এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > লোকসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়াতে সাম্ভাব্য বিজেপি প্রার্থী ও বর্তমান পরিস্থিতি

লোকসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়াতে সাম্ভাব্য বিজেপি প্রার্থী ও বর্তমান পরিস্থিতি

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিভিন্ন যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সবথেকে বেশি আগ্রহ, উদ্দীপনা ও কৌতূহল তৈরী হয়েছে বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে। এর অন্যতম প্রধান কারণ বোধহয়, এই প্রথম বাংলায় কোনো নির্বাচনে বিজেপি ‘ভালো ফল’ করার জন্য নয় – লড়তে নামছে ‘জেতার জন্য’। বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ যে হুঙ্কার দিয়ে গেছেন – যে আসন্ন নির্বাচনে বাংলা থেকে বিজেপি কমপক্ষে ২২-২৩ টি আসন জিততে চলেছে – তা বোধ হয় কোথাও গিয়ে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন।

আর তারই ফলশ্রুতি হিসাবে রাজ্যের ৪২ টি আসনের জন্য রাজ্য বিজেপিতে শয়ে শয়ে আবেদন পত্র জমা পড়েছে। আর সেই সব আবেদন পত্র থেকে ঝাড়াই বাছাই করে বিজেপির প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা তৈরী করতে গত মঙ্গলবার কলকাতার এক অভিজাত হোটেলে বৈঠকে বসেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা, আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির নির্বাচনী পর্যবেক্ষক মুকুল রায়, রাজ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয় ও রাজ্যে নির্বাচনী কমিটির ১৬ জন সদস্য। আর সেই বৈঠকের পর বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে গেরুয়া শিবিরের সমর্থকদের মধ্যে চলছে তীব্র কৌতূহল।

এর বড় কারণ, এই বৈঠকের পরে মুখে কুলুপ এঁটেছেন রাজ্য বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা। আর তাই সরকারিভাবে বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে কিছু জানার উপায় নেই। তবু, অগণিত পাঠকের কৌতূহল নিবৃত্তি করতে প্রিয় বন্ধু বাংলা বিভিন্ন সূত্র থেকে এই সংক্রান্ত খবরাখবর সামনে আনার চেষ্টা করে। আর, এখনো পর্যন্ত এই নিয়ে একমাত্র প্রিয় বন্ধু মিডিয়াই কিছু খবর সামনে আনতে পেরেছে। আজ সকালেই এক প্রতিবেদনে আমরা জানাই যে – সেদিনের বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত ১১ টি কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আর সেই তালিকায় আমরা জানাই যে পুরুলিয়া কেন্দ্র থেকে বিজেপির সাম্ভাব্য প্রার্থী বিজেপির অন্যতম রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু এবং ঝাড়গ্রাম কেন্দ্র থেকে বিজেপির সাম্ভাব্য প্রার্থী নরহরি মাহাতো।

আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই, আমরা বহু পাঠকের ফোন ও মেসেজ পেতে থাকি – যেখানে তাঁদের মূল বক্তব্য হল, ঝাড়গ্রাম আসনটি এসটিদের জন্য সংরক্ষিত – সেখানে নরহরিবাবু টিকিট পান কি করে? প্রথমেই জানিয়ে রাখি – যেহেতু, এই নিয়ে বিজেপির তরফে সরকারিভাবে কিছু জানানো হচ্ছে না – তাই আমরা এই সংক্রান্ত খবর বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্র মারফত বের করার চেষ্টা করি। আর এই ১১ জনের যে কেন্দ্র অনুসারে তালিকা আমরা প্রকাশ করি – তা আমরা গেরুয়া শিবিরের এমন একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে পাই, যেখান থেকে অতীত দিনে আমরা অনেক মূল্যবান ও সত্যতাপূর্ণ খবর পেয়েছিলাম। আর তাই – অনেকটা নিশ্চিত হয়েই এই তালিকা আমরা প্রকাশ করি।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

