এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > লোকসভা ভোটের আগে জল্পনা বাড়িয়ে রাজ্যের উদ্বাস্তুদের জন্য দরাজহস্ত হলেন মুখ্যমন্ত্রী

লোকসভা ভোটের আগে জল্পনা বাড়িয়ে রাজ্যের উদ্বাস্তুদের জন্য দরাজহস্ত হলেন মুখ্যমন্ত্রী

জেলায় জেলায় প্রশাসনিক বৈঠকে গিয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় আশার আলো দেখেন অনেকেই। এবারে নদীয়া জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে গিয়ে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা উদ্বাস্তু কলোনি সেখানকার বাসিন্দাদের উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সূত্রের খবর, গত কাল রানাঘাটের ছাতিমতলায় নদীয়া জেলার প্রশাসনিক বৈঠকের মঞ্চ থেকে রাজ্যের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের প্রধান সচিব মনোজ পন্থের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর জিজ্ঞাসা, “সরকারি জমিতে কতগুলো উদ্বাস্তু কলোনি আছে? তার কোনো সমীক্ষা কি হয়েছে?”

আর প্রশাসনিক প্রধানের এহেন প্রশ্নের উত্তরে সেই ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের প্রধান সচিব বলেন, “আজকের মধ্যেই সব জেলাকে এই ব্যাপারে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।” আর এরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ, সরকারি জমিতে যতগুলো উদ্বাস্তু কলোনি আছে তা রেগুলারাইজড করে সেখানে যাতে মানুষ নিজেদের অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারে তার ব্যবস্থা করুন। আর মুখ্যমন্ত্রীর এহেন ঘোষণায় খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বাস্তুদের মধ্যে। তবে শুধু ঘোষণাই নয়, এই ব্যাপারে কেন্দ্রকে চিঠি দেওয়ার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব মলয় দেকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

 

একাংশের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগেই ভূমিহীন মানুষদের জমির অধিকারকে নিশ্চিত করে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের শাসকদল অনেকটাই চাপে পড়ল। প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব আইন এনে যেভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে বাঙ্গালীদের বিতাড়িত করার অভিযোগ উঠেছে এবং সেই ঘটনায় যখন উত্তপ্ত গোটা দেশ, ঠিক তখনই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্বাস্তুদের জন্য ঘোষণা তৃণমূলকে লোকসভা ভোটের আগে অনেকটাই অ্যাডভান্টেজ দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এদিন এই প্রসঙ্গে অল ইন্ডিয়া নমশূদ্র অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষকর্তা মুকুল চন্দ্র বৈরাগী বলেন, “নাগরিকত্ব বিলের নামে যখন উদ্বাস্তুদের ভিটেমাটি আর নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণা আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করল। আমরা ওনার কাছে কৃতজ্ঞ।”

তবে শুধু ভূমিহীন বা উদ্বাস্তুদের জমির মালিকানা দেওয়ার ঘোষণাই নয়, এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে 34 নম্বর জাতীয় সড়কের রাস্তার কাজ নিয়েও পূর্ত দপ্তরের কাছে একটি রিপোর্ট চান মুখ্যমন্ত্রী। আর মুখ্যমন্ত্রীর এহেন তলবের মুখে পরেই পূর্ত দপ্তরের প্রধান সচিব অর্ণব রায় বলেন, “জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এই কাজটা করতে পারছে না। এখন বলছে যে এটা রাজ্য সরকার করুক। এই মাসেই কাজটা হস্তান্তর করার কথা। তাই দীর্ঘদিন ধরেই আটকে রয়েছে এই কাজ।”

এদিকে পূর্ত দপ্তরের প্রধান সচিবের মুখ থেকে এহেন কথা শুনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি বলেন, রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। জাতীয় সড়কের এক কিলোমিটার অন্তর বোর্ড টাঙিয়ে লিখে দিন যে, দুঃখিত এই রাস্তাটা রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে নয়। এটা কেন্দ্রের রাস্তা।”

আর এই কাজ করার জন্য উত্তর 24 পরগনার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং নদীয়ার শংকর সিংকে দায়িত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে এবার নদীয়া জেলার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে লোকসভা ভোটের আগে উদ্বাস্তুদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় খুশির হাওয়া গোটা জেলা জুড়ে।

Top
error: Content is protected !!