরের মাসেই এই দুই শরিক দলের রাজ্য সম্মেলন হওয়ার কথা। এই সম্মেলনেই কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতায় আসার ব্যাপারে নিজেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেবে আরএসপি এবং ফরওয়ার্ড ব্লক। তবে তাঁরা যে কংগ্রেস বিরোধী মনোভাবে অটল থাকবেন এমনটাই আঁচ পাওয়া যাচ্ছে দলীয় সূত্রের খবরে।

তবে বামশাাসিত কেরলের ছবি কিন্তু অন্য। সেখানে এই দুই দলের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফের সঙ্গে জোট রয়েছে। দক্ষিণের এই রাজ্যটিকে বামফ্রন্টের সঙ্গে দীর্ঘদিন তাঁদের সম্পর্ক অনুকূল না থাকায় বাম জোট ছেড়ে কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকে পড়েছে শরিকদল দুটি। এই পরিস্থিতির জন্য সিপিএমের ‘দাদাগিরি’ মনোভাবকেই দায়ী করা হয়েছে। তবে বামেদের মাদার গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার বিরোধীদের হাত ধরায় দফায় দফায়ন কেরলে বামেদের শরিকদলকে দফায় দফায় প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এ নিয়ে ফরওয়ার্ড ব্লকেও শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলেছে প্রবল। আরএসপি চেষ্টা করেও এই দ্বন্দ্ব মেটাতে পারেনি। অবসান ঘটেনি তাঁদের দ্বিমুখী অবস্থানের।

এ নিয়ে এখনো চর্চা তুঙ্গে রয়েছে বাংলার বামেদের শরিকদলগুলোর মধ্যে। কংগ্রেসে সঙ্গে জোট বাধার৷ বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তাঁরা। এই ধরনের ‘তড়িঘড়ি ভোটকেন্দ্রিক সুবিধাবাদী জোট’ দলের পক্ষে লাভজনক হবে না বলেই যুক্তিতে জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি তুলে ধরেছেন রাজনৈতিক নীতি এবং মতাদর্শগত ফারাককেও প্রসঙ্গটিও। ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হাফিজ আলম সাইরানি এব্যাপারে জানান, নিজেদের জোট বিরোধী অবস্থান রাজ্য কমিটির বৈঠকে আগেই জানানো হয়েছিল। তবে জেলা জেলা সম্মেলনগুলিতেও প্রায় একতরফাভাবে একই লাইনে বক্তব্য রাখছেন নেতা-কর্মীরা। তাই লোকসভা ভোটে জোট গড়ার বিরোধিতা করেই রাজ্য সম্মেলনে প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল বলেই তাঁর ধারনা। তবে কেরলের বাম শরিক দল কংগ্রেসের সঙ্গে হাতধরার যুক্তিকে একদমই আমল দিতে চাইলেন না তিনি। পাল্টা প্রশ্ন তুললেন,সিপিএম যদি বিজেপি’কে হটাতে কংগ্রেসের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার পথ খোলা রাখার ব্যাপারে তাদের সর্বভারতীয় সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তাহলে আসন্ন পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে তারা কংগ্রেসের সঙ্গে কেন জোট করে লড়ছে না? মূলত,রাজ্যওয়াড়ি রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিচার করেই দাবার ঘুঁটি সাজায় দলগুলো। তবে,বামফ্রন্টের আদর্শ মেনেই লোকসভা ভোটে লড়াই করার পক্ষপাতী বামেদের শরিকদল দুটি। তাতেই বামেদের স্বার্থরক্ষা বেশি হবে বলেই মনে করছেন সাইরানি।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কেরলের বাম শরিক দল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধার প্রসঙ্গে একই সুর টেনে আরএসপি’র শীর্ষস্থানীয় নেতা মনোজ ভট্টাচার্য নিজের অস্বস্তির কথাই ব্যক্ত করলেন। বাংলায় বাম শরিক দলের কংগ্রেস বিরোধী মনোভাবকে সমর্থক করে তিনি জানালেন,”বিজেপি-তৃণমূলের সুবিধা হোক, এমন কোনও হটকারী অবস্থান নেওয়ার পক্ষেও নই আমরা।” উল্লেখ্য,বামফ্রন্টের সংগঠন এমনিতেই ক্ষয়িষ্ণু বর্তমানে। তার উপর শরিক দলের সঙ্গে অন্তর্দ্বন্দ্ব লোকসভা ভোটের আগে আরো বেশি দূর্বল করছে বামেদের। এতো দলগত ত্রুটি নিয়ে তৃণমূল,বিজেপির মতো শক্তিশালী দলকে টেক্কা দেওয়া তো দূরের কথা,ভোটের ময়দানে সোজা হয়ে দাঁড়াতে গেলেও যথেষ্ট বেগ পেতে হবে বামফ্রন্টকে,এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!