কিন্তু, পাঠকদের মনে এই নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় – আমরা পুরুলিয়ায় আমাদের স্থানীয় সাংবাদিককে এই নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিতে বলি। আর কিছুক্ষনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায় – আমাদের তথ্যে ভুল ছিল। এসটি সংরক্ষিত হওয়ায় সত্যিই নরহরিবাবুর পক্ষে ঝাড়গ্রাম আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব নয়। কেননা তিনি নিজে ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত। ফলে তিনি কোনো সংরক্ষিত আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। এই ভুলের জন্য আমাদের সকল পাঠকের কাছে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। খবর পরিবেশনের আগে – আমাদের আরও ভালো করে এই নিয়ে খোঁজ নেওয়া উচিত ছিল। সত্যিই – এক্ষেত্রে আমাদের বড় ভুল হয়ে গেছে এবং আগামীদিনে যেন তা আর না হয় তার জন্য আমরা সচেষ্ট হবে।

এরপরে, আমরা আরও তলিয়ে গেরুয়া শিবিরের ভিতর থেকে জানতে চেষ্টা করি কেন এইরকম একটি ‘বিভ্রান্তিমূলক’ তথ্য সামনে এল? কেননা বিজেপির সাম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে গত অক্টোবর মাসে আমরা যে সমীক্ষা করি – সেখানেও আমাদের কাছে ইঙ্গিত ছিল নরহরিবাবুই বিজেপির তরফে পুরুলিয়া আসনে প্রার্থী হতে পারেন। কিন্তু, বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে আমরা যা জানতে পারি, তা হল – নরহরিবাবু পুরুলিয়া লোকসভা আসন থেকে প্রাক্তন সাংসদ। তা ছাড়া মাস্টারমশায় হিসাবে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত। সব থেকে বড় কথা – তাঁর নামে এখনও পর্যন্ত কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই। তাই এরকম স্বচ্ছ ভাবমূর্তির জন্য দলের একটি বড় অংশ তাঁকেই পুরুলিয়ায় প্রার্থী হিসাবে চাইছেন।

অন্যদিকে, সায়ন্তনবাবু দলের অন্যতম যুবনেতা, বাগ্মী ও বুদ্ধিজীবী মুখ। বিগত বেশ কয়েক বছর দলের তরফে জেলা পর্যবেক্ষক হিসাবে তিনি মাটি কামড়ে পরে থেকেছেন পুরুলিয়ায়। আর তার ফলশ্রুতি হিসাবে বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে গোটা জেলা জুড়েই উড়েছে বিজেপির বিজয় কেতন – গেরুয়া ঝড়ের সামনে পড়ে ধরাশায়ী হয়েছেন শাসকদলের অনেক হেভিওয়েটই। আর তাই, এই কেন্দ্রে প্রার্থী হিসাবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও অনস্বীকার্য এবং দলের আরেকটি প্রভাবশালী অংশ সবমিলিয়ে তাই সায়ন্তনবাবুকেই পুরুলিয়ায় প্রার্থী হিসাবে চাইছে। এই আসনে যোগ্যতার বিচারে নরহরি মাহাতো ও সায়ন্তন বসুর মধ্যে কাউকেই বিজেপি শিবির একচুলও এগিয়ে বা পিছিয়ে রাখতে পারছে না।

এই পরিস্থিতিতে নাকি – একটা সমাধান সূত্রের মত ভাবা হয়েছিল যে সায়ন্তনবাবুকে পুরুলিয়ায় প্রার্থী করে নরহরিবাবুকে ঝাড়গ্রামে প্রার্থী করা হতে পারে। তাহলে শেষ পর্যন্ত কে পেতে চলেছেন পুরুলিয়ার টিকিট? এই কঠিন সিদ্ধান্তটি নেবেন অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং। তবে বিজেপি কর্মীদের ঘরোয়া আলোচনা থেকে যা জানা যাচ্ছে – তা হল, নরহরিবাবুকে পুরুলিয়া আসনেই টিকিট দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, সায়ন্তনবাবুকে কলকাতার সন্নিকটস্থ কোনো আসন থেকে টিকিট দেওয়া হতে পারে। আর সেক্ষেত্রে নাকি তাঁর জন্য উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত বা বসিরহাট আসন দুটির মধ্যে কোনো একটির কথা ভাবা হচ্ছে। কেননা গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলের হিসাবে – এই দুটি লোকসভা আসনে ৭ টি বিধানসভার মধ্যে ৫ টিতেই ভালো ফল করবে বিজেপি, বাকি দুটি বিধানসভাতে যদি সংখ্যালঘু ভোটে কিছুটা থাবা বসানো যায় তাহলেই জেতার মত জায়গায় থাকবে বিজেপি। সবমিলিয়ে বিজেপির সাম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে এখন টানটান উত্তেজনা গেরুয়া শিবিরের অভ্যন্তরে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!